SIR: ৯ তারিখ বেরোবে খসড়া তালিকা, কাদের নাম থাকবে? কাদের ডাকা হবে হিয়ারিংয়ে?
SIR In WB: সাধারণত প্রত্যেক বাড়িতে গিয়ে ফর্ম ফিল আপ করেছেন বিএলওরা। সেক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে, মৃত ভোটারদেরও নামে ফর্ম ফিলআপ হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই তথ্য জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। মৃত ভোটারদের জন্য আলাদা তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। প্রত্যেক বুথের বাইরে ভোটারের সংখ্যা টাঙিয়ে দেওয়া হবে। সাধারণত এক একটা বুথে ১২০০ বেশি ভোটার থাকার কথা নয়।

কলকাতা: ৯ ডিসেম্বর ভোটার লিস্টের খসড়া তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। তার আগে ২৫ নভেম্বর অ্যাপে ফর্ম আপলোডের কাজ শেষ করতে হবে বিএলও-দের। ৪ ডিসেম্বর ফর্ম ডিজিটাইজেশনের শেষ দিন। খসড়া তালিকার পরই ঝাড়াই বাছাই। প্রশ্ন হচ্ছে, ওই তালিকায় কাদের নাম থাকবে আর কাদের নাম বাদ পড়বে?
কাদের নাম থাকবে?
কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁরা ফর্ম জমা দিয়েছেন, সবার নামই থাকবে খসড়া তালিকায়। কমিশনের ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট বুথে তালিকা বেরোবে। মৃত বা অন্য কারণে বাদ পড়াদের তালিকা আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে।

কাদের নাম বাদ যাবে?
সাধারণত প্রত্যেক বাড়িতে গিয়ে ফর্ম ফিল আপ করেছেন বিএলওরা। সেক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে, মৃত ভোটারদেরও নামে ফর্ম ফিলআপ হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই তথ্য জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। মৃত ভোটারদের জন্য আলাদা তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল, কিন্তু বাড়ি গিয়ে ফর্ম দিতে গিয়ে যখন বিএলও-রা দেখতে পাবেন, সেই ব্যক্তি মৃত, সেটা মার্ক করে ডিলিট করা যাবে। ২০২৫-এর তালিকায় নাম রয়েছে, অথচ নির্দিষ্ট ঠিকানায় বাড়ি গিয়ে তাঁকে খুঁজে পাওয়া গেল না, তাঁদের নাম বাদ যাবে। যাঁদের ‘ডবল এন্ট্রি’ রয়েছে, অর্থাৎ একই কেন্দ্রে বা আলাদা কেন্দ্রে নাম রয়েছে ভোটারের, সেই নাম বাদ যাবে। দুটো এনুমারেশন ফর্ম ফিল আপ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, সেটা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন।

কাদের হিয়ারিং হবে?
খসড়া তালিকায় নাম থাকা মানেই যে তাঁদের হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে না, তেমনটা নয়। কারণ তারপরই হবে আসল ঝাড়াই বাছাইয়ের কাজ। ৯ ডিসেম্বরের পর ঝাড়াই বাছাইয়ের কাজ শুরু করবে কমিশন। ম্যাপিংয়ের কাজ চলবে। ম্যাপিংয়ে না ম্যাচ করলে সে সময়ে হিয়ারিংয়ের নোটিস যাবে, নোটিস পৌঁছে দেবেন বিএলও-রা। ২০০২ সালের তালিকায় যাঁদের নাম নেই, তাঁরা যে তথ্য জমা দিচ্ছেন, ইআরও-এর মনে হলে তাঁদের ডেকে পাঠাতেই পারে। তখন ওই ১১টি নথির মধ্যে ১টি নথি দেখাতে হবে। এ ছাড়া ২০০২-এর তালিকায় যাঁদের নিজেদের নাম নেই ও পরিবারের কারও নাম নেই, তাদের হিয়ারিংয়ে ডেকে পাঠাবে কমিশন। সেখানে বৈধ ডকুমেন্ট হিসাবে আধার কার্ড ছাড়া বাকি ১১টি নথির মধ্যে ১টি বৈধ নথি দেখাতে পারলেই এসআইআরের ফাইনাল লিস্টে নাম উঠে যাবে ওই ব্যক্তির।

প্রত্যেক বুথের বাইরে ভোটারের সংখ্যা টাঙিয়ে দেওয়া হবে। সাধারণত এক একটা বুথে ১২০০ বেশি ভোটার থাকার কথা নয়। পাশাপাশি এসডিও ও বিডিও অফিসের বাইরেও এই তালিকা টাঙানো থাকবে। পাশাপাশি কমিশনের ওয়েবসাইটেও নাম থাকবে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবারই নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, ৪ ডিসেম্বরের আগেই ডিজিটাইজেশনের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। আবারও স্পষ্ট করে দিল নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার জেলা শাসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল। CEC জ্ঞানেশ ভারতী প্রত্যেক জেলাশাসককে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বিএলও-দের বাড়তি চাপ থাকলেও, আগে কাজ শেষ না হলে ডিজিটাইজেশনের পর অন্যান্য কাজ শেষ করতে সমস্যা হবে। বৈঠকে ২৫ নভেম্বর ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে কমিশন।
