CPIM: ভোটের নির্ঘণ্টকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যেতে চলেছে সিপিএম
West Bengal Assembly Election 2026: রবিবারই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আর ঠিক তারপরই এই একই বিষয়টি তুলে ধরেছেন ISF-এর বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাতে কমিশনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে ভোট বয়কটের ডাক দেন, তার আহ্বান জানান নওশাদ। প্রয়োজনে তাঁকে সমর্থনেরও বার্তা দেন।

কলকাতা: ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিচারাধীন। এই অবস্থায়ে কমিশনের ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের বিরোধিতায় সিপিএম। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেন মহম্মদ সেলিম। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বক্তব্য, এই ৬০ লক্ষ ভোটার কেবল বিবেচনাধীন এমনটা নয়, বরং তাঁদের ভোটের অধিকারও হরণ হচ্ছে। সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা ছাড়া কীভাবে ভোট ঘোষণা করতে পারে কমিশন। এই ঘোষণাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সিপিএমের।
সেলিমের কথায়, “৬০ লক্ষ মানুষকে কেবল ভোট দেওয়া থেকে বিরত নয়, তাঁকে ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার থেকেও তো বঞ্চিত করা হচ্ছে। এরপর যদি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হয়, ভোটাধিকার থাকলেও, ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার কোথায় গেল? এই বিষয়টা আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আগেও উল্লেখ করেছি। আমরা বলেছিলাম, আগে লিস্ট না করে ভোট করতে গেলে আরও জটিলতা বাড়বে। আমরা সর্বোচ্চ আদালতে যাব। এই বিষয়টাকে চ্যালেঞ্জ করব।”
উল্লেখ্য, রবিবারই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আর ঠিক তারপরই এই একই বিষয়টি তুলে ধরেছেন ISF-এর বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাতে কমিশনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে ভোট বয়কটের ডাক দেন, তার আহ্বান জানান নওশাদ। প্রয়োজনে তাঁকে সমর্থনেরও বার্তা দেন।
নওশাদের বক্তব্য, “যাঁরা বিচারাধীন রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কেউ যদি প্রার্থী হয়ে থাকেন, তাঁরা কী করবেন? নির্বাচন কমিশনে এরকম কোনও গাইডলাইন নেই। ৬০ লক্ষ কম নয়, তাহলে গণতন্ত্রের উৎসব অসম্পূর্ণ থাকছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তিনি তো তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় নেতৃত্ব, তিনি এই বিষয়টা নিয়ে সোচ্চার হন। প্রয়োজনে ভোট বয়কটের ডাক দিন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমি আবেদন জানাচ্ছি, যতক্ষণ না ৬০ লক্ষের নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে না, ভোট ঘোষণা করা যাবে না।”
আর দু-একদিনের মধ্যে প্রকাশিত হতে পারে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট। সূত্রের খবর, ৬০ লক্ষ বিচারাধীন নামের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৭ লক্ষ নামের। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে ৬ কোটি ৪৪ লক্ষের। প্রথমেই ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছিল কমিশন। তখনই আরও ৬০ লক্ষ ভোটারকে বিবেচনাধীনের তকমা দেয় কমিশন।
