Mohammed Salim: হুমায়ুনের সঙ্গে কেন বৈঠক করেছিলেন? খোলসা করলেন সেলিম
West Bengal assembly election 2026: নিউটাউনের ওই হোটেলে কেন গিয়েছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে সেলিম বলেন, "ও যেখানে অবস্থান করছিল সেদিন, সেখানেই গিয়েছিলাম। আমি তখন যাদবপুরে একটা মিছিলে ছিলাম। সেখান থেকে শুনলাম, সে এসেছে। এবং আমার সঙ্গে দেখা করতে চায়। কারণ, সে ২৯ তারিখে (জানুয়ারি) একটা জনসভা করবে এবং সেখানে সবাইকে আমন্ত্রণ করবে। আমি বললাম, আমার কাছে আসার দরকার নেই। আমি নিজেই যেতে পারি।"

কলকাতা: আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে নিউটাউনের হোটেলে গিয়ে কেন বৈঠক করেছিলেন তিনি? গত দুই মাস ধরে এই প্রশ্নের বারবার সম্মুখীন হতে হয়েছে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে। বিরোধীরা খোঁচা দিতে ছাড়েনি। বামেদের একাংশও এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এবার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক করার কারণ ব্যাখ্যা করলেন সেলিম। কী বললেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক?
গত ২৮ জানুয়ারি নিউটাউনের ওই হোটেলে হুমায়ুনের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বৈঠক করেছিলেন সেলিম। বৈঠক শেষে হুমায়ুন বলেছিলেন, খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। শেষপর্যন্ত হুমায়ুনের সঙ্গে বামেদের আলোচনা এরপর আর এগোয়নি। কিন্তু, কেন সেলিম হোটেলে গিয়ে হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক করলেন, এই প্রশ্ন বারবার উঠেছে।
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফের এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সেলিমকে। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, জুম কলে বৈঠক করতে পারতেন? দেখা করলেন কেন? জবাব দিতে গিয়ে সেলিম বলেন, “আমি সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম। রাজনৈতিক বৈঠক করতে যাইনি। ৩০-৭০। ভাগীরথী নদী। হিন্দু-মুসলমান। তার রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়েছিলাম সরাসরি। কোনও গোয়েন্দা লাগাইনি। আর সেটা জনসমক্ষে যাতে সে উদ্ঘাটন করে, সেই বার্তা দিতে গিয়েছিলাম। আর সেটা হল।” প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদে মুসলিমরা ৭০ শতাংশ ও হিন্দুরা ৩০ শতাংশ বলে উল্লেখ করে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন হুমায়ুন। যা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর বেড়েছিল। পরে তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে হুমায়ুন দাবি করেন, তাঁকে ওই মন্তব্য করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
নিউটাউনের ওই হোটেলে কেন গিয়েছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে সেলিম বলেন, “ও যেখানে অবস্থান করছিল সেদিন, সেখানেই গিয়েছিলাম। আমি তখন যাদবপুরে একটা মিছিলে ছিলাম। সেখান থেকে শুনলাম, সে এসেছে। এবং আমার সঙ্গে দেখা করতে চায়। কারণ, সে ২৯ তারিখে (জানুয়ারি) একটা জনসভা করবে এবং সেখানে সবাইকে আমন্ত্রণ করবে। আমি বললাম, আমার কাছে আসার দরকার নেই। আমি নিজেই যেতে পারি। কিন্তু, তার আগে আমাকে জানতে হবে, কারা কারা মিটিংয়ে আসবে। মিটিং কেন ডাকছে? আমারও কিছু কথা বলার আছে।”
ওই সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক জানতে চান, আপনি জুম কলে বৈঠক না করে দেখা করতে কেন গেলেন? আপনি তো জানতেন বিতর্ক হবে। উত্তরে সেলিম বলেন, “এটাই তো ভালো। তা থেকে কত গল্প হয়ে গেল। কে মুখ্যমন্ত্রী হবে। কত আসন সমঝোতা হবে।” আলিমুদ্দিনে ওই বৈঠক করলেন না কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বলেন, “আলিমুদ্দিনে কেন বৈঠক করব? প্রাথমিক একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হলে আলিমুদ্দিনে ডাকি।”
হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক করতে যাবেন, একথা কি রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীকে জানিয়েছিলেন? প্রশ্ন শুনে সরাসরি কোনও উত্তর দিলেন না সেলিম। তিনি বলেন, “সিপিএম কালেক্টিভ লিডারশিপ। তোমার কি মনে হচ্ছে? না হলে আমাকে এতদিনে পার্টি থেকে বের করে দিত। নোটিস পাঠাত। ভর্ৎসনা করত। এসব করেনি। সিপিএমে সবকিছু কালেক্টিভ লিডারশিপ।” সূত্রের খবর, হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠকের পর সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীতে এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
