Gallbladder Stone: রোজ এই খাবার খান? পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার আগে সাবধান!
Scientific evidence on Gallbladder Stone: গলায় বা পিঠের ডান দিকে হঠাৎ তীব্র যন্ত্রণা? হতে পারে আপনার পিত্তথলি বা গ্ললব্লাডারে বাসা বেঁধেছে পাথর। ডায়েট থেকে আজই বাদ দিন এই ৫টি খাবার। জেনে নিন সুস্থ থাকার সহজ উপায়। কী বলছে গবেষণা?

গলায় বা পিঠের ডান দিকে হঠাৎ তীব্র যন্ত্রণা? হতে পারে আপনার পিত্তথলি বা গ্ললব্লাডারে বাসা বেঁধেছে পাথর। বর্তমান সময়ে অনিয়মিত জীবনযাপন আর খাদ্যাভ্যাসের কারণে এই সমস্যা ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, লিভারের ঠিক নিচেই থাকা এই ছোট অঙ্গটি হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কিন্তু অজান্তে করা কিছু ভুল এই অঙ্গটিকেই অকেজো করে দেয়। মনে রাখবেন, অবহেলা করলে অপারেশন ছাড়া গতি থাকে না। অনেকেরই ধারণা, চর্বিযুক্ত খাবারই বোধহয় একমাত্র শত্রু। কিন্তু হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং এবং ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল (BMJ)-এর বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে কিছু চমকপ্রদ তথ্য। পিত্তথলি থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়ার আগে আপনার খাবার রুটিনে দেওয়া জরুরি।
গবেষণা কী বলছে? (Scientific Evidence)
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পিত্তথলির প্রায় ৮০ শতাংশ পাথরই হল কোলেস্টেরল স্টোন। যখন যকৃৎ বা লিভার থেকে পিত্তরসে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল নিঃসৃত হয় এবং তা ঠিকমতো দ্রবীভূত হতে পারে না, তখনই তা স্ফটিকের আকার নেয়। ‘আমেরিকান জার্নাল অফ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি’-র একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, যারা অতিরিক্ত চিনি এবং পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট (Refined Carbs) বেশি খান, তাদের পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা অন্তত ২০-৩০ শতাংশ বেশি।
কী কী ভুলে এই রোগের কবলে পড়তে পারেন?
চিনি বা অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই ইনসুলিন লিভারকে আরও বেশি কোলেস্টেরল তৈরি করতে প্ররোচিত করে। ফলে পিত্তরসের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং দ্রুত পাথর জমতে শুরু করে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা প্রতিদিনের ডায়েটে পর্যাপ্ত শাকসবজি বা গোটা দানা শস্য (Whole Grains) রাখেন না, তাদের পিত্তথলি অলস হয়ে পড়ে। ফাইবার শরীরে পিত্তরসের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
বিস্কুট, প্যাটিস বা হোয়াইট ব্রেড—এসব খাবারে থাকা ‘ট্রান্স ফ্যাট’ পিত্তরসের রাসায়নিক গঠন বদলে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে পিত্তথলিকে একটি ‘পাথরের খনি’তে পরিণত করে।
রেড মিট বা লাল মাংসে থাকা অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম ও ফ্যাট পিত্তরসে থাকা লবণের সঙ্গে বিক্রিয়া করে শক্ত হয়ে যায়। বিশেষ করে মাছ বা মুরগির তুলনায় যারা অতিরিক্ত খাসি বা গরুর মাংস খান, তাদের ক্ষেত্রে পিত্তথলিতে ইনফ্লামেশন বা প্রদাহের ঝুঁকি বেশি।
মাত্রাতিরিক্ত কফি লিভারের উপর চাপ সৃষ্টি করে, অন্যদিকে সোডাযুক্ত পানীয় বা সফ্ট ড্রিংকসে থাকা ফসফরিক অ্যাসিড পাথরের আয়তন বাড়াতে অনুঘটকের কাজ করে।
বাঁচার উপায় কী?
গবেষকদের পরামর্শ হল, ডায়েটে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল, বাদাম এবং অলিভ অয়েলের মতো ভালো ফ্যাট যোগ করা। মনে রাখবেন, গ্ললব্লাডারের পাথর শুধু যন্ত্রণা দেয় না, এটি শরীরের হজম প্রক্রিয়ার ভিত নাড়িয়ে দেয়। তাই অস্ত্রোপচার এড়াতে আজই আপনার প্লেট থেকে চিনি ও ময়দাকে বিদায় জানান।
