ভালো ইলিশ-চিংড়ি চেনার এই টেকনিকটা জানেন?
ভাপা, সর্ষে কিংবা পাতুরি—ইলিশের নাম শুনলেই বাঙালির জিভে জল চলে আসে। আর তার সঙ্গে যদি থাকে গলদা বা বাগদার মালাইকারি, তবে তো কথাই নেই! কিন্তু সাধের এই ভোজ মাঝেমধ্যেই মাটি হয়ে যায়, যখন চড়া দাম দিয়ে বাজার থেকে কিনে আনা মাছ রান্নার পর চেনা স্বাদ বা সুবাস হারায়। চকচকে রূপোলী ইলিশ কিংবা বড় সাইজের চিংড়ি দেখলেই কি তা টাটকা?

বর্ষার মেঘ জমলেই বাঙালির মন চঞ্চল হয়ে ওঠে সর্ষে ইলিশ কিংবা চিংড়ির মালাইকারির জন্য। কিন্তু বাজারে গিয়ে বিক্রেতার চমৎকার কথায় ভুলে পকেট খালি করে পচা বা হিমঘরে দীর্ঘদিন রাখা মাছ কিনে ফেলার দিন এবার শেষ। মাছের বাজারে ঠকে যাওয়া থেকে বাঁচতে দেখে নিন কীভাবে চিনবেন সেরা মাছ।
ইলিশ চেনার ৫টি মোক্ষম টেকনিক- মাছের বাজারে পদ্মার ইলিশ বা কোলাঘাটের ইলিশ বলে দেদার বিক্রেতারা হাঁক ছাড়েন। কিন্তু কোনটা খাঁটি, বুঝবেন এই লক্ষণগুলো দেখে—
নাকের কাছে লালচে আভা: টাটকা ইলিশের মুখ বা নাকের চারপাশটা একটু লালচে বা গোলাপি রঙের হয়। যদি দেখেন এই অংশটি ধূসর বা ফ্যাকাশে, তবে বুঝবেন মাছটি টাটকা নয়।
চোখের মণি: সবচেয়ে সহজ উপায় হল ইলিশের চোখের দিকে তাকানো। টাটকা ইলিশের চোখ হবে একদম উজ্জ্বল, স্বচ্ছ এবং সজীব। হিমঘরে দীর্ঘদিন জমে থাকা ইলিশের চোখ ভেতরের দিকে বসে যায় এবং তা ঘোলাটে বা লালচে দেখায়।
মাছের শরীর ও শক্ত ভাব: টাটকা ইলিশ হাতে নিলে তা একদম সোজা এবং শক্ত থাকবে। যদি মাছটি হাতে নেওয়ার পর ধনুকের মতো বেঁকে ঝুলে পড়ে, তবে বুঝতে হবে এটি কোল্ড স্টোরেজের বা বরফে অনেকদিন ধরে রাখা বাসি মাছ।
পেটের গড়ন ও ল্যাজা: ভালো ইলিশ চেনার আরও একটি বড় উপায় হল তার ল্যাজার দিকটা সরু এবং পেটের অংশটি চওড়া ও গোলগাল হবে। আঙুল দিয়ে পেটে চাপ দিলে যদি নরম লাগে বা গর্ত হয়ে যায়, তবে সেই মাছ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
টাটকা ইলিশের গায়ে রুপোর মতো চকচকে আভা থাকবে, যা রোদে বা আলোয় ধরলে ঠিকরে বেরোবে।
টাটকা চিংড়ি চেনার সহজ উপায়:
বাগদা হোক বা গলদা, চিংড়ি মাছ চেনার ক্ষেত্রে একটু অসতর্ক হলেই পেটের গোলমাল নিশ্চিত। তাই কেনার আগে খেয়াল রাখুন এই বিষয়গুলো—
খোসার শক্ত ভাব: টাটকা চিংড়ির খোসা বা কঙ্কালটি হবে বেশ শক্ত এবং চকচকে। যদি হাত দিয়ে দেখেন খোসা নরম বা গা-টা স্পঞ্জের মতো হয়ে গেছে, তবে সেই চিংড়ি ভুলেও কিনবেন না।
মাথা ও শরীরের সংযোগ: চিংড়ির মাথা এবং শরীর যেন শক্তভাবে জুড়ে থাকে। অনেক সময় বাসি চিংড়ির মাথা আলগা হয়ে ঝুলে থাকে বা সামান্য টানলেই ভেঙে যায়। এটি মাছ বাসি হওয়ার অন্যতম বড় লক্ষণ।
রঙের দিকে নজর: গলদা চিংড়ির ক্ষেত্রে মাথা ও ল্যাজার রং হালকা নীলচে-সবুজ বা ধূসর হবে। অন্যদিকে বাগদার গায়ে কালো ও হলুদের ডোরাকাটা দাগগুলো স্পষ্ট থাকবে। যদি চিংড়ির গায়ে কোনও কালচে বা লালচে ছোপ (Melanosis) দেখা যায়, তবে বুঝবেন সেটি পচতে শুরু করেছে।
বাঁকানো শরীর: টাটকা চিংড়ি সাধারণত ইংরেজি ‘C’ অক্ষরের মতো কিছুটা বাঁকানো থাকে। যদি চিংড়ি একদম সোজা এবং টানটান হয়ে থাকে, তবে অনেক সময় বুঝতে হবে রাসায়নিক দিয়ে তার আয়ু বাড়ানোর চেষ্টা হয়েছে।
মাছ কেনার সময় শুধু দেখার ওপর ভরসা না রেখে গন্ধের ওপরও জোর দিন। টাটকা ইলিশের গা থেকে একটা মিষ্টি নোনতা জলের সুবাস বেরোবে, যা কোনোভাবেই তীব্র বা আঁশটে হবে না। একইভাবে চিংড়ি থেকেও কোনো ঝাঁঝালো বা অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ পাওয়া গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করুন।
এবার এই সহজ টেকনিকগুলো মাথায় রেখে বাজারে যান, বিক্রেতারাও আপনার জহুরি চোখ দেখে থমকে যেতে বাধ্য হবে!
