Kolkata traffic police: শান্তনুর ‘কোপে’ ক্লোজ হয়েছিলেন, সরকার বদলাতেই দায়িত্ব ফিরে পেলেন আর এক শান্তনু
Shantanu Sinha Biswas controversy: মার্চের প্রথম সপ্তাহ। বাংলায় তখনও ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। গত ৫ মার্চ রাতে দেশপ্রিয় পার্কের কাছে রুটিন গাড়ি চেকিং করছিলেন ট্র্যাফিক সার্জেন্ট শান্তনু নায়েক। সেইসময় শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ছোট ছেলে মণীশ সিনহা বিশ্বাসের গাড়ি দাঁড় করান তিনি। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছেন কি না জানার জন্য ব্রেথ এনালাইজারে টেস্ট করার চেষ্টা করেছিলেন।

কলকাতা: তিনি কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি। কলকাতা পুলিশের ডিসিপি হয়েছিলেন। দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। মুর্শিদাবাদের কান্দিতে তাঁর প্রাসাদোপম বাড়ির ছবি সামনে এসেছে। তবে শুধু দুর্নীতিতে যুক্ত থাকাই নয়, কলকাতা পুলিশে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ‘দাপট’ টের পেয়েছেন অনেকে। তাঁর মধ্যে একজন সাউথ ইস্ট ট্র্যাফিক গার্ডের সাজেন্ট শান্তনু নায়েক। যিনি বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক রাতে নাকা চেকিংয়ের সময় শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ছোট ছেলে ডাক্তার মণীশ সিনহা বিশ্বাসের গাড়ি দাঁড় করিয়ে পরীক্ষা করায় ‘শাস্তি’ পেয়েছিলেন। এক রাতের মধ্যে ট্র্যাফিক গার্ড থেকে লালবাজারে ‘ক্লোজ’ করা হয়েছিল তাঁকে। সরকার বদল হতেই কলকাতা পুলিশ শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের প্রভাব মুক্ত হয়েছে। তারপরই আবার শাস্তির মুখে পড়া ওই ট্র্যাফিক সার্জেন্টকে পুনর্বহাল করা হয়েছে সাউথ ইস্ট ট্র্যাফিক গার্ডে।
কী হয়েছিল মার্চের সেই রাতে?
মার্চের প্রথম সপ্তাহ। বাংলায় তখনও ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। গত ৫ মার্চ রাতে দেশপ্রিয় পার্কের কাছে রুটিন গাড়ি চেকিং করছিলেন ট্র্যাফিক সার্জেন্ট শান্তনু নায়েক। সেইসময় শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ছোট ছেলে মণীশ সিনহা বিশ্বাসের গাড়ি দাঁড় করান তিনি। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছেন কি না জানার জন্য ব্রেথ এনালাইজারে টেস্ট করার চেষ্টা করেছিলেন। এই ‘অপরাধের’ জন্য শান্তনুর ছোট ছেলে বাবাকে ফোন করে ‘বিরক্ত’ করার কথা জানান।
কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কলকাতা পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির কনভেনার রুহুল আমিন আলি শাহ তাঁর অনুগামীদের নিয়ে ওই ট্র্যাফিক সার্জেন্টকে ধমকাতে চলে আসেন। অভিযোগ, ট্র্যাফিক সার্জেন্টকে হুমকি দেওয়া হয় তাঁকে কলকাতার বাইরে দূরবর্তী কোনও জেলায় বদলি করা হবে। পরদিন ওই সার্জেন্টকে লালবাজারে ডেকে পাঠানো হয়। ডিসি ট্র্যাফিকের কাছে ‘পুট আপ’ করানো হয় তাঁকে। জানানো হয় লালবাজারে বদলির কথা। তবে সেইসময় কলকাতা পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।
বাংলায় সরকার বদল হতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শান্তনু সিনহা বিশ্বাসও ক্ষমতা হারান। আর্থিক দুর্নীতি মামলায় ইডি তাঁকে গ্রেফতার করেছে। তাঁকে চাকরি থেকে কলকাতা পুলিশ বরখাস্ত করেছে। আর নিজের পুরনো কর্মস্থলে ফিরেছেন শান্তনু নায়েক। সাউথ ইস্ট ট্র্যাফিক গার্ডে পুনর্বহাল করা হয়েছে তাঁকে।
