Taratala: হার বিমে কাটা হাত বার করেও বাঁচার চেষ্টা, ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে ভেসে আসছে আর্তনাদ! কলকাতায় ফের ফিরল দুঃসহ স্মৃতি
Taratala Factory Shed Collapse: ওই এলাকায় একটি কারখানার গোডাউন তৈরি হচ্ছিল। নির্মাণের সময়েই একবার ভেঙে পড়ে। তারপর সেটা কোনওভাবে ঠিক করে শেডের নীচে ভিতরে ঢুকেই আবার গোটা 'সেট-আপ' দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন কর্মীরা। তখনই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গোটা টিনের শেড।

কলকাতা: তারাতলায় একটি কারখানার শেড ভেঙে বিপত্তি। ভেঙে পড়ে লোহার বিম, টিন। আহত হয়েছেন একাধিক। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কারোর হাত থেঁতলে গিয়েছে, কারোর মাথা। অনেকেরই অবস্থাই আশঙ্কাজনক। অসমর্থিত সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৪০-৪৫ জন ভিতরে আটকে রয়েছেন বলে খবর। গ্যাস কাটার এনে লোহার বিম কেটে উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে দমকল। দমকল কর্মীদের সহায়তায় স্থানীয় বাসিন্দারাও। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অনেকেই আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢালাই দেওয়ার ‘সেট-আপ’ করতে গিয়েই দুর্ঘটনা
জানা যাচ্ছে, পরিবহণ দফতরেরই একটি গোডাউন নির্মাণের কাজ চলছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার সকালেও অনান্য দিনের মতো কাজ চলছিল। ঘটনার আধ ঘণ্টা আগেই লোহার বিম নড়ে যায়, কয়েকটা জায়গায় ভেঙে পড়ে। সেসময়ে সেটা কোনওভাবে ঠিক করে শেডের নীচে ভিতরে ঢুকে আবার গোটা ‘সেট-আপ’ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন কর্মীরা। তখনই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গোটা টিনের শেড।
ভিতরে আটকে বহু
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানাচ্ছেন, “ভিতরে অনেকেই আটকে থাকার কথা। কারণ সকলে ভিতরেই ছিলেন। একটা ছোট্ট অফিস করা হয়েছিল, সেখান থেকে কাজ পরিচালনা করা হত। লেবাররা ছিলেন। অনেকে এমনিই বসে ছিলেন। কাজ তো চলছিল। ওতটা বড় জায়গা জুড়ে গোডাউন, পুরোটাই ভেঙে পড়েছে।”
আপাতত ক্রেন এনে লোহার বিম কেটে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। লোহার বিমের নীচে পিষ্ট হয়ে গিয়েছে একাধিক শরীর। পা-হাতা, কোথা মাথা থেঁতলে গিয়েছে। যে দৃশ্য ধরা পড়ে, তা রীতিমতো বিচলিত করার মতো। পা কেটে লোহার বিমে ঝুলছে।
পোর্ট ট্রাস্ট থেকে লিজ নেওয়া জমিতে নির্মাণ
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাকেশ সিং। তিনি বলেন, “পোর্ট ট্রাস্ট চেয়ারম্যান থেকে লিজ নিয়েছিলেন শম্ভু বেরা বলে একজন। কী বানানো হচ্ছিল, কী সিকিউরিটি ছিল, সেটা জানি না। তবে ৫০-৬০ জন শ্রমিক এর মধ্যে রয়েছেন। নিজেই চোখে ”
আরেক বাসিন্দা বলেন, “এটা পুরনো একটা কোম্পানির গোডাউন ছিল। অক্টোবিয়াস টি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির। এটা ছেড়ে দেন। তারপর পোর্টের কাছ থেকে বেয়দাবাদরা সেটা নিয়েছেন। এখানে চায়ের গোডাউন তৈরি হচ্ছিল। সবে তিনটে ফ্লোর তুলে ঢালাই দেওয়ার চেষ্টা করছিল। তার জন্যই টিনের শেড বানানো হচ্ছিল। টিনের শেডটা সাপোর্ট হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।”
TMC কাউন্সিলরকে ঘাড়ধাক্কা
দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ, রয়েছেন কলকাতা পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। TMC কাউন্সিলর সেখানে পৌঁছতেই তাঁকে ধাক্কা মেরে বের করে দেওয়া হয়।
