বিশ্বকাপের আগে বিপাকে অস্ট্রেলিয়া, কামিন্সের পর ছিটকে গেলেন হ্যাজেলউড
গত বছর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে হ্যাজেলউডের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। ১৯ ইনিংসে ৩৪ উইকেট নিয়ে তাঁর গড় ছিল মাত্র ১৭.২। আইপিএল ২০২৫ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে প্রথম শিরোপা জেতাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। হ্যাজেলউডের পূর্বের চোটও উদ্বেগে বাড়িয়েছে। শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে খেলতে গিয়ে তিনি হ্যামস্ট্রিং চোট পান।

কলকাতা: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক পাঁচ দিন আগে বড়সড় ধাক্কা খেল অস্ট্রেলিয়া। চোটের কারণে আগেই ছিটকে গিয়েছেন দলের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। এ বার সেই তালিকায় নতুন নাম জশ হ্যাজেলউড। তিনিও চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে বসেছেন। ফলে, বিশ্বকাপের মঞ্চে অস্ট্রেলিয়াকে আপাতত নামতে হবে তাদের দুই সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলারকে ছাড়াই। কাজটা যে কঠিন হয়ে গেল অজিদের জন্য, সন্দেহ নেই। ২০২১ সালের বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া রয়েছে গ্রুপ বি-তে। তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, ওমান, জিম্বাবোয়ে ও আয়ারল্যান্ড। ১১ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। আর তার আগেই হ্যাজেলউডের ছিটকে যাওয়া দলের জন্য বেশ চাপের। তবে হ্যাজেলউডকে নিয়ে এখনও আশা ছাড়ছে না দল। সুপার এইটে তাঁকে যাতে পাওয়া যায়, তার চেষ্টা চালাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। তা কতটা সম্ভব, প্রশ্ন থাকছে।
প্রথমে মনে করা হচ্ছিল, হ্যাজেলউড প্রথম দিকের কয়েকটি ম্যাচ মিস করলেও টুর্নামেন্টের শেষদিকে তিনি ফিরতে পারবেন। তা নিয়ে সংশয় থাকছে। দলের মতে, তাঁর পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে এখনও সময় লাগবে। তাড়াহুড়ো করলে চোট আরও বাড়তে পারে। নির্বাচক টনি ডোডেমেইড বলেছেন, “আমরা আশা করছিলাম, সুপার এইট পর্বের সময় জশ ম্যাচ ফিরতে পারবে। কিন্তু যা পরিস্থিতি, ওর ফিরতে এখনও সময় লাগবে। তাড়াহুড়ো করলে ঝুঁকি বেড়ে যাবে। কিন্তু আপাতত আমরা কোনও বিকল্প ঘোষণা করছি না। প্রাথমিক ম্যাচগুলোর জন্য আমাদের এই দল যথেষ্ট বলে মনে করছি।”
গত বছর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে হ্যাজেলউডের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। ১৯ ইনিংসে ৩৪ উইকেট নিয়ে তাঁর গড় ছিল মাত্র ১৭.২। আইপিএল ২০২৫ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে প্রথম শিরোপা জেতাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। হ্যাজেলউডের পূর্বের চোটও উদ্বেগে বাড়িয়েছে। শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে খেলতে গিয়ে তিনি হ্যামস্ট্রিং চোট পান। সেই চোট সারাতে গিয়েই পরে অ্যাকিলিসের সমস্যায় ভোগেন তিনি। যার ফলে পুরো অ্যাশেজ সিরিজেই খেলতে পারেননি। এদিকে রিজার্ভ হিসেবে শন অ্যাবট সুযোগ পেতে পারেন। এছাড়াও দল বিকল্প হিসেবে নজর রেখেছে, অ্যাডাম জাম্পা, নাথান এলিস ও টিম ডেভিড এর ওপর।
হ্যাজেলউড যদি খেলতে না পারেন, তবে অস্ট্রেলিয়ার পেস ত্রয়ী-র যুগ শেষ হতে চলেছে, বলাই যায়। মিচেল স্টার্ক আগেই দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। প্যাট কামিন্স খেলতে পারবেন না। এ বার হ্যাজেলউড না খেলতে পারলে যে তিন পেসার দীর্ঘদিন টেনেছেন দলকে, তাঁদের আর একসঙ্গে দেখা যাবে না।
