Calcutta High Court: ‘সরকারি কর্মী বেতন নিচ্ছেন, অথচ CID বলছে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না?’ প্রশান্ত বর্মন মামলায় সিআইডির ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট কলকাতা হাইকোর্ট
Calcutta High Court on CID: বৃহস্পতিবার স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর একক বেঞ্চে। তাঁর কথায়, "সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিডিও প্রশান্ত বর্মন নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেনি। তিনি কতটা প্রভাবশালী ব্যক্তি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।" বিচারপতির প্রশ্ন, "সরকারি কর্মচারী,প্রতিমাসে বেতন নিচ্ছেন। বিডিও-র বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা রয়েছে অথচ সিআইডি বলছে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য?"

কলকাতা: নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় সিআইডির (CID) ভূমিকায় অসন্তুষ্ট কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। খুনে অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মণ একজন সরকারি কর্মচারী, প্রতি মাসে বেতন নিচ্ছেন, অথচ কেন তাঁর খোঁজ পাচ্ছে না সিআইডি? প্রশ্ন তুলে তদন্তকারী সংস্থাকে তীব্র ভর্ৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর। সুপ্রিম কোর্টের তরফে বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে সাত দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, আত্মসমর্পণ করেননি। এদিকে, প্রশান্ত বর্মণকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে পুলিশের তরফে। এই বিষয়ে তদন্ত করছে সিআইডি। কেন এতদিনেও প্রশান্ত বর্মণকে খুঁজে গ্রেফতার করা হল না? এই বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।
কী বলেছেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী?
বৃহস্পতিবার স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাইকোর্টে। তাঁর কথায়, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিডিও প্রশান্ত বর্মন নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেনি। তিনি কতটা প্রভাবশালী ব্যক্তি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।” বিচারপতির প্রশ্ন, “সরকারি কর্মচারী,প্রতিমাসে বেতন নিচ্ছেন। বিডিও-র বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা রয়েছে অথচ সিআইডি বলছে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য?”
প্রশান্ত বর্মনের আইনজীবী বিশ্বরূপের দাবি, পাল্টা হলফনামা দিতে চাই। সেই সুযোগ দেওয়া হোক। আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতির প্রশ্ন,”আপনি সুপ্রিম কোর্টেরও নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন? আপনি তো খুব প্রভাবশালী ব্যক্তি।” অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেলকে বিচারপতির নির্দেশ, “অভিযুক্তকে খুজুঁন। তিনি তো দেশ থেকে গায়েব হয়ে যাননি।” একইসঙ্গে বিচারপতির প্রশ্ন, “একজন সরকারি অফিসার বেপাত্তা অথচ সরকারি কোষাগার থেকে মাইনে দেওয়া হচ্ছে?”
রাজ্যকে রিপোর্ট জমার নির্দেশ
সিআইডি-র তরফে জানানো হয়েছে, প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল, তাতে বেশ কিছু গাফিলতি থেকে গিয়েছে। এরপর বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এই মামলায় রাজ্যকে তিন সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
