দীর্ঘক্ষণ একই জায়গায় বসে কাজ করছেন? জানেন শরীরে কী ঘটছে?
ল্যাপটপের দিকে ঝুঁকে থাকা, ঘাড় এগিয়ে কাজ করা—এই অভ্যাসে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ পড়ে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারে ঘাড়ে ব্যথার ঝুঁকি প্রায় ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। কয়েক ঘণ্টা একই ভঙ্গিতে বসে থাকলে সেই চাপ আরও বাড়ে।

ওয়ার্ক ফর্ম হোম হোক বা অফিস ওয়ার্ক,সকাল বেলায় চেয়ারে বসেছেন। ল্যাপটপ খুলেছেন। তারপর একের পর এক মিটিং, সময়সীমা, রিপোর্ট। চোখ তুলতেই সন্ধ্যা। শরীর ক্লান্ত, কোমর ব্যাথা কিন্তু জানেন কি, শুধু শরীর নয়, আপনার ব্রেনের কতটা ক্ষতি হচ্ছে?
মুম্বইয়ের নিউরোলজিস্ট ডা. সচিন আডুকিয়ার কথায়, দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা এখন তরুণ চাকরিজীবীদের জন্য বিপদ হয়ে উঠেছে। এটি শুধু ঘাড়-কোমরের ব্যথা নয়, মনোযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলছে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, টানা তিন ঘণ্টা বসে থাকলে মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল অংশে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়েছে। এই অংশই আমাদের পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত ও মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ করে। হঠাৎ বড় সমস্যা না হলেও দিনের শেষে মন খারাপ লাগা, কাজের গতি কমে যাওযার মত সমস্যা দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকায় শরীরে গ্লুকোজের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, রক্তচাপ ওঠানামা করে। ফলে মস্তিষ্ক আদর্শ পরিবেশে কাজ করতে পারে না।
ল্যাপটপের দিকে ঝুঁকে থাকা, ঘাড় এগিয়ে কাজ করা—এই অভ্যাসে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ পড়ে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারে ঘাড়ে ব্যথার ঝুঁকি প্রায় ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। কয়েক ঘণ্টা একই ভঙ্গিতে বসে থাকলে সেই চাপ আরও বাড়ে। এটি শুধু অস্বস্তি নয় দীর্ঘমেয়াদে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং কাজের মান কমে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ডেস্কে বসে কাজ মানেই আরাম—এই ধারণা ভুল বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ সময় বসে উচ্চ মানসিক চাপে কাজ করলে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। রক্তচাপ বেড়ে যায়, স্নায়বিক চাপ বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে স্মৃতি ও চিন্তাশক্তির ক্ষেত্রে।
প্রতি ২০–৩০ মিনিট অন্তর ২–৩ মিনিট দাঁড়ান বা হাঁটুন স্ক্রিন চোখের সমতলে রাখুন সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা করুন দীর্ঘ সময় এক ভঙ্গিতে বসে থাকবেন না
