AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Job offer: ভুতুড়ে বাড়িতে এক রাত কাটালেই পকেট গরম! করবেন নাকি এই চাকরি?

Haunted House Job: রেডিট-লিঙ্কড ইন-এর সৌজন্যে ভূত খোঁজার চাকরির খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেট দুনিয়ায় হইচই। অনেকেই ভাবছেন, জাপানে গিয়ে এই পার্ট-টাইম চাকরি করলে কেমন হয়? মাইনেও বেশ ভাল। কিন্তু বাস্তবটা বেশ কঠিন। প্রথমত, এটি কোনও সাধারণ বা সাদামাটা কাজ নয়, রিয়েল এস্টেট এজেন্সির পেশাদার চুক্তি।

Job offer: ভুতুড়ে বাড়িতে এক রাত কাটালেই পকেট গরম! করবেন নাকি এই চাকরি?
| Updated on: Jul 21, 2026 | 4:56 PM
Share

আচ্ছা, যদি আপনাকে বলা হয় এক রাতের জন্য একটা বাড়িতে থাকতে হবে, আর তার বদলে মিলবে মোটা অঙ্কের টাকা? ভুতুড়ে বাড়িতে এক রাত কাটাতে পারলে পকেটে ঢুকবে ৮৮ হাজার ইয়েন বা প্রায় ৫২ হাজার টাকা।

রাজি হয়ে যাবেন নিশ্চয়ই? কিন্তু টুইস্টটা অন্য জায়গায়! যদি শোনেন, সেই বাড়িতেই কিছুদিন আগে ঘটে গিয়েছে কোনও রহস্যময় মৃত্যু বা আত্মহত্যা? আর আপনাকে সেখানে পাঠানো হচ্ছে এটা পরীক্ষা করতে যে, বাড়িটা আদেও ‘ভুতুড়ে’ কি না! কল্পনা মনে হলেও, খোদ জাপানে এটাই এখন কোটি কোটি টাকার ব্যবসা। যেখানে ‘ভূত নেই’— এই প্রমাণ দেওয়ার জন্য রীতিমতো লোক ভাড়া করা হচ্ছে। আজ আপনাদের বলব, জাপানের এই অদ্ভুত ‘জিকো বুক্কেন’ বা অভিশপ্ত বাড়ির গল্প।

টোকিও বা ওসাকার মতো ঝাঁ-চকচকে শহরের বুকেও লুকিয়ে রয়েছে এক অন্য অন্ধকার। জাপানি ভাষায় একে বলা হয় ‘জিকো বুক্কেন’। সহজ বাংলায় ‘দুর্ঘটনাগ্রস্ত সম্পত্তি’ বা ‘অভিশপ্ত বাড়ি’। এমন কোনও ফ্ল্যাট বা বাড়ি, যেখানে অতীতে কোনও খুন, আত্মহত্যা বা নিঃসঙ্গ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। জাপানি সমাজে বিশ্বাস, এই সব বাড়িতে বাসা বাঁধে অশুভ আত্মা। ফলে, ভয়ে এই সব বাড়ি কেউ ভাড়া নিতে চান না, ল্যান্ড-লর্ডরা পড়েন চরম লোকসানে। আর এই সমস্যার সমাধান করতেই বাজারে এসেছে এক নতুন পেশা— প্রফেশনাল ‘Ghost Investigator’ বা ভূত-পরীক্ষক।

না, এঁরা কোনও ওঝা বা তান্ত্রিক নন। এঁরা হলেন আধুনিক যুগের ‘Ghost Investigator’। বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট এজেন্সি এখন এমন কিছু সাহসী কর্মী নিয়োগ করছে, যাঁদের কাজই হলো এই অভিশপ্ত বাড়িগুলোতে রাত কাটানো। রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা— ঘড়ির কাঁটা ধরে চলে এই ডিউটি। কিন্তু শুধু ঘুমোলেই তো আর প্রমাণ হয় না যে ভূত নেই! তাই এঁদের হাতিয়ার বিজ্ঞান।

কিভাবে ভুতের অস্তিত্ব খোঁজা হয়?

অন্ধকার ঘরে বসানো হয় নাইট-ভিশন সিসিটিভি ক্যামেরা

অতি সূক্ষ্ম শব্দ ধরার জন্য থাকে ভয়েস রেকর্ডার

প্রতিটি ঘরে পায়ে হেঁটে দেখা হয় অস্বস্তি অনুভূত হচ্ছে কি না

ঘরের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাচ্ছে কি না, মাপতে থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা

বাতাসের তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ মাপার জন্য থাকে ইএমএফ (EMF) মিটার

এভাবে সারা রাত ধরে চলে এই বৈজ্ঞানিক নজরদারি। যদি কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা না ঘটে, তবেই মেলে স্বস্তির নিঃশ্বাস। সকালে ল্যান্ডলর্ড বা এজেন্সির হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি ‘হন্ট-ফ্রি সার্টিফিকেট’ বা ‘ভূত-মুক্তির শংসাপত্র’। এই কাগজ হাতে পাওয়ার পরই সাধারণ মানুষ আবার সেই বাড়ি ভাড়া নিতে সাহস পান। আসলে জাপানিরা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই সার্টিফিকেট তাঁদের মানসিক শান্তি দেয় যে বাড়িটি এখন নিরাপদ। পরিবার নিয়ে থাকার যোগ্য।

তবে রেডিট-লিঙ্কড ইন-এর সৌজন্যে ভূত খোঁজার চাকরির খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেট দুনিয়ায় হইচই। অনেকেই ভাবছেন, জাপানে গিয়ে এই পার্ট-টাইম চাকরি করলে কেমন হয়? মাইনেও বেশ ভাল। কিন্তু বাস্তবটা বেশ কঠিন। প্রথমত, এটি কোনও সাধারণ বা সাদামাটা কাজ নয়, রিয়েল এস্টেট এজেন্সির পেশাদার চুক্তি। দ্বিতীয়ত, জাপানি ভাষায় তুখোড় না হলে এই ফিল্ডে কাজ পাওয়া অসম্ভব। আর সবচেয়ে বড় বাধা জাপানের কঠোর ভিসা নিয়ম। তবে হ্যাঁ, যাঁরা কম খরচে জাপানে থাকতে চান, তাঁদের জন্য একটা দারুণ সুযোগ রয়েছে। এই ‘জিকো বুক্কেন’ বা চিহ্নিত ফ্ল্যাটগুলোর ভাড়া স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ কম হয়। ভূতকে ভয় না পেলে, পকেটের পয়সা বাঁচানোর এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর হয় না!

বিজ্ঞানের যুগে দাঁড়িয়েও বিশ্বাসের ওপর ভর করে কীভাবে একটা নতুন ব্যবসা গড়ে উঠতে পারে, জাপানের এই ‘জিকো বুক্কেন’ তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। ভূত থাকুক বা না থাকুক, মনের ভয় দূর করার এই কর্পোরেট দাওয়াই কিন্তু বেশ সাড়া ফেলেছে সূর্যোদয়ের দেশে।

Follow Us