Kunal Ghosh: ‘আমার মরা বাবা-মায়ের দিব্যি…’, পদ খুইয়ে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ নিয়ে প্রশ্ন কুণালের
TMC: তৃণমূল নেতার দাবি, তিনি নিজে অনেক আগেই এসব পদ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। বললেন, 'আমাকে তো একটা ফোন করেও বলতে পারত... তুমি যে পদ ছাড়তে চেয়েছিলে, সেখান থেকে তোমাকে অব্যাহতি দিচ্ছি। সেখানে অপসারিত শব্দ তো যায় না। আমি তো কোনও দলবিরোধী কাজ করিনি।'

কলকাতা: তৃণমূলের তরফে যেভাবে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পদ থেকে অপসারিত করা হয়েছে, তাতে কিছুটা অভিমানী কুণাল ঘোষ। কুণালের দাবি, তিনি এখনও দলের তরফে কোনও অফিশিয়াল বার্তা পাননি। যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে পদ থেকে ‘রিমুভড’। আর এই কড়া শব্দবন্ধ নিয়েই অভিমান কুণালের। তৃণমূল নেতার দাবি, তিনি নিজে অনেক আগেই এসব পদ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। বললেন, ‘আমাকে তো একটা ফোন করেও বলতে পারত… তুমি যে পদ ছাড়তে চেয়েছিলে, সেখান থেকে তোমাকে অব্যাহতি দিচ্ছি। সেখানে অপসারিত শব্দ তো যায় না। আমি তো কোনও দলবিরোধী কাজ করিনি।’
শুধু তাই নয়, তাঁকে কোনও অফিশিয়াল বার্তা না দিয়ে এভাবে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা নিয়েও আপত্তি কুণালের। একরাশ অভিমান প্রকাশ করে বলেই দিলেন, ‘আমাকে যখন দল শোকজ করেছিল। আমি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়েছি। ঈশ্বর সাক্ষী, আমার মরা বাবা-মায়ের দিব্যি… আমি শোকজ়ের উত্তর দিয়েছি একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে। কিন্তু সেই উত্তর আমি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করিনি।’ কুণালের অভিমানী বক্তব্য, যদি পদ থেকে অপসারণের কথা তাঁকে সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে হয়, তাহলে তাঁর কাছেও ‘নৈতিক অধিকার’ রয়েছে শোকজের জবাবি চিঠি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করার।
রাজ্য রাজনীতিতে কুণাল ঘোষকে দেখা যায়, প্রতিদিন বিরোধীদের আক্রমণ শানাতে। ঝাঁঝালো আক্রমণে প্রতিদিন বিদ্ধ করেন বিরোধী পক্ষকে। নিজেই বললেন, ‘বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেসের প্রতি আমার থেকে বেশি আক্রমণাত্মক ও কটূ কথা আর কে কে বলেন… তা আপনারাই বলতে পারবেন।’ এহেন কুণাল ঘোষ আজ তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অপসারিত হয়ে কিছুটা অভিমানী সুরেই প্রশ্ন করলেন, ‘এখন কি আমাকে অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে? যাঁরা তৃণমূলের লড়াকু কর্মী তাঁদের কি অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে?’
প্রসঙ্গত, বুধবার উত্তর কলকাতায় এক রক্তদান শিবিরে বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়ের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা গিয়েছে কুণালকে। তারপরই দলের এই পদক্ষেপ। সেই নিয়েই আজ এই ‘অগ্নিপরীক্ষা’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কুণাল। বিরোধী দলের কারও সঙ্গে দেখা হয়ে গেলে কি রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে? সেই নিয়েও প্রশ্ন কুণালের। পাশাপাশি মিঠুন চক্রবর্তীর প্রতি দেবের রাজনৈতিক সৌজন্য নিয়ে কেন কোনও পদক্ষেপ হয় না, সেই নিয়েও প্রশ্ন তৃণমূল নেতার।
