President Droupadi Murmu: বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই শাহের মন্ত্রকে রিপোর্ট পাঠাল রাজ্য, কী বলল?
President Droupadi Murmu Bengal visit: রবিবার সকালে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি লেখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব। রাষ্ট্রপতির বাংলা সফরে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ করেছে, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিল্লির নর্থ ব্লকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। এদিন বিকেল পাঁচটার মধ্যেই মুখ্যসচিব তথ্য-সহ রিপোর্ট পাঠিয়ে দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে।

কলকাতা: বেঁধে দিয়েছিল সময়। সকালে চিঠি পাঠিয়ে বিকেল পাঁচটার মধ্যে রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছিল। সেই সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বাংলা সফর নিয়ে কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট পাঠাল রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে তথ্য সমেত রিপোর্ট পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।
বাংলা সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘অসম্মান’ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর গতকাল থেকেই শুরু হয়। রবিবার সকালে বিষয়টি নিয়ে আসরে নামে অমিত শাহের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাষ্ট্রপতির বাংলা সফরে শনিবার দিনভর কী কী ঘটেছে, প্রশাসন কী করেছে, তা জানতে চেয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি পাঠান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। চিঠির উত্তর দেওয়ার জন্য সময়ও বেঁধে দেন। বিকেল ৫টার মধ্যে চিঠির উত্তর দিতে বলা হয় মুখ্যসচিবকে।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক সাঁওয়াল কনফারেন্সে যোগ দিতে শনিবার শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি। সভা মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে রাষ্ট্রপতি বলেন, “এত চেয়ার ফাঁকা কেন? আমি বুঝতে পারছি কেউ বাধা দিচ্ছে।” এরপর শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগর গিয়ে এলাকা ঘুরে দেখেন। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে তিনি বলেন, “উনি আমার ছোট বোনের মতো। কিন্তু হয়তো কোনও কারণে উনি আমার উপর রুষ্ট হয়েছেন। যে কারণে সভা করতে দিলেন না।”
রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধরনা মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আপনাকে শ্রদ্ধা করি। দেশের এক নম্বর চেয়ার আপনার। ভোটের আগে রাজনীতি করবেন না। কত আদিবাসীর নাম কেটে দিয়েছে। জানেন আপনি?”
আবার রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’ নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী।” এরপর তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে এই নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বাড়তে থাকে। দুই দলেরই একাধিক নেতা এই নিয়ে পরস্পরকে তোপ দাগেন।
এই আবহে রবিবার সকালে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি লেখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব। রাষ্ট্রপতির বাংলা সফরে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ করেছে, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিল্লির নর্থ ব্লকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। এদিন বিকেল পাঁচটার মধ্যেই মুখ্যসচিব তথ্য-সহ রিপোর্ট পাঠিয়ে দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। তবে রিপোর্টে কী লেখা হয়েছে, তা জানা যায়নি। এই রিপোর্ট পাওয়ার পর শাহের মন্ত্রক কী পদক্ষেপ করে, সেটাই এখন দেখার।
