AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Guru Purnima 2026:জানেন কেন পালন করা হয় গুরু পূর্ণিমা? গুরুর আশীর্বাদ পেতে করুন এই কাজ

Importance of Guru: গুরু পূর্ণিমা কেন আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় একটা দিন, জানেন? টাকাপয়সা বা গাড়ি-বাড়ি হয়তো সাময়িক সুখ দিতে পারে, কিন্তু গুরুর আশীর্বাদ দেয় সারাজীবনের সঠিক পথ। ধর্মশাস্ত্রে গুরু পূর্ণিমার গুরুত্ব ঠিক কতটা? জেনে নিন কেন শাস্ত্রমতে গুরুর আশীর্বাদকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি ও সম্পদ বলে মনে করা হয়।

Guru Purnima 2026:জানেন কেন পালন করা হয় গুরু পূর্ণিমা? গুরুর আশীর্বাদ পেতে করুন এই কাজ
এই বিশেষ দিনের মাহাত্ম্য কী?Image Credit: Free pik
| Updated on: Jul 29, 2026 | 11:46 AM
Share

আজকের যুগে দাঁড়িয়ে আমাদের সবারই স্বপ্ন থাকে প্রচুর টাকা রোজগার করার, একটা সুন্দর গাড়ি বা বাড়ি তৈরি করার। কিন্তু এই সবকিছুর উপরেও এমন একটা জিনিস রয়েছে, যাকে ধর্মশাস্ত্রে জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ বলা হয়েছে। সেটা হল গুরুর আশীর্বাদ। আজ ২৯ জুলাই, দেশজুড়ে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হচ্ছে গুরু পূর্ণিমা (Guru Purnima)। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, প্রাচীন শাস্ত্র এবং উপনিষদে কেন গুরুর স্থানকে সব কিছুর উপরে রাখা হয়েছে?

আমাদের সনাতন সংস্কৃতি এবং ধর্মশাস্ত্রে গুরুকে কেবল একজন শিক্ষক হিসেবে দেখা হয়নি, বরং তাঁকে ঈশ্বরের চেয়েও উঁচুতে আসন দেওয়া হয়েছে। শাস্ত্রে একটি খুব সুন্দর শ্লোক রয়েছে, “গুরুর্বহ্মা গুরুর্বিষ্ণুঃ গুরুর্দেবঃ মহেশ্বরঃ”। অর্থাৎ গুরুই ব্রহ্মা, গুরুই বিষ্ণু এবং গুরুই মহেশ্বর। এর আসল অর্থ হল, ঈশ্বরকে পাওয়ার পথটাও একমাত্র গুরুই দেখিয়ে দিতে পারেন।

আসলে টাকা বা সম্পত্তি আপনাকে জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কিনে দিতে পারে, কিন্তু কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল, সেই সত্য পথটা তুলে ধরার ক্ষমতা কেবল একজন গুরুরই থাকে। শাস্ত্রমতে, মানুষের মনের ভেতর যে অজ্ঞানের অন্ধকার থাকে, গুরু তাঁর জ্ঞানের আলো দিয়ে সেই অন্ধকার দূর করেন। যখন জীবনে কঠিন সময় আসে, কোনও পথ খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন গুরুর দেখানো পথই মানুষকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।

শাস্ত্রে স্পষ্ট বলা হয়েছে, গুরু তাঁর শিষ্যকে কেবল বইয়ের বিদ্যা শেখান না, তিনি শেখান কীভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরতে হয় এবং বিপদে মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়। জীবনে বড় সাফল্য এলে যাতে মনে অহংকার না আসে, আর ব্যর্থ হলে যাতে কেউ ভেঙে না পড়ে, সেই মানসিক জোর ও সৎ সংস্কার গুরুই প্রদান করেন। জাগতিক ধন-সম্পদ হয়তো আজ আছে, কাল শেষ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু গুরুর দেওয়া জ্ঞান ও সংস্কার সারাজীবন মানুষের সঙ্গে থাকে, যা কেউ কখনও কেড়ে নিতে পারে না।

মহর্ষি বেদব্যাসের (Maharishi Ved Vyas) জন্মতিথি স্মরণে এই দিনটিকে ব্যাস পূর্ণিমাও বলা হয়ে থাকে। গুরু শিষ্যের জীবনে কীভাবে আলোর দিশারি হয়ে ওঠেন, তা এই দিনের ভক্তিপূর্ণ পরিবেশ মনে করিয়ে দেয়। এই পবিত্র গুরু পূর্ণিমায় আপনার গুরু যদি কাছে থাকেন, তবে তাঁর চরণ স্পর্শ করে আশীর্বাদ নেওয়া উচিত। আর তিনি যদি দূরে থাকেন বা এই দুনিয়ায় নাও থাকেন, তবে মন থেকে তাঁকে স্মরণ করে তাঁর দেখানো ভালো পথে চলার সংকল্প নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। শাস্ত্রমতে, দামি উপহারের চেয়ে গুরুর শিক্ষা নিজের জীবনে মেনে চলা এবং ভালো মানুষ হওয়াটাই হলো গুরুকে দেওয়া সেরা প্রণাম।

Follow Us