Calcutta High Court: ‘ব্যাঙের ছাতার মতো বেআইনি নির্মাণ বাড়ছে’, তিলজলায় বুলডোজার মামলায় বড় পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের
Calcutta High Court on illegal construction in Tiljala: কলকাতা পৌরনিগমের তরফে আইনজীবী জয়দীপ কর বলেন, "একটা কারখানা চালাতে দমকল, পরিবেশ লাইসেন্স লাগে। কোনওটাই এদের নেই। এমনকি রাজ্যের কাছে চেয়েছে সেটাও বলতে পারবে না। ট্যানারি নয় এগুলি। ট্যানারি আলাদা। আমরা কিছু ভাঙছি না। শুধু এই সম্পত্তি ব্যবহার করা যাবে না।" পুলিশের তরফে আইনজীবী ধারীজ ত্রিবেদী বলেন, "ওই বহুতলে এখনও বসবাস করা হচ্ছে। এরপরও কেউ যদি ওখানে বসবাস করেন, তবে নিজের দায়িত্ব থাকবেন।"

কলকাতা: তিলজলায় বুলডোজার দিয়ে বহুতল ভাঙার মামলায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। শুক্রবার হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর সিঙ্গল বেঞ্চ নির্দেশ দিল, যে অংশ ভাঙা হয়েছে, সেখানে যদি বিপজ্জনক অংশ বাকি থাকে সেক্ষেত্রে বাড়ির মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে ভাঙতে পারবে কলকাতা পৌরনিগম। আইন মেনে সব পদক্ষেপ করতে পারবে পৌরসভা ও পুলিশ। কলকাতা শহরে বেআইনি নির্মাণ নিয়েও এদিন উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিচারপতি।
তিলজলায় বুলডোজার মামলায় কী বললেন বিচারপতি?
গত ১২ মে তিলজলার ওই বহুতলে আগুন লাগে। ওই বহুতলের কারখানায় প্রথমে আগুন লাগে। এই অগ্নিকাণ্ডে ২ জনের মৃত্যু হয়। রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এরপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ওই বহুতলটি বেআইনিভাবে নির্মাণ হয়েছিল। কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দেন তিনি। বুধবার বুলডোজার দিয়ে বহুতলটি ভাঙা শুরু হয়। এরই বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়।
এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি নির্দেশ দেন ওই বহুতলে কোনও ব্যবসা চালানো যাবে না। কলকাতায় বেআইনি নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর পর্যবেক্ষণ, “ব্যাঙের ছাতার মতো বেআইনি নির্মাণ বেড়েই চলেছে। যেটা ধ্বংসাত্মক।” তিলজলার ওই বহুতলের অনুমোদনের নকশা মালিক পক্ষ দেখাতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি।
মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁর সওয়ালে বলেন, “কোনও নোটিস ছাড়াই বহুতলটি ভাঙা হচ্ছিল। মামলার রায় বেরনো পর্যন্ত ভাঙা বন্ধ রাখা হোক। বিদ্যুৎ ও জল চালু করে দেওয়া হোক।”
কলকাতা পৌরনিগমের তরফে আইনজীবী জয়দীপ কর বলেন, “একটা কারখানা চালাতে দমকল, পরিবেশ লাইসেন্স লাগে। কোনওটাই এদের নেই। এমনকি রাজ্যের কাছে চেয়েছে সেটাও বলতে পারবে না। ট্যানারি নয় এগুলি। ট্যানারি আলাদা। আমরা কিছু ভাঙছি না। শুধু এই সম্পত্তি ব্যবহার করা যাবে না।” পুলিশের তরফে আইনজীবী ধারীজ ত্রিবেদী বলেন, “ওই বহুতলে এখনও বসবাস করা হচ্ছে। এরপরও কেউ যদি ওখানে বসবাস করেন, তবে নিজের দায়িত্ব থাকবেন।” মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২২ জুন।
