TMC Vote Percentage: অবাঙালি এলাকায় ‘ফেল’, ‘সংখ্যালঘু তত্ত্বেই’ ভোট পাচ্ছে তৃণমূল, অভিযোগ বিজেপির
TMC Vote Percentage: ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বঙ্গ রাজনীতি যখন পারদ চড়াচ্ছে ভোটার-ইস্যু। সেই আবহেই শাসকদলের ভোটবৃদ্ধিতে 'সংখ্যালঘু প্রভাব'কে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে বঙ্গ বিজেপি।

কলকাতা: রাজ্যের ভোটার বৃদ্ধিতে ‘সংখ্যালঘু প্রভাব’ ও ‘রোহিঙ্গা তত্ত্বের’ অভিযোগ বিজেপির। যখন ‘ভুয়ো ভোটার’ প্রসঙ্গে পদ্ম শিবিরের বিরুদ্ধে তোপ দাগছে তৃণমূল। সেই আবহে পাল্টা নতুন বিতর্ক জুড়ে দিল বঙ্গ বিজেপি।
এদিন বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘গত সাত বছরে অর্থাৎ ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজ্যের বিধানসভার ওয়াড়ি ভোটার বৃদ্ধির গড় হার ৮.৬৯ শতাংশ। কিন্তু সেই নিরিখে বাংলার ১৩৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি। এই ১৩৬টি কেন্দ্রের মধ্য়ে ৮২টি কেন্দ্র মুসলিম অধ্যুষিত।’
তাঁর আরও দাবি, ‘রাজ্য গড়ের তুলনায় আবার ভোটার হ্রাস হয়েছে ১৫৮ টি বিধানসভায়। যার মধ্য়ে মাত্র ১৩টি কেন্দ্র মুসলিম অধ্যুষিত। অর্থাৎ যেখানে মুসলিম সংখ্যা বেশি, সেখানেই তৃণমূলের ভোটার সংখ্য়া বেশি।’
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বঙ্গ রাজনীতি যখন পারদ চড়াচ্ছে ভোটার-ইস্যু। সেই আবহেই শাসকদলের ভোটবৃদ্ধিতে ‘সংখ্যালঘু প্রভাব’কে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে বঙ্গ বিজেপি। কোন কোন কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভাবে ভোটার হার বেড়েছে সেই নিয়ে এদিন একটি প্রথম দশের তালিকাও প্রকাশ করেন বিজেপি নেতা।
সেই তালিকা অনুযায়ী, রাজারহাট নিউটাউনে বেড়েছে ১৯.৯৬ শতাংশ, বারুইপুর পশ্চিমে বেড়েছে ১৬.৬৪ শতাংশ, সোনারপুর উত্তরে বেড়েছে ১৫.৫৭ শতাংশ, বারুইপুর পূর্বে বেড়েছে ১৫.০২ শতাংশ, সুজাপুরে বেড়েছে ১৫.০১ শতাংশ, ক্যানিং পূর্ব বেড়েছে ১৩.৯৮ শতাংশ, কসবায় ১৩.০৭ শতাংশ, মাটিগড়া নকশালবাড়িতে ১৩.৯৬ শতাংশ, কুলতলিতে বেড়েছে ১৩.৭৮ শতাংশ, সামসেরগঞ্জে ১৩.৭২ শতাংশ, ইসলামপুরে ১৩.৫১ শতাংশ, ভাঙড়ে ১৩.৪৮ শতাংশ, চোপড়ায় ১৩.৪৪ শতাংশ।
তবে এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির দেখা অবাঙালি এলাকায় মেলেনি বলেই দাবি বিজেপির। তাদের অভিযোগ, রাজ্যের গড়ের তুলনায় অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার বৃদ্ধি অনেকাংশেই কম।
প্রসঙ্গত, বিজেপির করা এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে ‘মুসলিম-বিরোধী’ বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছেন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর কথায়, ‘এগুলো বিজেপির বরাবরের কৌশল। এরা কেউই বাংলাদেশি কিংবা রোহিঙ্গা নয়। আগে মুসলিমরা একাধিক সন্তান নিলেও, এখন তা অনেক কমে গিয়েছে।’ হুমায়ুনের সুরেই সুর মিলিয়েছেন বিধায়ক শওকত মোল্লাও। তাঁর কথায়, ‘ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাকে কোনও কালে সম্মান করে না বিজেপি। এদের কাজটা হল, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়া। আর বাংলার বুকে দাঁড়িয়ে ওরা যত এই ধরণের কথা বলবে, ততই ওরা মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে।’

