AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

জেনে নিন বয়স অনুযায়ী কার কতটা ঘুমনো জরুরি

যদি দেখেন শিশু পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও সারাক্ষণ ঝিমিয়ে থাকছে বা অতিরিক্ত আলস্য দেখাচ্ছে, তবে বিষয়টিকে এড়িয়ে যাবেন না। চিকিৎসকদের মতে, রক্তাল্পতা, থাইরয়েড কিংবা স্থূলত্বের কারণেও অনেক সময় অস্বাভাবিক ঘুম বা অনিদ্রা দেখা দেয়। মোবাইল বা ট্যাবের নীল আলো শরীরের ‘মেলাটোনিন’ হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়, যা ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দেয়।

জেনে নিন বয়স অনুযায়ী কার কতটা ঘুমনো জরুরি
| Updated on: Mar 11, 2026 | 7:06 PM
Share

সারা দিন বাড়ি মাথায় করে তোলার পর খুদেটি যখন শান্ত হয়ে ঘুমোয়, তখন বাবা-মায়ের মনে এক অদ্ভুত শান্তি বিরাজ করে। কিন্তু এই প্রশান্তি অনেক সময় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যদি সেই ঘুমের ঘোর আর কাটতেই না চায়। উল্টোদিকে, অনেক শিশু আবার রাতে দু’চোখের পাতা এক করতে চায় না। আসলে শৈশবের বিকাশের সঙ্গে ঘুমের এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি ‘ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের ঘুমের একটি নির্দিষ্ট মাপকাঠি বা গাণিতিক সমীকরণ রয়েছে। এই হিসেবে সামান্য এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু বড়সড় মুশকিল।

কোন বয়সে কতক্ষণ ঘুমনো উচিৎ?

গবেষণা বলছে, বাড়ন্ত বয়সে শরীর ও মস্তিষ্কের কোষ মেরামতের জন্য ঘুম হল অব্যর্থ ওষুধ। তবে এই প্রয়োজনীয়তা বয়সের সঙ্গে পাল্টায়:

সদ্যোজাত (০-৩ মাস): এই বয়সটাই ঘুমের। দিনে ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা ঘুমোলে বুঝতে হবে শিশুটি একদম সুস্থ আছে।

শিশু (৪-১১ মাস): এই সময় অন্তত ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা ঘুম দরকার। তবে খেয়াল রাখবেন ১০ ঘণ্টার কম হলে বিপদ।

টডলার (১-২ বছর): হাঁটি হাঁটি পা পা করা শিশুদের জন্য ১১ থেকে ১৪ ঘণ্টা ঘুম আদর্শ।

প্রাক-বিদ্যালয় (৩-৫ বছর): স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হওয়ার এই পর্বে ১০ থেকে ১৩ ঘণ্টা ঘুম অত্যন্ত জরুরি।

স্কুল পড়ুয়া (৬-১৩ বছর): পড়াশোনা ও খেলাধুলোর চাপে এই বয়সেই ঘুমের ঘাটতি বেশি হয়। অন্তত ৯ ঘণ্টা গভীর ঘুম ছাড়া এদের মস্তিষ্কের বিকাশ ঠিকমতো হয় না। কিশোর-কিশোরী (১৪-১৭ বছর): বয়ঃসন্ধির এই সময়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম আবশ্যিক।

ঘুমের আড়ালে লুকিয়ে কোন রোগ?

যদি দেখেন শিশু পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও সারাক্ষণ ঝিমিয়ে থাকছে বা অতিরিক্ত আলস্য দেখাচ্ছে, তবে বিষয়টিকে এড়িয়ে যাবেন না। চিকিৎসকদের মতে, রক্তাল্পতা, থাইরয়েড কিংবা স্থূলত্বের কারণেও অনেক সময় অস্বাভাবিক ঘুম বা অনিদ্রা দেখা দেয়। মোবাইল বা ট্যাবের নীল আলো শরীরের ‘মেলাটোনিন’ হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়, যা ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দেয়।

অভিভাবকদের জন্য কিছু বিশেষ টিপস

নির্দিষ্ট রুটিন: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করান।

পরিবেশ: শোয়ার ঘর যেন ঠান্ডা ও আরামদায়ক হয়। নিয়মিত বিছানার চাদর ও বালিশ পরিষ্কার রাখুন।

গ্যাজেট থেকে দূরে: শোয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল গ্যাজেট বন্ধ করে দিন।

খাদ্যাভ্যাস: রাতে অতিরিক্ত মশলাদার বা চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ধ্যান ও শরীরচর্চা: শিশুকে দিনে অন্তত কিছুক্ষণ শরীরচর্চা করতে দিন এবং রাতে শোয়ার আগে মিনিট পাঁচেক শান্ত হয়ে মেডিটেশন করালে ঘুমের সমস্যার সমাধান হবে।

Follow Us