Atla Village Durga Puja: পুজো দিতে আসতেন স্বয়ং বামাক্ষ্যাপা, অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসেছিল পুজো! তারপর যা ঘটে…
Atla Village: বীরভূমের আটলা গ্রামের দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্বয়ং সাধক বামাক্ষ্যাপার স্মৃতি। কিন্তু জানেন কি, একসময় চরম অর্থাভাবে পুরোপুরি বন্ধ হতে বসেছিল ৩০৮ বছরের এই ঐতিহ্যবাহী পুজো? এরপর এমন কী ঘটেছিল যার ফলে আজও অমলিন এই উৎসব? বিস্তারিত জানতে পড়ুন...

বীরভূম মানেই রাঙা মাটির দেশ। আর এই মাটির পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে নানা অজানা গল্প। কখনও শোনা যায় সাধকদের কথা, কখনও আবার জমিদার বাড়ির হারানো জৌলুসের কাহিনি। রামপুরহাটের আটলা গ্রামের পুজোও তেমনই এক রহস্য আর আবেগে মোড়া। স্বয়ং সাধক বামাক্ষ্যাপা যে মন্দিরে পুজো দিয়েছিলেন, সেই পুজোর বয়স আজ ৩০৮ বছর। কিন্তু জানেন কি, একসময় চরম অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসেছিল এই ঐতিহাসিক পুজো? কীভাবে রক্ষা পেল শত শত বছরের এই ঐতিহ্য?
গল্পের শুরু তৎকালীন জমিদার ঘনশ্যাম সরকারের হাত ধরে। প্রথমদিকে বেশ ধুমধাম করেই পুজোর সূচনা হয়। কিন্তু সময়ের ফেরে একদিন সরকার পরিবারে প্রবল অর্থাভাব দেখা দেয়। পুজো চালানো তো দূর, রোজকার খরচ চালানোই তখন বড় দায়। দেবীর আরাধনা কি তবে মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যাবে? ঠিক সেই সময়েই পুজোর হাল ধরতে এগিয়ে আসে চট্টোপাধ্যায় পরিবার। পুজোর সম্পূর্ণ দায়িত্ব যায় তাঁদের হাতে। কিন্তু ভাগ্যের খেলা বোধহয় একেই বলে! কয়েক বছর কাটতে না কাটতেই প্রবল আর্থিক সঙ্কটে পড়েন অহিভূষণ চট্টোপাধ্যায়ও। তখন কী হল? ফের কি বন্ধ হওয়ার মুখে পড়ল পুজো?
না, এমনটা হতে দেননি কুমারিশচন্দ্র সরকার। পুরনো ঐতিহ্য বাঁচাতে ফের এগিয়ে আসেন তিনি। মুছে যায় দুই পরিবারের সমস্ত ভেদাভেদ। সেই থেকে আজ পর্যন্ত সরকার এবং চট্টোপাধ্যায়, এই দুই পরিবার একসঙ্গে মিলে পুজোর পুরো দায়িত্ব সামলাচ্ছে।
আটলা গ্রামের এই পুজো হয় সম্পূর্ণ শাক্ত মতে। একচালার সাবেকি মাটির মূর্তি দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। বোধনের দিন নিয়ম মেনে মন্দিরে ঘট বসানো হয়। আর সেই দিন থেকেই গোটা গ্রামে উৎসবের রং লাগে। সকাল থেকেই শুরু হয় চণ্ডীপাঠ। গ্রামের প্রতিটি মানুষ এই পুজোর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছেন। পুরনো নিয়ম মেনে আজও এখানে সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী, তিন দিনই বলিদানের প্রথা রয়েছে। বিশেষ করে সন্ধিপুজো আর নবমীর দিন ছাগবলি দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি নবমীর দিন থাকে এক বিশাল অন্নভোগের আয়োজন। পাত পেড়ে প্রায় হাজারখানেক মানুষকে প্রসাদ খাওয়ানো হয় এই দিন।
নবমী কাটলেই দশমীর মনখারাপ। দশমীর দিন দুই পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে গ্রামের সব মানুষ সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। চোখের জলে মাকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়। তবে একাদশীর দিন ঠাকুর ভাসান হওয়ার পর গোটা গ্রাম ফের আনন্দে একজোট হয়। বিষাদ কাটাতে বিসর্জনের ঠিক পরের দিনই গ্রামে এক বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আটলা গ্রামের এই দুর্গাপুজো কেবল একটি উৎসব নয়, এ যেন বীরভূমের গর্বের এক জীবন্ত ইতিহাস।
