taslima Nasrin: ‘এই বাংলা আপনার’, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কথায় বিহ্বল তসলিমা
Taslima Nasrin Praises Suvendu Adhikari: বাংলাদেশ কিংবা পশ্চিমবঙ্গের কোনও রাজনীতিক তাঁকে এভাবে একথা কখনও বলেননি জানিয়ে তসলিমা নাসরিন লেখেন, 'আজ পর্যন্ত দুই বাংলার কোনও রাজনীতিক, কোনও সরকার আমাকে এভাবে বলেননি, “এই বাংলা আপনার।” এমন সহজ ভাষায় আমাকে এত বড় আশ্বাস দেননি।'

কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর বদলেছে পরিস্থিতি। যে কলকাতা থেকে তাঁকে চলে যেতে হয়েছিল, সেই তিলোত্তমা তাঁকে দু’হাত বাড়িয়ে এখন স্বাগত জানাচ্ছে। আর কলকাতায় ফের আসতে পেরে তিনি যে যারপরনাই আনন্দিত, সেকথা ব্যক্ত করেছেন। এবার ইডেন গার্ডেন্সে মহালয়ার অনুষ্ঠানে যেভাবে তাঁকে স্বাগত জানানো হল, তাতে আপ্লুত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন। ইডেন গার্ডেন্সে মহালয়ার অনুষ্ঠানে তাঁর অভিজ্ঞতা লিখে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট লিখলেন। একাধিক ছবিও পোস্ট করলেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন তসলিমা?
ফেসবুকে তসলিমা লিখেছেন, ‘পুজোয় কলকাতায় থাকতে পারব না। সেই মনখারাপ থেকেই পণ করেছিলাম, এত মহাসমারোহে মহালয়ার অনুষ্ঠান হচ্ছে, তা-ও আবার ইডেন গার্ডেন্সে—এটি আমাকে দেখতেই হবে। বন্ধু বান্ধবের জন্য টিকিট জোগাড় করেছি। ভেবেছিলাম, সবাইকে নিয়ে হৈচৈ করে অনুষ্ঠান দেখব। বাংলার উৎসবের আনন্দ যতটুকু পারি উপভোগ করব। এর মধ্যেই খবর এল, মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন আমি যেন তাঁর কাছে বসি।’
একের পর এক মন্ত্রী ও বিধায়কদের সঙ্গে তাঁর কথা হল। এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর আন্তরিকতার উল্লেখ করে তসলিমা লেখেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী এলেন। তাঁকে ঘিরে ভিড় জমল। সবাই এগিয়ে গিয়ে দেখা করছেন, নমস্কার জানাচ্ছেন। আমি বসে ভাবছি, কী করব! এমনিতেই কত মানুষ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন, আমিও গিয়ে ভিড় বাড়াব কেন! তাঁকে বিরক্ত করা ঠিক হবে না ভেবে নিজের চেয়ারেই বসে রইলাম। অথচ সেদিন যাঁদের সঙ্গে দেখা হল, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আন্তরিকতা পেলাম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছ থেকেই।’
‘বার বার আসুন’-
বাংলায় বার বার আসতে চান তিনি। এই ইচ্ছা বাংলাদেশি লেখিকার। ইডেন গার্ডেন্সে মুখ্যমন্ত্রীও সেদিন তাঁকে বলেন, ‘বাংলায় বার বার আসুন।’ সেদিনের সেই কথার উল্লেখ করে তসলিমা লেখেন, ‘ড্রোন শো দেখার জন্য আমরা যখন মাঠে নামছিলাম, তিনি আমার খোঁজ নিলেন। জানতে চাইলেন, আমি ঠিক আছি কি না, সবকিছু ভালো লাগছে কি না। চারদিকে এত আওয়াজ যে তাঁর সব কথা স্পষ্ট শুনতেও পাচ্ছিলাম না। কিন্তু সেই কোলাহলের মধ্যেও তাঁর যত্নটুকু ঠিক বুঝতে পারছিলাম। তারপর তাঁর চলে যাওয়ার সময় হল। সবার কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলেন। আমার কাছে এসে মাথা নুইয়ে নমস্কার জানালেন। আমিও নমস্কার করলাম। তখনই তিনি বললেন— “বার বার আসুন, বার বার আসুন, বার বার আসুন, এই বাংলা আপনার।”’
মুখ্যমন্ত্রীর এই কথায় তিনি বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন, জানালেন তসলিমা। তাঁর কথায়, ‘আমি কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। কথার উত্তর দিতে হয়, কেউ এমন আন্তরিকতা দেখালে তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে হয়—এসবই জানি। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমার কোনও ভাষা ছিল না। বুকের মধ্যে এত কথা জমে উঠল যে একটি কথাও মুখ দিয়ে বেরোল না। বত্রিশ বছর ধরে নির্বাসিত একজন মানুষকে তিনি কী বলে গেলেন, জানি না তিনি নিজেও তা বুঝতে পেরেছিলেন কি না। “বার বার আসুন”—এই কথাটুকুতেই কতখানি আশ্বাস! আবার আসতে পারব। আসতে চাইলে কেউ বিরক্ত হবে না। আমার ফিরে আসার ইচ্ছেটিকে কেউ অনধিকার প্রবেশ বলে মনে করবে না। আর তার পরেই—“এই বাংলা আপনার।” এই বাংলা আমার!’
বাংলাদেশ কিংবা পশ্চিমবঙ্গের কোনও রাজনীতিক তাঁকে এভাবে একথা কখনও বলেননি জানিয়ে তসলিমা লেখেন, ‘আজ পর্যন্ত দুই বাংলার কোনও রাজনীতিক, কোনও সরকার আমাকে এভাবে বলেননি, “এই বাংলা আপনার।” এমন সহজ ভাষায় আমাকে এত বড় আশ্বাস দেননি।’
শেষে তসলিমা লেখেন, ‘মহালয়ার অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিলাম। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আনন্দ করব, উৎসবের কিছু সুখস্মৃতি নিয়ে ফিরব, এই ছিল আশা। ফেরার সময় বুকের মধ্যে নিয়ে ফিরলাম এমন কয়েকটি শব্দ, মনে হয় বহু বছর ধরে যে শব্দগুলোর জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম। “বার বার আসুন, বার বার আসুন, বার বার আসুন, এই বাংলা আপনার।” কথাগুলো মনে পড়লে এখনও বুক ভরে আসে। বাংলাকে এত ভালোবেসেছি। সেদিন মনে হল, বাংলাও আমাকে কাছে ডেকে বলল—তুমি আমার।’
