Purulia in Monsoon: এই বর্ষায় লং উইকএন্ড কাটুক দক্ষিণবঙ্গের পাহাড়ে, ৪ দিনের জন্য প্ল্যান করুন অযোধ্যা-জয়চণ্ডী
West Bengal Tourism: রাস্তার দু'পাশে যেসব শাল, পলাশ, শিমুলের গাছ রয়েছে, সেখানে ফুলের দেখা মিলবে না। কিন্তু সবুজের কোনও খামতি নেই বর্ষার পুরুলিয়ায়। তার সঙ্গে পুরুলিয়ার পাহাড়ের মাথায় ভিড় করে থাকবে কালো মেঘ। চারিদিকে বৃষ্টিভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ।

সুজলা, সুফলা পুরুলিয়া। পাহাড়-জঙ্গল নিয়ে সবুজে মোড়া বাংলার এই জেলা। তাই তো উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি পুরুলিয়াতেও পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। বিশেষত উইকএন্ডে। সপ্তাহান্তের ছুটিতে অনেকেই বেছে নেন অযোধ্যা, বড়ন্তি, মুরগুমা, জয়চণ্ডী, গড় পঞ্চকোট, খয়রাবেড়া। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শীত কিংবা বসন্তকেই বেছে নেওয়া হয় পুরুলিয়ায় বেড়াতে যাওয়ার জন্য। এখন ক্যালেন্ডারে বর্ষাকাল। সেই অর্থে বৃষ্টির দেখা না মিললেও, এই ঋতুতেই আপনি প্ল্যান করতে পারেন পুরুলিয়া ভ্রমণের।
রাস্তার দু’পাশে যেসব শাল, পলাশ, শিমুলের গাছ রয়েছে, সেখানে ফুলের দেখা মিলবে না। কিন্তু সবুজের কোনও খামতি নেই বর্ষার পুরুলিয়ায়। তার সঙ্গে পুরুলিয়ার পাহাড়ের মাথায় ভিড় করে থাকবে কালো মেঘ। চারিদিকে বৃষ্টিভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ। এসব নিয়েই বর্ষার পুরুলিয়া। ঘন সবুজ জঙ্গল আর পাহাড় ছাড়াও এই জেলায় রয়েছে জলাধার, জলপ্রপাত। সেগুলোও বৃষ্টির দিনে ফুলেফেঁপে ওঠে। আর তার সঙ্গে পাখিদের কলতান। তাছাড়া পুরুলিয়ার পাহাড়ে বর্ষায় বেড়াতে গেলে কোনও ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে না আপানেক।
জুলাইতে কোনও ছুটি নেই। কিন্তু অগস্টেই রয়েছে লং উইকএন্ড। ১৫ অগস্ট, মঙ্গলবার ছুটি। তার আগে একটা উইকএন্ড। শুধু ম্যানেজ করতে হবে সোমবার। ব্যস, তাহলেই বর্ষায় পুরুলিয়া ভ্রমণ ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। বর্ষায় পুরুলিয়ায় রুক্ষ-শুষ্ক প্রান্তর ভরে ওঠে সবুজে। উড়ো মেঘে বৃষ্টি যেমন অসময়ে মন ভাল করে দিতে পারে, তেমনই পুরুলিয়ায় সবুজ আপনার চোখকে আরাম ও প্রশান্তি দিতে পারে।
কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়ে ভোর-ভোর পেরিয়ে পড়ুন। দিল্লি ধরে দুর্গাপুর বা আসানসোল হয়ে পৌঁছে যান পুরুলিয়া। গাড়িতে গুগল ম্যাপ খুলে রাখতে পারেন। খুব বেশি হলেও সাড়ে ৬ ঘণ্টা লাগবে গাড়িতে। লং ড্রাইভে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য দাঁড়াতে পারেন শক্তিগড় ও আসানসোলে। আগে থেকেই যদি হোটেল বুক করে রাখেন, তাহলে ঝক্কি আরও কমে গেল। পাশাপাশি পুরুলিয়ার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর লিস্ট বানিয়ে নিন। সেই মতো ঘুরে ফেলুন অযোধ্যা ও গড় সার্কিট।
দু’দিন হাতে নিয়ে ঘুরে দেখুন গড় সার্কিট। গড় সার্কিটের মধ্যে ঘুরতে পারবেন কাশিপুর রাজবাড়ি, জয়চণ্ডী পাহাড়, গড় পঞ্চকোট, বড়ন্তি, পাঞ্চেৎ ড্যাম, শুশুনিয়া পাহাড়। প্রথম দিনে, যেতে পারেন রাজবাড়ি, জয়চণ্ডী পাহাড়ের উপর থাকা মন্দিরে, গড় পঞ্চকোট। পরের দিন যেতে পারেন পাঞ্চেৎ ড্যাম আর বড়ন্তি। ইচ্ছা হলে রাতও কাটাতে পারেন বড়ন্তিতে। তার পরদিন বেড়িয়ে পড়ুন অযোধ্যা সার্কিটের উদ্দেশ্যে। সেখানে ঘুরে দেখতে পারেন মার্বেল লেক, খয়রাবেড়া, বামনি জলপ্রপাত, আপার ড্যাম, লোয়ার ড্যাম, মুখোশ গ্রাম ইত্যাদি।
