Kamduni Case: শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেই কামদুনির পরিবার বলল, ‘এনকাউন্টার আইন হোক’
Kamduni Victim's Family Meets CM Suvendu Adhikari: কামদুনির নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দেখা করা নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার বিচার পায়নি। ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য আগের সরকার এটা করতে দেয়নি। আমি তো আগেই মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি, কামদুনির ফাইল ফের খোলা হোক। নির্যাতিতার পরিবার এসেছে, খুব ভালো কথা।"

কামদুনি: কেটে গিয়েছে ১৩ বছর। এখনও তাঁরা বিচার পাননি বলে বারবার সরব হয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার। বারুইপুরকাণ্ডে অন্যতম এক অভিযুক্তের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর কামদুনির নির্যাতিতার ভাইও তাঁর দিদির ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তদের এনকাউন্টারের দাবি জানিয়েছিলেন। আর বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে হাজির হলেন কামদুনির নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তাঁরা খুশি বলে জানালেন নির্যাতিতার ভাই।
২০১৩ সালের ৭ জুন। উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল। কামদুনিকাণ্ডে ৪ অভিযুক্ত এখন বাইরে রয়েছেন। আর ২ জন এখন জেলে রয়েছেন। বারুইপুরকাণ্ডে অন্যতম এক অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার আশা প্রকাশ করেন, তাঁরাও এবার বিচার পাবেন। সেই বিচারের আশাতেই এদিন মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে আসেন কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কামদুনির দুই প্রতিবাদী মুখ মৌসুমী কয়াল ও টুম্পা কয়াল।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর কী বললেন নির্যাতিতার ভাই?
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে খুশি নির্যাতিতার পরিবার। নির্যাতিতার ভাই বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমাদের বলেন, আগের সরকার সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি চাপা দিয়ে রেখেছিল। আমরা সেটা করব না।” এরপরই নির্যাতিতার ভাই বলেন, “ফাঁসি তো অবশ্যই চাই। কিন্তু, আজকাল যা ধর্ষণ বাড়ছে, এতে সরাসরি এনকাউন্টারে মেরে দেওয়া হোক। এনকাউন্টার আইন হোক।” একইভাবে নির্যাতিতার দাদাও সেই দাবি করছেন। যদিও তিনি আইনের প্রতি বেশি ভরসা রাখছেন। মেয়ের ধর্ষণ-খুনের বিচার এতদিন পর পাবেন বলে আশাবাদী নির্যাতিতার মাও। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমি সব জানি। আমরা বিচার পাব। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত হয়েছি।”টুম্পা ও মৌসুমী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী তাঁর উপর আস্থা রাখতে বলেছেন।”
কামদুনির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কী বললেন শুভেন্দু?
কামদুনির নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বারাসত আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। আগের সরকার ১৬ জন সরকারি কৌঁসুলিকে বদল করে আসামিদের খালাস করার ব্যবস্থা করে। এবারে যে পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। আমি তাঁদের বলেছি, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের আইনজীবীরা সহযোগিতা করবেন, যাতে তাঁরা যে আবেদন করেছেন, সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে তাঁদের আবেদনের সুবিচার পান। এই মুহূর্তে বিষয়টি রাজ্য সরকার কিংবা রাজ্যের পুলিশের হাতে নেই। সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ে রাজ্যের আইনজীবীরা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থাকবেন। তা নিয়ে নির্দেশিকা ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে।”
কামদুনির নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দেখা করা নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার বিচার পায়নি। ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য আগের সরকার এটা করতে দেয়নি। আমি তো আগেই মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি, কামদুনির ফাইল ফের খোলা হোক। নির্যাতিতার পরিবার এসেছে, খুব ভালো কথা।”
