Indian Navy: যৌনতার ফাঁদে পা দিয়েই বিপাকে বাংলার নৌ-সেনাকর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায়, সামনে আসছে পাক-যোগ
সমাজমাধ্যমে 'মহিলার’ সঙ্গে পরিচয়। পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক মহিলার সঙ্গে প্রদীপের যোগাযোগ তৈরি হয়। ভুয়ো পরিচয়ের অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, ওই মহিলা পাকিস্তানি গোয়েন্দা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ভুয়ো পরিচয়ে প্রদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

কলকাতা: যৌনতার ফাঁদে ফেলে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য হাতানোর অভিযোগ। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর থেকে এক নৌসেনাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (CI)। ধৃতের নাম প্রদীপ মুখোপাধ্যায়। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দেন তিনি।
বিশাখাপত্তনমে কর্মরত ছিলেন প্রদীপ। ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের অধীনে কর্মরত এই নৌসেনাকর্মী সম্প্রতি কোয়েম্বত্তূরের রেড ফিল্ডসে INS Agrani-তে ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোর্সের প্রশিক্ষণে যান। সেখানেই পৌঁছয় অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স দল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে শনিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের।
সমাজমাধ্যমে ‘মহিলার’ সঙ্গে পরিচয়। পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক মহিলার সঙ্গে প্রদীপের যোগাযোগ তৈরি হয়। ভুয়ো পরিচয়ের অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, ওই মহিলা পাকিস্তানি গোয়েন্দা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ভুয়ো পরিচয়ে প্রদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে ঘনিষ্ঠতা। অনলাইন কথোপকথনের মাধ্যমে ওই মহিলা প্রদীপের বিশ্বাস অর্জন করেন বলে অভিযোগ। এরপর তাঁকে যৌনতার ফাঁদে ফেলে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি।
কী তথ্য পাচার?
তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি, বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটির কৌশলগত সম্পদ, নৌবহরের গতিবিধি এবং অপারেশনাল ব্যবস্থা সংক্রান্ত তথ্য প্রদীপের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল।
জঙ্গি মডিউল, আন্তঃসীমান্ত চরবৃত্তি এবং উচ্চ নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হুমকির উপর নজরদারির সময় সন্দেহজনক ডিজিটাল গতিবিধি নজরে আসে CI-এর।
নৌঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত সংবেদনশীল তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে পাচার হচ্ছে বলে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় প্রদীপের গতিবিধির উপর নজর রাখতে শুরু করেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে সন্দেহ আরও জোরালো হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি চায় CI। অনুমতি পাওয়ার পর কোয়েম্বত্তূর থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
কতটা এবং কী ধরনের প্রতিরক্ষা-তথ্য পাচার হয়েছে, সেই তথ্য কার কাছে পৌঁছেছে এবং এর বিনিময়ে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না,সবই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পাকিস্তানি গোয়েন্দা-চক্রের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনলাইনে যোগাযোগকারী ওই মহিলার প্রকৃত পরিচয় এবং তাঁর সঙ্গে কোনও পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি যোগ ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
