Ice Cream Health Risks: স্বাদে অমৃত কিন্তু স্বাস্থ্যে বিষ? গরমের স্বস্তি আইসক্রিম ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ!
Health Facts About Eating Ice Cream : অনেকেই আইসক্রিম খাওয়ার পর হঠাৎ মাথায় তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘স্পেনোপ্যালাটাইন গ্যাংলিওনিউপ্ল neuralgia’ বা সাধারণভাবে ‘ব্রেন ফ্রিজ’ বলা হয়। অত্যধিক ঠান্ডা পানীয় বা খাবার তালুর সংস্পর্শে এলে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে এই যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। এছাড়াও, অতিরিক্ত চিনি মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।

কাঠফাটা রোদে এক স্কুপ ঠান্ডা আইসক্রিম যেন স্বর্গীয় প্রশান্তি। শিশু থেকে বৃদ্ধ— গরমে আইসক্রিমের প্রলোভন সামলানো দায়। কিন্তু জিভের এই তৃপ্তি কি শরীরের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিপদ ডেকে আনছে? সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য রিপোর্ট এবং চিকিৎসকদের সতর্কতা অন্তত সেই দিকেই আঙুল তুলছে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত আইসক্রিম খাওয়ার অভ্যাস কেবল স্থূলতা নয়, বরং হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো মারণ রোগের পথ প্রশস্ত করছে।
আইসক্রিমের মূল উপাদান হল চিনি, ফ্যাট এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য। এক কাপ সাধারণ ভ্যানিলা আইসক্রিমে যে পরিমাণ চিনি থাকে, তা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সারাদিনের চিনির চাহিদার প্রায় সমান। পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত আইসক্রিম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া উচ্চ ক্যালোরি সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি দ্রুত ওজন বাড়াতে বা স্থূলতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আইসক্রিমে প্রচুর পরিমাণে ‘স্যাচুরেটেড ফ্যাট’ বা সম্পৃক্ত চর্বি থাকে। এটি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ধমনীতে চর্বি জমার ফলে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়, যা ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের জন্য আইসক্রিম কার্যত ‘সাইলেন্ট কিলার’।
অনেকেই আইসক্রিম খাওয়ার পর হঠাৎ মাথায় তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘স্পেনোপ্যালাটাইন গ্যাংলিওনিউপ্ল neuralgia’ বা সাধারণভাবে ‘ব্রেন ফ্রিজ’ বলা হয়। অত্যধিক ঠান্ডা পানীয় বা খাবার তালুর সংস্পর্শে এলে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে এই যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। এছাড়াও, অতিরিক্ত চিনি মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।
বাজারচলতি সস্তা আইসক্রিমগুলোকে আকর্ষণীয় করতে প্রচুর পরিমাণে কৃত্রিম রং এবং ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে থাকা অনেক রাসায়নিক উপাদান শিশুদের মধ্যে হাইপার-অ্যাক্টিভিটি এবং অ্যালার্জির সমস্যা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই রাসায়নিকগুলো লিভার এবং কিডনিরও ক্ষতি করতে সক্ষম।
চিকিৎসকরা আইসক্রিম পুরোপুরি ত্যাগ করতে না বললেও ‘পরিমিত’ খাওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন।
সপ্তাহে একদিনের বেশি আইসক্রিম না খাওয়াই ভালো।
কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে ‘সুগার কন্টেন্ট’ এবং ‘ফ্যাট’ দেখে নিন।
কৃত্রিম রঙের আইসক্রিম এড়িয়ে প্রাকৃতিক ফলের তৈরি আইসক্রিম বা বাড়িতে বানানো ‘ফ্রুট পপসিকল’ বেছে নিন।
যাঁদের সাইনাস বা দাঁতের শিরশিরানির সমস্যা আছে, তাঁরা অতিরিক্ত ঠান্ডা আইসক্রিম থেকে দূরে থাকুন।
গরমের আরাম যেন আজীবনের অসুখ না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে নজর রাখাই এখন বুদ্ধিমত্তার কাজ।
