AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

সত্যিই কি পতির পুণ্যে সতীর পুণ্য হয়? প্রেমানন্দ মহারাজ বলছেন…

তিনি স্বামীর সুখ-দুঃখ এবং পুণ্যের সমান অংশীদার। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক—স্বামীর পুণ্যের ভাগ স্ত্রী পেলেও, স্ত্রীর অর্জিত পুণ্যের ফল কেন স্বামী পান না? সম্প্রতি বৃন্দাবনের প্রখ্যাত সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজের কাছে এক ভক্ত এই প্রশ্নটিই রেখেছিলেন। মহারাজ তাঁর চিরাচরিত যৌক্তিক ও আধ্যাত্মিক ভঙ্গিতে এই সংশয়ের নিরসন করেছেন।

সত্যিই কি পতির পুণ্যে সতীর পুণ্য হয়? প্রেমানন্দ মহারাজ বলছেন...
| Updated on: Jan 05, 2026 | 4:40 PM
Share

হিন্দু ধর্মে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে কেবল একটি সামাজিক চুক্তি নয়, বরং জন্ম-জন্মান্তরের বন্ধন হিসেবে দেখা হয়। স্ত্রীকে বলা হয় স্বামীর ‘অর্ধাঙ্গিনী’, অর্থাৎ তিনি স্বামীর সুখ-দুঃখ এবং পুণ্যের সমান অংশীদার। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক—স্বামীর পুণ্যের ভাগ স্ত্রী পেলেও, স্ত্রীর অর্জিত পুণ্যের ফল কেন স্বামী পান না? সম্প্রতি বৃন্দাবনের প্রখ্যাত সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজের কাছে এক ভক্ত এই প্রশ্নটিই রেখেছিলেন। মহারাজ তাঁর চিরাচরিত যৌক্তিক ও আধ্যাত্মিক ভঙ্গিতে এই সংশয়ের নিরসন করেছেন।

প্রেমানন্দ মহারাজ জানান, বিবাহের ‘পাণিগ্রহণ’ সংস্কারের মধ্যেই এই ব্যবস্থার মূল ভিত্তি নিহিত রয়েছে। বিবাহের সময় নিয়ম অনুযায়ী স্বামীর হাত নিচে এবং স্ত্রীর হাত উপরে থাকে। আধ্যাত্মিক প্রেক্ষাপটে এর অর্থ হলো—স্বামী সেদিন এই সংকল্প গ্রহণ করেন যে, “আজ থেকে আমি তোমার (স্ত্রীর) যাবতীয় ভার ও দায়িত্ব গ্রহণ করলাম।” স্বামীর এই নি নিঃস্বার্থ দায়িত্ববোধ ও সমর্পণের কারণেই শাস্ত্র অনুযায়ী স্ত্রী স্বামীর অর্ধেক পুণ্যের স্বয়ংক্রিয় অধিকারী হয়ে যান।

মহারাজজীর মতে, একজন নারী তাঁর নিজের ঘর, পরিবার ও সর্বস্ব ত্যাগ করে স্বামীর সংসারে আসেন। স্বামীর জীবনকে সুগম ও সুন্দর করতে তিনি ঘরের যাবতীয় ব্যবস্থা ও নিরলস সেবা করেন। স্বামী যখন কোনো তীর্থযাত্রা, দান বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান করেন, তার পেছনে স্ত্রীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা থাকে। শাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, স্বামীর দ্বারা সম্পাদিত যেকোনো শুভ কাজের অর্ধেক ফল তাই স্ত্রীর প্রাপ্য হিসেবে গণ্য হয়।

স্ত্রীর পুণ্য স্বামী কেন পান না? এখানে মহারাজজী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, যদি স্বামী অধর্মী হন বা ভুল পথে চলেন এবং স্ত্রী নীরবে নিজের জপ-তপ ও ভক্তি চালিয়ে যান, তবে সেই পুণ্যের ফল স্বামী পাবেন না। এমন ক্ষেত্রে স্বামী তাঁর কর্মফল অনুযায়ী দুর্গতি প্রাপ্ত হবেন, কিন্তু স্ত্রী নিজের ভক্তির জোরে পরম কল্যাণ লাভ করবেন।

তবে এর একটি বিশেষ দিকও আছে—স্বামী যদি নিজে ধর্মপ্রাণ ও ভজনশীল হন এবং স্ত্রী যদি নিঃস্বার্থভাবে তাঁর সেবা ও আজ্ঞা পালন করেন, তবে স্বামীর ভজনপ্রভাবে স্ত্রীরও উদ্ধার হয়। অর্থাৎ, পুণ্য ভাগ করা সম্ভব হলেও আধ্যাত্মিক উন্নতি অনেকটাই ব্যক্তিগত সাধনার ওপর নির্ভর করে।

পাপ ও দণ্ডের বিধান পুণ্যের ভাগাভাগি নিয়ে শাস্ত্রীয় উদারতা থাকলেও পাপের ক্ষেত্রে নিয়ম অত্যন্ত কঠোর। প্রেমানন্দ মহারাজের মতে, পাপের ফল প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবেই ভোগ করতে হয়। স্ত্রীর পাপের দণ্ড স্বামী পাবেন না, আবার স্বামীর পাপের ফলও স্ত্রী ভোগ করবেন না—যদি না তাঁরা একে অপরের ভুল কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।