মকর সংক্রান্তিতে সূর্যদেবের আশীর্বাদ পেতে রাশি অনুযায়ী করুন এই বিশেষ দান, জানুন শুভক্ষণ
প্রতি বছর মাঘ মাসে যখন সূর্যদেব তাঁর পুত্র শনিদেবের রাশি 'মকর'-এ প্রবেশ করেন, তখনই এই উৎসব পালিত হয়। সৌর ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সূর্যের এই রাশি পরিবর্তনকেই সংক্রান্তি বলা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্রে উত্তরায়ণের এই পুণ্যকালকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়, কারণ এই সময় থেকেই দেবতাদের দিন শুরু হয়।

হিন্দু ধর্মে মকর সংক্রান্তি অত্যন্ত পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব। প্রতি বছর মাঘ মাসে যখন সূর্যদেব তাঁর পুত্র শনিদেবের রাশি ‘মকর’-এ প্রবেশ করেন, তখনই এই উৎসব পালিত হয়। সৌর ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সূর্যের এই রাশি পরিবর্তনকেই সংক্রান্তি বলা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্রে উত্তরায়ণের এই পুণ্যকালকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়, কারণ এই সময় থেকেই দেবতাদের দিন শুরু হয়।
সংক্রান্তির নির্ঘণ্ট
চলতি বছরে সূর্যদেব ১৪ জানুয়ারি মকর রাশিতে প্রবেশ করছেন। ফলে আগামী ১৪ জানুয়ারি, বুধবার দেশজুড়ে মকর সংক্রান্তি পালিত হবে। শাস্ত্র অনুযায়ী, এদিন স্নান ও দানের জন্য নির্দিষ্ট পুণ্যকালগুলি হলো:
পুণ্যকাল: দুপুর ৩টে ১৩ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত (মোট ২ ঘণ্টা ৩২ মিনিট)।
মহাপুণ্যকাল: দুপুর ৩টে ১৩ মিনিট থেকে বিকেল ৪টে ৫৮ মিনিট পর্যন্ত (মোট ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট)।
মকর সংক্রান্তির দিন গঙ্গা সহ বিভিন্ন পবিত্র নদীতে পুণ্যস্নানের ঢল নামে। এই দিনটিকে ভারতের অনেক জায়গায় ‘খিচুড়ি’ উৎসবও বলা হয়। তিলের লাড্ডু এবং খিচুড়ি খাওয়ার পাশাপাশি আকাশজুড়ে রঙ-বেরঙের ঘুড়ির মেলা দেখা যায়। প্রাচীনকাল থেকেই এই দিনে স্নান ও দানের প্রথা চলে আসছে।
রাশি অনুযায়ী কী দান করবেন? জ্যোতিষীদের মতে, সংক্রান্তির দিনে নিজের রাশি অনুযায়ী দান করলে সূর্যদেবের বিশেষ কৃপা লাভ করা যায়। নিচে রাশিফল অনুযায়ী দানের তালিকা দেওয়া হলো:
মেষ-গুড় দান করুন। বৃষ-চাল দান করা শুভ। মিথুন-মুগ ডালের খিচুড়ি দান করুন। কর্কট-চাল, মিছরি এবং তিল দান করুন। সিংহ-তিল, গুড়, গম এবং সোনা দান করা শ্রেষ্ঠ। কন্যা-মুগ ডালের খিচুড়ি দান করুন। তুলা-সাদা বস্ত্র, চিনি এবং কম্বল দান করুন। বৃশ্চিক-তিল এবং গুড় দান করুন। ধনু-জাফরান (কেসর) দান করা শুভ। মকর-তেল এবং তিল দান করুন। কুম্ভ-দুঃস্থদের অন্ন বা ভোজন দান করুন। মীন-রেশমি বস্ত্র, তিল, ছোলার ডাল এবং চাল দান করুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্য যখন মকর রাশিতে থাকেন, তখন দান-ধ্যান করলে কুণ্ডলীতে সূর্যের অবস্থান মজবুত হয় এবং জীবনে সমৃদ্ধি আসে। তাই ভক্তিভরে গঙ্গাস্নান সেরে এই মাহেন্দ্রক্ষণে দান সম্পন্ন করার পরামর্শ দিচ্ছেন পণ্ডিতরা।
