Kolkata Airport: কলকাতা বিমানবন্দর থেকে সরবে বাঁকড়া মসজিদ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বললেন…
Kolkata Airport Bankra Mosque Relocation: সোশ্যাল মিডিয়ায় শমীক ভট্টাচার্য লেখেন, 'ভারতীয় জনতা পার্টির অবস্থান স্পষ্ট—উন্নয়নের পথে কোনও বাধা নয়। সকল ধর্মের প্রতি সম্মান রেখেই এমন সমাধান চাই, যাতে মানুষের ধর্মীয় অধিকারও অক্ষুণ্ণ থাকে এবং কলকাতা পায় আরও একটি পূর্ণাঙ্গ রানওয়ে, ভবিষ্যতে একটি বিশ্বমানের এরোসিটি, আরও বেশি আন্তর্জাতিক উড়ান, নতুন বিনিয়োগ এবং হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ। উন্নয়নের রাজনীতি—তুষ্টিকরণের নয়। কলকাতাকে বিশ্বমানের বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতেই এই পরিবর্তন জরুরি।'

কলকাতা: প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বহু বিমানের ওঠানামা। সেই কলকাতা বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে রয়েছে বহু বছরের পুরনো বাঁকড়া মসজিদ। সেকেন্ডারি রানওয়ে সম্প্রসারণে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মসজিদ। তাই এবার ওই মসজিদ স্থানান্তরিত করতে পদক্ষেপ করল সরকার। আপাতত ওই মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া বন্ধ করা হল। এই নিয়ে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিলেন, সরকার কাউকে ধর্মপালনে কোনওরকম বাধা দিচ্ছে না। তবে জাতীয় সুরক্ষা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আগে দেখতে হবে। সরকারের পদক্ষপকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
কলকাতা বিমানবন্দরে গেলেই নজরে পড়বে বাঁকড়া মসজিদ। দীর্ঘদিন ধরেই মসজিদ স্থানান্তরিত করতে চেয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, পূর্বতন সরকারের অসহযোগিতায় তা হয়ে উঠেনি। মূলত রানওয়ের মধ্যে মসজিদটি এয়ারপোর্ট অথরিটির জায়গায় অবস্থিত। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মসজিদটির জন্য একধারে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। কারণ, কারা এই বিমানবন্দরের ভেতরে নামাজ পড়তে ঢুকছেন, তাঁদের জন্য কোনও বৈধ পাস ইস্যু হয় না। শুধুমাত্র আধার কার্ডের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে পৌঁছে তাঁরা নামাজ পড়েন। এছাড়া মসজিদটি রানওয়ে সংলগ্ন হওয়ায় সেকেন্ডারি রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? কলকাতা বিমানবন্দর থেকে মসজিদ স্থানান্তরিত করা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “জাতীয় সুরক্ষা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আগে দেখতে হবে। এই বিমানবন্দরের লোকেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। চিন, বাংলাদেশ সব কাছে। এটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এখানে এভাবে খুলে রাখা যায় না। আমরা তো কাউকে ধর্মপালনে বাধা দিইনি। ভদ্র থাকবেন। আইন মেনে চলবেন। কোনও অসুবিধা নেই। সব ঠিক চলবে। সুন্দর চলবে।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা শমীকের-
বিমানবন্দর থেকে মসজিদ সরানো নিয়ে এর আগে রাজ্যসভায় প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যের নতুন সরকার তা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়ায় খুশি তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে সাহসী সিদ্ধান্তকে স্বাগত। কলকাতা শুধু পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার নয়, এটি দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কেন্দ্র। তাই কলকাতা বিমানবন্দরকে দিল্লি, মুম্বই ও বেঙ্গালুরুর সমকক্ষ করে তুলতে হলে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই।’
এরপরই রাজ্যসভায় তাঁর প্রশ্নের কথা উল্লেখ করে লেখেন, ‘রাজ্যসভায় উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্র আগেই জানিয়েছিল যে, দ্বিতীয় রানওয়ের অ্যাপ্রোচ এলাকায় অবস্থিত মসজিদটির অবস্থানের কারণে রানওয়ের পূর্ণ ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। নতুন টার্মিনাল নির্মাণ ও বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছিল। সরকার মসজিদটিকে উপযুক্ত বিকল্প স্থানে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়ে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।’
এই নিয়ে বিজেপির অবস্থান উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘ভারতীয় জনতা পার্টির অবস্থান স্পষ্ট—উন্নয়নের পথে কোনও বাধা নয়। সকল ধর্মের প্রতি সম্মান রেখেই এমন সমাধান চাই, যাতে মানুষের ধর্মীয় অধিকারও অক্ষুণ্ণ থাকে এবং কলকাতা পায় আরও একটি পূর্ণাঙ্গ রানওয়ে, ভবিষ্যতে একটি বিশ্বমানের এরোসিটি, আরও বেশি আন্তর্জাতিক উড়ান, নতুন বিনিয়োগ এবং হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ। উন্নয়নের রাজনীতি—তুষ্টিকরণের নয়। কলকাতাকে বিশ্বমানের বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতেই এই পরিবর্তন জরুরি।’
