
কলকাতা: রাজ্যের অনুমোদনহীন খারেজি মাদ্রাসাগুলি সন্ত্রাসবাদীদের আখড়া, প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় আগে এই কথা শোনা গিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের গলাতে। যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছিল বঙ্গ রাজনীতির আঙিনাতে। তারপর গঙ্গ দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। বদলেছে সরকার। কিন্তু এখনও মাদ্রাসা প্রসঙ্গ উঠলেই বারবার ফিরে ফিরে আসে সেই প্রসঙ্গ। এবার ফের একবার রাজ্যের বাজেট অধিবেশন উত্তাল হল সংখ্যালঘু ইস্যুতে। তুমুল বিতর্ক অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য নিয়ে। এবার তাঁর পাশে দাঁড়িয়েই ফের একবার মাদ্রাসা প্রসঙ্গে বুদ্ধদেবের প্রসঙ্গ টেনে আলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফের শোনা গেল বুদ্ধদেব স্তুতি।
প্রসঙ্গত, বিধানসভায় বাজেট বক্তৃতার আলোচনায় অগ্নিমিত্রা পাল বক্তব্য রাখার সময় বলেন, ক্রিমিনাল সংখ্যালঘুদের রক্ষা করাই এই সরকারের একমাত্র কাজ। তাঁর এ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর কথায়, স্বাধীনতা আন্দোলনে বহু সংখ্যালঘু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। সব সংখ্যালঘু ক্রিমিনাল না। আপনাদের ধিক্কার জানাই। আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে। সোজা কথা দুজনের তরজায় তুমুল বিতর্ক শুরু হয়ে যায় বিধানসভায়। পাল্টা অগ্নিমিত্রা তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, সংখ্যালঘু মানুষদের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবদান আমরা জানি। কিন্তু এই সরকার সংখ্যালঘুদের হাতে বন্দুক তুলে দিচ্ছে!
অগ্নিমিত্রার এ মন্তব্য নিয়ে দিনভর উত্তাল হয়ে রইল বঙ্গ রাজনীতির আঙিনা। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক মুখোমুখি হয়েছিলেন শুভেন্দু। তখন মাদ্রাসা প্রসঙ্গে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রসঙ্গ উঠতেই বলেন, “ওনার অনেক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল। কিন্তু সিপিএমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি সর্বদা সমালোচনা করব। নন্দীগ্রামে গুলি চালনা হোক বা অন্যান্য কান্ড, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হাতে সিপিএম ছিল না। একজন মানুষ স্বর্গে চলে গিয়েছেন। আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। কিন্তু ব্যক্তি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অন্যান্যদের তুলনায় অনেকটাই আলাদা ছিলেন।” এখানেই না থেমে তিনি আরও বলেন, “নন্দীগ্রামে গুলি চালনা নিয়ে যখন আমি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে বলেছিলাম তখন ওই নিরুপম সেনের কাছে চিঠি লিখতে বলেছিলেন। ব্যক্তি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দুর্নীতি পছন্দ করতেন না বলেই চোরেদের মন্ত্রিসভা বলে বেরিয়ে এসেছিলেন। আবার ফিরেও গিয়েছিলেন। কিন্তু সে মানুষটি সম্পর্কে আমি কোন বিরূপ মন্তব্য করতে পারব না।”