Humayun Kabir: ‘আমি নিষেধ করেছিলাম’, বেলডাঙায় উত্তেজনা নিয়ে এ কী বললেন হুমায়ুন?
Humayun Kabir on Beldanga protest: অবরোধ তুলতে পুলিশকর্তারা তাঁকে ফোন করেছিলেন জানিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, "সাহায্য করার জন্য আমাকে এসপি ফোন করেছিলেন। হরিহরপাড়ার আইসি-ও আমাকে একাধিকবার ফোন করেছেন। মাঝখানে অধীররঞ্জন চৌধুরী ঘোলাজলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তাঁকে গোব্যাক স্লোগান শুনতে হয়েছে।"

কলকাতা ও বেলডাঙা: ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিককে খুনের অভিযোগ ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। ওই ঘটনায় কারও নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তোলেন। এবার বেলডাঙায় বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খুললেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। প্ররোচনার অভিযোগ খারিজ করলেন। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, রাস্তা অবরোধ না করতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি। তারপরও রাস্তা অবরোধ করে উত্তেজিত জনতা। অবরোধ তুলতে পুলিশের কর্তারা তাঁকে ফোনও করেছিলেন বলে দাবি করেন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর।
বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ঝাড়খণ্ডে। এদিন সকালে মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছতেই বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। বাঁশ ফেলে রেললাইন অবরোধ করা হয়। জেলাশাসক পর্যন্ত আসেন ঘটনাস্থলে। শেষমেশ ওঠে অবরোধ। যদিও হুমায়ুনের দাবি, প্রশাসনের অনুরোধে দেহ রাস্তা থেকে সরানো হয়নি। তাঁর কথা মৃতদেহ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিন বিক্ষোভ নিয়ে হুমায়ুন বলেন, “আমি তখন জাগুলির (নদিয়ার গ্রাম) কাছাকাছি। আমাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করেছিল তারা (বিক্ষোভকারীরা)। আমি তাদের অবরোধ করতে নিষেধ করি। তবে তারা এত রেগে গিয়েছে যে তারা বলল, দলমতনির্বিশেষে রাস্তা অবরোধ করব। আমরা এর প্রতিবাদ করব। আমি যতটা সম্ভব থামানোর চেষ্টা করেছি। যদি মুখ্যমন্ত্রী চান তবে তাঁর পুলিশকে জিজ্ঞাসা করুন। কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক হয়তো পাথর ছুড়েছে, যেটা কাম্য নয়। সেটা আমি সমর্থন করি না।”
অবরোধ তুলতে পুলিশকর্তারা তাঁকে ফোন করেছিলেন জানিয়ে হুমায়ুন বলেন, “সাহায্য করার জন্য আমাকে এসপি ফোন করেছিলেন। হরিহরপাড়ার আইসি-ও আমাকে একাধিকবার ফোন করেছেন। মাঝখানে অধীররঞ্জন চৌধুরী ঘোলাজলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তাঁকে গোব্যাক স্লোগান শুনতে হয়েছে।”
এদিকে ব্রিগেডে তাঁর দলের সভা নিয়ে হুমায়ুন বলেন, “১ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেডে সভা করার আবেদন জানিয়েছিলাম। ১৩ তারিখে এসেছিলাম। সভার জন্য মাঠ দেবে কি না, তা এখনও ঠিক নেই। হুমায়ুন কবীর তো এখন বিজেপি এবং তৃণমূলের মাথাব্যথা। ফলে দুই দলেরই আপত্তি থাকতে পারে। যদি ব্রিগেডে মাঠ না পাওয়া যায়, ১ ফেব্রুয়ারি সভা হবে। তবে সেটা হবে মুর্শিদাবাদে।” হুমায়ুনের এই বক্তব্যের পর জানা যায়, ব্রিগেডে সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি হুমায়ুনকে। শহিদ মিনারে সভা করার কথা বলা হয়। তবে হুমায়ুন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ব্রিগেডে সভা না হলে তিনি মুর্শিদাবাদেই সভা করবেন।
