AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Snake behavior facts: হাসনুহানার গন্ধে কি সত্যিই সাপ আসে? আসল রহস্য জানলে তাজ্জব বনে যাবেন

Hasnuhana flower: সন্ধ্যা নামলেই হাসনুহানার গন্ধে চারপাশ ম-ম করে। তবে এর সঙ্গে কি সত্যিই বিষধর সাপের কোনও যোগ আছে? লোকমুখের গল্প না বিজ্ঞানের যুক্তি, আসল সত্যিটা জেনে নিন। কী বলছে গবেষণা?

Snake behavior facts: হাসনুহানার গন্ধে কি সত্যিই সাপ আসে? আসল রহস্য জানলে তাজ্জব বনে যাবেন
কারণ কী?Image Credit: pinterest
| Updated on: Sep 10, 2026 | 10:36 AM
Share

হাসনুহানা ফুলের গন্ধ (Night Blooming Jasmine scent) নাকে এলেই অনেকের বুক দুরুদুরু করে ওঠে। আজও অনেকে বিশ্বাস করেন, এই কড়া মিষ্টি সুবাস নাকি টেনে আনে বিষাক্ত কেউটে বা গোখরোকে। ঠাকুমা-দিদিমাদের মুখেও কত গল্প শোনা যায় এই নিয়ে! কিন্তু সত্যিই কি ফুলের প্রেমে পড়ে সাপ ছুটে আসে, নাকি বছরের পর বছর ধরে আমরা একটা ডাহা ভুল ধারণাকেই সত্যি বলে মেনে নিয়েছি?

কী বলছে গবেষণা?

বিজ্ঞান বলছে, ব্যাপারটা পুরোপুরি উল্টো। কারণ কোনও ফুলের সুবাস উপভোগ করার ক্ষমতা সাপের ধাতেই নেই! আমাদের যেমন নাক আছে এবং তা দিয়ে আমরা গন্ধ শুঁকতে পারি, সাপের ক্ষেত্রে তা হয় না। সাপের নাকের ফুটো থাকলেও সেখান দিয়ে গন্ধ শোঁকার ব্যবস্থা নেই। খেয়াল করে দেখবেন, সাপ চলতে চলতে ঘন ঘন চেরা জিভ বার করে। বাতাসে ভেসে বেড়ানো নানা কণা এই জিভে আটকে যায়। এরপর মুখ বন্ধ করে সেই জিভটি তারা মুখের ভেতরের তালুতে থাকা একটি বিশেষ জায়গায় ছোঁয়ায়, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে ‘জ্যাকবসনস অর্গান’। এই অঙ্গটি স্রেফ চারপাশের বিপদ আর শিকারের হদিস দেয়। ফলে হাসনুহানার মিষ্টি গন্ধ আর পাঁচটা সাধারণ জিনিসের গন্ধের মধ্যে সাপ কোনও তফাতই করতে পারে না।

তা হলে কেন হাসনুহানা গাছের গোড়াতেই সাপের দেখা মেলে সবচেয়ে বেশি?

আসল বিষয়টা হল গন্ধের নয়, পেট ভরানোর! হাসনুহানা ফোটে রাতের বেলা। আর তার কড়া সুবাসে ঝাঁকে ঝাঁকে হাজির হয় নানা ধরনের নিশাচর কীটপতঙ্গ ও মথ। যেখানে এত পোকার মেলা, সেখানে তো ব্যাঙ, গিরগিটি আর টিকটিকি আসবেই। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল এক দারুণ শিকারের জায়গা! ব্যাঙ আর টিকটিকি সাপের দারুণ পছন্দের খাবার। ফলে খাবারের লোভে সাপও গুটিগুটি পায়ে সেখানে এসে হাজির হয়। আমেরিকার জীববিজ্ঞানী ডক্টর ডেভিড জিসকে পরিষ্কার জানিয়েছেন, সাপ নিরামিষ কিছুই খায় না।

দ্বিতীয় কারণটি হল সাপের থাকার আরাম। অস্ট্রেলিয়ার গবেষক ডক্টর ব্রায়ান ফ্রাইয়ের মতে, হাসনুহানা গাছ খুব ঝোপালো হয় এবং ডালপালা মাটির কাছাকাছি নুয়ে থাকে। ফলে গাছের নিচে দিনের বেলাতেও বেশ অন্ধকার, ঠান্ডা আর স্যাঁতসেঁতে একটা পরিবেশ তৈরি থাকে। সাপ শীতল রক্তের প্রাণী বলে শরীর জুড়োতে এবং পেটপুরে খাওয়ার পর নিশ্চিন্তে ঘুমোনোর জন্য এই নিরাপদ আস্তানাকেই বেছে নেয়।

তাই হাসনুহানার ঝোপে সাপ দেখাটা সত্যি হলেও, সে যে ফুলের গন্ধে পাগল হয়ে এসেছে, তা পুরোপুরি ভুল। সাপ আসে নিজের খিদের টানে আর একটু শান্তির আশ্রয়ের খোঁজে, ফুলের গন্ধে মজে নয়।

Follow Us