Durga Puja: ব্যাঙ্কের লকারে থাকেন দুর্গা, ষষ্ঠীতে বাড়ি আসেন পুলিশি প্রহরায়, জয়পুর রাজবাড়ি পুজোর ইতিহাস জেনে নিন
Purulia Jaipur Rajbari Durga Puja: কথিত আছে, প্রায় ৪০০ বছর আগে রাজা জয়সিং পুরুলিয়ায় এসেছিলেন। তাঁর নাম থেকেই এলাকার নাম হয় জয়পুর। স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, এলাকার মুন্ডা সর্দারকে পরাজিত করে জঙ্গলমহলের এই অংশ নিজের দখলে এনেছিলেন তিনি। রাজপরিবারের ইতিহাস বলছে, ১৬৭০ সাল নাগাদ একটি তরবারিকে শক্তির প্রতীক হিসেবে সামনে রেখে দুর্গাপুজো শুরু হয়।

পুরুলিয়া: পুরুলিয়ার জয়পুর রাজবাড়ি। এখানকার পুজোর (Durga Puja 2026) বিশেষত্ব হল সোনার দূর্গা মূর্তি। সারাবছর এই মূর্তি থাকে ব্যাঙ্কের লকারে। ষষ্ঠীর দিন কড়া পুলিশি পাহারায় রাজবাড়িতে নিয়ে আসা হয়। চারদিন রাজবাড়িতে পুজোর পর ফের পুলিশি নিরাপত্তায় ফিরে যান ব্যাঙ্কের লকারে। প্রায় দেড় কেজি সোনা দিয়ে তৈরি সেই দুর্গাপ্রতিমাকে ঘিরেই এই রাজবাড়ির পুজোর আয়োজন। এবার ৩৬৮ বছরে পা দিল এখানকার পুজো। তবে, এবার আর পুজোর জৌলুস নেই। চেনা রীতিতে ছেদ পড়তে চলেছে। পরিবারে কালাশৌচ থাকায় এ বছর রাজবাড়িতে (Jaipur Rajbari) আসবেন না সোনার দুর্গা।
পুজোর ইতিহাস
কথিত আছে, প্রায় ৪০০ বছর আগে রাজা জয়সিং পুরুলিয়ায় এসেছিলেন। তাঁর নাম থেকেই এলাকার নাম হয় জয়পুর। স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, এলাকার মুন্ডা সর্দারকে পরাজিত করে জঙ্গলমহলের এই অংশ নিজের দখলে এনেছিলেন তিনি। রাজপরিবারের ইতিহাস বলছে, ১৬৭০ সাল নাগাদ একটি তরবারিকে শক্তির প্রতীক হিসেবে সামনে রেখে দুর্গাপুজো শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে রাজপরিবারের সপ্তম রাজা মদনমোহন সিংহ তরবারির পাশাপাশি মাটির দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে পুজোর প্রচলন করেন। সেইসময় খড়ের চালা তৈরি করে পুজো হত
তবে সেই সময়ই ঘটে যায় অঘটন। জ্বলন্ত প্রদীপ থেকে আগুন লেগে দুর্গাপ্রতিমা পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় মন্দিরও।
স্বপ্নাদেশের পর তৈরি সোনার দুর্গা
রাজপরিবারের প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, এক রাতে স্বপ্নাদেশ পান রাজা কাশীনাথ সিংহ। এরপর বেনারস থেকে স্বর্ণকারদের রাজবাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের হাতেই তৈরি হয় সোনার দুর্গাপ্রতিমা। রাজপরিবারের দাবি, প্রায় দেড় কেজি সোনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল প্রতিমাটি। পাশাপাশি প্রায় দেড় মন রুপো দিয়ে তৈরি হয়েছিল চালচিত্র। সেই সময় থেকেই সোনার দুর্গাপ্রতিমার পুজো হয়ে আসছে জয়পুর রাজবাড়িতে।
ডাকাতির পর থেকেই ব্যাঙ্কের লকারে মূর্তি
১৯৭১ সালে রাজবাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সোনার দুর্গাপ্রতিমা ডাকাতদের হাতে না পড়লেও অন্যান্য অলঙ্কার লুঠ হয়েছিল বলে দাবি রাজপরিবারের। এরপরই সোনার প্রতিমার নিরাপত্তা নিয়ে তৎপর হয় জেলা পুলিশ। নিরাপত্তার কারণে রাজবাড়িতে সারা বছর সোনার দুর্গাপ্রতিমা রাখা যাবে না বলে জানানো হয়। তারপর থেকেই ব্যাঙ্কের লকারে রাখা হয় প্রতিমা।
প্রতি বছর বেলিবরণের দিন পুলিশি পাহারায় ব্যাঙ্কের লকার থেকে রাজবাড়িতে নিয়ে আসা হয় সোনার দুর্গাকে। পুজোর চারদিন কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় চলে আরাধনা। পুজো শেষ হলে ফের একইভাবে ব্যাঙ্কের লকারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় প্রতিমা।
কথিত আছে, একসময় এই পুজোয় নরবলির প্রথা ছিল। পরবর্তী সময়ে রাজা সেই প্রথা বন্ধ করে দেন। মহিষ ও ছাগ বলির রীতিও ছিল। সময়ের সঙ্গে সেগুলিও বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পুজোয় চালকুমড়ো, আখ ও শসা বলি দেওয়ার রীতি রয়েছে। একসময় ১৮৪টি মৌজা ছিল এই রাজপরিবারের অধীনে। রাজা মদনমোহন সিংহ রাজবাড়ির পিছনে কুলদেবতা রাধাকৃষ্ণ মুরুলিধর জিউয়ের মন্দির তৈরির কাজও শুরু করেছিলেন। কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। ফলে মন্দিরটি অসমাপ্ত থেকে যায়। বর্তমানে সেটি কার্যত ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে।
রাজপরিবারের দাবি, বর্তমানে তাঁদের আর্থিক পরিস্থিতি এমন নয় যে নিজেদের উদ্যোগে সেই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব। সরকারের কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে। তবে তাঁদের দাবি, এখনও সেভাবে সাড়া মেলেনি।
