Dry mouth remedies: ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ শুকিয়ে থাকে? সাবধান! এই রোগের কারণ নয়তো?
Morning dry mouth causes: ঘুম ভাঙলেই মনে হয় জিভ তালুতে আটকে গিয়েছে? রাতে এসির হাওয়া নাকি অন্য কোনও রোগ, কেন শুকিয়ে যায় মুখের ভেতর? কখন সতর্ক না হলে দাঁত ও মাড়ির বড় ক্ষতি হতে পারে।

শুকনো মুখ (Dry Mouth) নিয়ে সকালে চোখ মেলা যে কতটা অস্বস্তিকর, তা যাঁদের এই সমস্যা হয়, তাঁরাই জানেন। ঘুম ভাঙতেই মনে হয় মুখের ভেতরটা মরুভূমি, জিভ যেন ওপরের তালুর সঙ্গে সেঁটে রয়েছে আর এক ঢোক জল না খেলে প্রাণ ওষ্ঠাগত! শীতকালে বা এসির হাওয়ায় এমনটা মাঝেমধ্যে হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এটা যদি আপনার রোজকার সকালের অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায়, তবে চিন্তার বিষয়। অনেকেই ভাবেন, ঘরে একটা হিউমিডিফায়ার বসালেই কেল্লাফতে। কিন্তু সত্যি কি তাই?
আইএসআইসি মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. যতীন অরোরা পরিষ্কার জানাচ্ছেন, সমস্যাটি কেন হচ্ছে, তা না জেনে সমাধান করা অসম্ভব। বাতাসের শুষ্কতা দূর করতে হিউমিডিফায়ার দারুণ কাজ করলেও সব ক্ষেত্রে এটি সমাধান নয়।
কেন শুকিয়ে যায় মুখের ভেতরটা?
ঘুমের মধ্যে মুখের লালা তৈরি কমে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকে:
মুখ হাঁ করে ঘুমানো ও নাক ডাকা: রাতে নাকের বদলে মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে মুখের ভেতরের সব আর্দ্রতা নিমেষেই উবে যায়।
শরীরে জলের অভাব: সারাদিনে পর্যাপ্ত জল না খেলে শরীর ভেতর থেকে শুকিয়ে যায়।
ওষুধের প্রভাব ও রোগ: প্রেশার, অ্যালার্জি বা কিছু কড়া ওষুধের কারণে লালা কম তৈরি হয়। এছাড়া ডায়াবেটিস বা অটোইমিউন রোগের ফলেও এমনটা হতে পারে।
হিউমিডিফায়ার কি আদৌ কাজ করে?
- ঘরের শুকনো বাতাসের জন্য মুখ শুকোলে এই যন্ত্র বাতাসে জলীয় বাষ্প বাড়িয়ে আরাম দেয়।
- তবে নাক ডাকার অভ্যাস, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ভেতরের অসুখ থাকলে হিউমিডিফায়ার কিন্তু কোনও কাজে আসবে না।
- ব্যবহার করলে ঘরের আর্দ্রতা যেন ৪০ থেকে ৬০ শতাংশের বেশি না বাড়ে, নইলে ঘরে ক্ষতিকর ছত্রাক জন্মাতে পারে।
দাঁতের কি বড় ক্ষতি হতে পারে?
অনেকেই এটাকে সামান্য বিষয় ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু মুখের লালা হল দাঁতের প্রাকৃতিক ঢাল। লালা কমে গেলে যা হতে পারে:
- দাঁতে দ্রুত ক্যাভিটি বা পোকা লাগা।
- মাড়ির অসুখ ও ইনফেকশন বেড়ে যাওয়া।
- মুখে তীব্র দুর্গন্ধ হওয়া।
- খাবার চিবোতে বা গিলতে কষ্ট হওয়া।
সপ্তাহের পর সপ্তাহ যদি এমন সমস্যা চলতেই থাকে, তবে ঘরে বসে টোটকা না খুঁজে সোজা একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
