Humayun Kabir Party: ভোটের আগে আরও অস্বস্তিতে হুমায়ুন, এবার AJUP ছাড়লেন রাজ্য সভাপতি
West Bengal assembly election 2026: হুমায়ুনের দলের পদত্যাগী রাজ্য সভাপতি আরও বলেন, "যে দলটা ৩-৪ মাস আগে তৈরি হল, সেই দল কী করে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে? হেলিকপ্টার পাচ্ছে? এই টাকার উৎস আমি সভাপতি হিসেবেই জানতে পারিনি। হুমায়ুন কবীর তাঁর ছেলের কাছ থেকে টাকা নিতে বলতেন। সেই অর্থের উৎস খুঁজতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু, বিষয়টি অনেক গভীর। সেখান পর্যন্ত পৌঁছতে পারিনি।"

কলকাতা: প্রথম দফার ভোটের সপ্তাহ দুয়েক আগে একটি ভিডিয়ো ঘিরে অস্বস্তি বেড়েই চলেছে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের। গতকাল তৃণমূল ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আনার পরই হুমায়ুনের দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিম। আর শুক্রবার পদত্যাগ করলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র রাজ্য সভাপতি খোবায়েব আমিন। একইসঙ্গে হুমায়ুন তাঁর দলের জন্য কোটি কোটি টাকা কোথা থেকে পাচ্ছেন, সেই প্রশ্নও তুললেন।
এদিন কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকে করে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন খোবায়েব আমিন। তিনি বলেন, “আমি প্রদেশ কংগ্রেসের এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ছিলাম। গত ৩১ জানুয়ারি হুমায়ুনের দলে যোগ দিই। আমাকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। হুমায়ুন কবীরের হাত ধরেই তাঁর দলে যোগদান করি। বর্তমান পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবীরকে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।”
তৃণমূল যে ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এনেছে, হুমায়ুনের দাবি, AI দিয়ে তৈরি করা। এই নিয়ে খোবায়েব আমিন বলেন, “যে ভিডিয়ো দেখা গিয়েছে, তাকে AI বলা হচ্ছে। তা নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, আমরা দেখেছি, একটা দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ভোটে লড়ছে আমজনতা উন্নয়ন পার্টি। হুমায়ুনের ফোনে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার ফোন আসে। প্রশ্ন করলে উনি বলেন, বিধানসভায় যাই। সৌজন্যমূলক ফোন আসে।”
খোবায়েব আমিন আরও অভিযোগ করেন, “রাজস্থানের আজমের শরিফে গিয়েছিলাম আমরা। একটি হোটেলে উঠেছিলাম। বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিলেন। কীভাবে করেছিলেন, তার উত্তর পাইনি। ওইসময় তাঁর সঙ্গে অনেকে দেখা করতে এসেছিলেন।” তাঁর আরও অভিযোগ, “প্রার্থীদের এক কোটি টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছেন। বলেছেন, জেতার থেকেও ভোট কাটতে হবে।” ভোটের আগে মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরির উদ্যোগ কেন, তা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন।
হুমায়ুনের দলের পদত্যাগী রাজ্য সভাপতি আরও বলেন, “যে দলটা ৩-৪ মাস আগে তৈরি হল, সেই দল কী করে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে? হেলিকপ্টার পাচ্ছে? এই টাকার উৎস আমি সভাপতি হিসেবেই জানতে পারিনি। হুমায়ুন কবীর তাঁর ছেলের কাছ থেকে টাকা নিতে বলতেন। সেই অর্থের উৎস খুঁজতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু, বিষয়টি অনেক গভীর। সেখান পর্যন্ত পৌঁছতে পারিনি। বাংলার মানুষ প্রশ্ন করুন, এত অর্থ কোথা থেকে এল? হেলিকপ্টার কোথা থেকে এল?” আর রাজনীতি করবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, “রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছি। একজন পীরজাদা হিসেবে থাকব।”
