Minority Vote: সংখ্যালঘু ভোটেই পাখির চোখ সব পক্ষের, খেলা ঘোরাতে পারে কোন অঙ্ক?
Minority Vote: রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজ্যের প্রায় ২৭ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটের কিছু অংশ যদি শাসক শিবির থেকে সরে যায় তাহলেই বেশ কয়েকটা আসনের ছবি বদলে যেতে পারে। প্রচলিত ধারনা বলে এ রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটাররা খুব একটা বিজেপির দিকে ঝোঁকেন না। এবার সেই ধারনা বদলাতে মরিয়া পদ্ম শিবির।

কলকাতা: সাগরদিঘি উপনির্বাচনের ফলের পর থেকে সব পক্ষ সংখ্যালঘু ভোটের হিসাব নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছিল। রাজ্য়ের প্রধান বিরোধী দল বিজেপিও ময়দানে নামে। সংখ্যালঘু ভোটের অঙ্কে জমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে বাম-কংগ্রেস। সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেছিলেন বাংলার মুসলমানরা তাঁর তাবেদার। আক্রমণ শানিয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকীও। বলেছিলেন, সংখ্যালঘুদের তিনি ভোটব্যাঙ্ক হিসাবেই দেখতে চাইছেন। বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেছিলেন, শুভ লক্ষণ যে সংখ্যালঘু ভোট বা মুসলিম ভোট তৃণমূল থেকে সরছে। এই হিসাব-নিকেশের এই খেলা চলতে চলতে রাজ্যে কড়া নাড়ল লোকসভা ভোট। সাগরদিঘি উপনির্বাচনের পর রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট হয়েছে। কিন্তু তাতে ভোট লুঠ, সন্ত্রাস, ছাপ্পার যে ছবি সামনে আসে তাতে আর যায় হোক পরিসংখ্যানগত আলোচনা সম্ভব নয়। মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের। তাই মডেল হয়েই রয়ে গিয়েছে সাগরদিঘি। তৃণমূলে চলে গিয়েছেন বায়রন বিশ্বাস।
বামেদের সমর্থনে কংগ্রেসের সাগরদিঘি জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারীর মুখে ছিল সাগরদিঘি মডেলের কথা। নন্দীগ্রামে পঞ্চায়েত ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, বাকি সংখ্যালঘু এলাকাতে আমরা জিতব কি না জানি না। কিন্তু, সাগরদিঘির মতো তৃণমূল জিতবে না বলে দিলাম।
ভোটের প্রচারের শুরুতে বঙ্গে এসে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে ধাক্কা দেওয়ার কথা উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথাতেও। বলেন, তৃণমূলের অহংকার আছে মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক নিয়ে। এবার ওদের ওই অহংকার ভাঙবে। এবার মুসলিম বোন-মেয়েরা তৃণমূলের গুন্ডারাজকে উপরে ফেলতে এগিয়ে আসবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজ্যের প্রায় ২৭ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটের কিছু অংশ যদি শাসক শিবির থেকে সরে যায় তাহলেই বেশ কয়েকটা আসনের ছবি বদলে যেতে পারে। প্রচলিত ধারনা বলে এ রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটাররা খুব একটা বিজেপির দিকে ঝোঁকেন না। এবার সেই ধারনা বদলাতে মরিয়া পদ্ম শিবির। বিরাট কোনও বদল নয়, তাঁদের উদ্দেশ্যে সংখ্যালঘু ভোটারদের মন জয় করা। আর সেটা করতে তাঁরা সামনে আনছে ভোট ব্যাঙ্ক তত্ত্বকে। সুকান্ত মজুমদার বলছেন, সংখ্যালঘুদের ভোটবাক্স হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এটা বাংলায় সত্য। যা সো কলড সেক্যুলার বলে নিজেদের সেই দলগুলি সংখ্যালঘুদের মানুষ বলে না। তাঁরা ওদের ভোট ব্যাঙ্ক হিসাবে ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু, সংখ্যালঘুদের উচিত ভোটব্যাঙ্কের পলিটিক্স থেকে বাইরে আসা। কাজ দেখে ভোট দেওয়া উচিত।
এই ভোটব্যাঙ্ক তত্ত্বকে সামনে রেখে মুর্শিদাবাদে সিপিএম প্রার্থী তথা সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে তোপ দেগেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, সেলিম মুর্শিদাবাদে কেন দাঁড়াবে? তাঁর বাড়ি তো উত্তর কলকাতা। সে যদি সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ নিতে যায় তাহলে ডায়মন্ড-হারবারে লড়ল না কেন? দক্ষিণ কলকাতায় লড়ল না কেন? মুর্শিদাবাদে কেন যেতে হল? ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু থাকেন বলে? রাজনৈতিক মঞ্চে সাপে-নেউলে সম্পর্ক হলেও শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন কুণাল ঘোষ। বলেন, আমি শুভেন্দুর সব বিষয়ে বিরোধিতা করি। কিন্তু, সেলিম নিয়ে যা বলেছেন তা ১০০ শতাংশ সঠিক।
