Mamata Banerjee on CPM: ‘বাম ও অতিবামরাও আসতে পারেন…আমার কোনও ইগো নেই’, বিজেপির বিরুদ্ধে মমতা হাত ধরতে চাইতেই কী বলল লাল পার্টি?
Mamata Banerjee: আজ রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠান পালন করেন তৃণমূল সুপ্রিম। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দোলা সেন থেকে ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষরা। সেখান থেকেই মমতা বলেন, "তৃণমূল থেকে আবেদন জানাচ্ছি, দরকারে গ্রহণ করবেন, নয়ত করবেন না।

সৌরভ গুহ ও সুমন মহাপাত্রের রিপোর্ট
কলকাতা: তৃণমূলকে(TMC) সরাতে এক সময় সব রাজনৈতিক দলকে বার্তা দিত বিজেপি। এমনকি বারেবারে তারা বাম নেতা-কর্মীদের আবেদন জানিয়েছে, পদ্ম চিহ্নে ভোট দেওয়ার জন্য। রাজ্যের পালা বদল হতেই এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মুখেও একই বার্তা। বিজেপি (BJP) হটাতে সব রাজনৈতিক দল তা সে বাম-অতিবাম হলেও ক্ষতি নেই, সকলকে এক ছাতার তলায় আসার অনুরোধ তাঁর।
মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় কী বলেছেন?
আজ রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠান পালন করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দোলা সেন থেকে ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষরা। মমতা বলেন, “তৃণমূল থেকে আবেদন জানাচ্ছি, দরকারে গ্রহণ করবেন, নয়ত করবেন না। আমি সব ছাত্র-যৌবনদের আবেদনদের বলব…ব্যবসায়ীরা করবেন না, কারণ তাঁদের বিনিয়োগের একটা ব্যাপার থাকবে। জোট বাঁধুন। সবাই এক প্ল্যাটফর্মে আসুন। যত রাজনৈতিক দল আছে যাঁরা বিজেপির বিরোধিতা করে সকলে আসুন…। এমনকী, বাম ও অতিবামরাও আসতে পারেন। আমার কোনও ইগো নেই। বিজেপিকে রুখতে হলে সকলে একসঙ্গে থাকব। দিল্লিতে তো লড়াই করব। রাজ্যেও জোট বেঁধে লড়ব।”
বামেদের সঙ্গে জোটের কথা কেন মমতার মুখে?
মতাদর্শগত ভাবে বামফ্রন্টের সঙ্গে বিজেপির বিরোধিতা তৃণমূলের থেকেও যে অতি প্রবল তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালো মতোই জানেন। এমনকী, নির্বাচনের ফলাফল ভালো না করলেও বামেদের যে পোক্ত সংগঠন এখনও বর্তমান রয়েছে সেও অজানা নয়। একাংশ রাজনীতিবিদ বলেন, বিজেপির এই বিপুল জলের অন্যতম কারণ বামের ভোট রামে যাওয়া। এ দিকে, তৃণমূল সুপ্রিমো দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ হওয়ার দরুণ, তিনিও বুঝেছেন আপাতত একা লড়াইয়ের শক্তি এখন অন্তত তৃণমূলের নেই। সেই কারণেই বামসহ সব সংগঠনগুলিকে একজোটের বার্তা দিয়েছেন তিনি বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।
আবার এর আগে কেন্দ্রে বিজেপিকে রুখতে সব রাজনৈতিক দল মিলে ইন্ডিয়া জোট করেছিলেন তিনি। সেই ইন্ডি জোটের কার্যকারিতা কতদূর তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, মমতা নিজেই বহুবার বলেছেন, বিজেপিকে তিনি একা রুখতে সক্ষম। তাই এবার আদৌ কেউ জোট করবেন কি না তাই এখন দেখার।
কী বলছে বাম-অতিবামেরা?
সিপিএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “উনি আগে ঠিক করুন বিরোধী হিসাবে লড়বেন নাকি…কারণ উনি তো পদত্যাগ করেননি। তার আগে কি বলছেন মানে হয় না। বিজেপির বিরুদ্ধে দিল্লিতে যখনই ঐক্যবদ্ধভাবে চলার কথা হয়েছে উনি ঐক্যের সঙ্গে থাকেননি। উল্টে কীভাবে ভাঙা যায় সেই কাজ করেছেন। ওর ক্রেডিবিলিটি বিজেপির বিরুদ্ধে এখনও মজবুত হয়নি।” সিপিএমএল-এর জাতীয় সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর সরকার বলেন, “সর্বভারতীয় একটি জোট আছে। আর বাংলায় নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে সকলকেই রাস্তায় নামতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করুন, আমরাও করব।”
