
কলকাতা: ভবানীপুর কার পাশে দাঁড়াবে? এই নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড দলের নেতা-কর্মীদের বার্তা দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৬০ হাজারের বেশি ভোটে জেতাতে হবে। আবার বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ভবানীপুরে জিতবে বিজেপিই। এই পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রামের অফিসারকে ভবানীপুরে বদলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। আর তারই জবাব দিতে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে খোঁচা দিলেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। বললেন, “নিজের বাড়ি, তাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত কেন ভয়?”
নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকে অফিসারদের বদলি নিয়ে কমিশনকে নিশানা করে চলেছেন মমতা। এদিন তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের বিডিও চলে আসছেন ভবানীপুরে। কারণ, গদ্দারের নিজের লোক বলে।” মমতার এই মন্তব্যের জবাব দিলেন শুভেন্দু। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, “এই ধরনের কথার উত্তর দেওয়া মুশকিল। সব পরিবর্তন করেছে নির্বাচন কমিশন। যাদের পরিবর্তন করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ অফিসার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে কাজ করেছেন ২০১১ সালের পর থেকে।” এরপরই বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, “কাচের ঘরে বসে ঢিল ছুড়বেন না। না হলে এমন লিস্ট প্রকাশ করব, যেখানে সিএমও-তে OSD হিসেবে কাজ করা অফিসাররা, অন্তত পাঁচটি জেলার ডিইও হিসেবে কাজ করছেন।”
মমতাকে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত ভয় কেন? নিজের বাড়ি। নিজের জায়গা। যেখানে তিনি ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করেন বলে বলেন। তাহলে কেন এসব বলছেন? উনি হারের আতঙ্ক থেকে এই ধরনের কথা বলছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারবেন। বিজেপি জিতবে। ভবানীপুর বিজেপির জায়গা।”
শমীককে পাশে বসিয়ে ভবানীপুরের নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের হিসাবও দিলেন শুভেন্দু। বললেন, “তিন দফাতে ৫১ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। প্রথমে ৪৫ হাজার। পরে ২ হাজার। আর বিবেচনাধীন তালিকায় প্রায় ৪ হাজার। এই ৫১ হাজার ভুয়ো ভোটের মালিক ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যথাটাও জানি। যন্ত্রণাটাও জানি। বুঝতে পারছেন আগামিদিনে কী হবে। পৃথিবীর কোনও শক্তি, কোনও মেডিসিনি নেই, এই কোমাতে চলে যাওয়া তৃণমূলকে পুনরুজ্জীবিত করে।” বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভবানীপুরে রামনবমীর মিছিলে তিনি থাকবেন বলেও এদিন জানিয়ে দেন শুভেন্দু।