Aus vs Zim : ২০০৭এর পর ২০২৬, ১৯ বছর পর অজিদের হারিয়ে ইতিহাস জিম্বাবোয়ের!
জিম্বাবোয়ের 'ওল্ড বয়'রা বহুদিন আগেই ক্রিকেটের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ছেড়ে দিয়েছেন। হিথ স্ট্রিক থেকে ফ্লাওয়ার ভাতৃদ্বয়, বহুদিন আগেই ছেড়েছেন ক্রিকেট। জিম্বাবোয়ে বলতেই মনে পড়ে ১৯৯৮ সালের কোকা-কোলা ট্রফি। সেদিন বোলার হেনরি ওলোঙ্গাকে পিটিয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন সচিন তেন্ডুলকর।

কলকাতা : শেষ উইকেটটা পড়তেই উল্লাসে ফেটে পড়লেন জিম্বাবোয়ের ক্রিকেটাররা। নাচের চোটে মাথা থেকে টুপিই খুলে গেল একজনের। তাতে কী ? এই জয় যে বড় আপন ! ১৯ বছর পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল জিম্বাবোয়ে। শেষবার হারিয়েছিল ২০০৭ সালে। সেদিনের ব্রেন্ডন টেলর আজও খেলছেন। কিন্তু চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন ব্রেন্ডন। তাতে ক্ষতি কী ? এই বিশ্বকাপের সবথেকে বড় অঘটন হয়ত আজই কলম্বোয় ঘটে গেল। এক সময়ের ‘লাস্ট বয়’ জিম্বাবোয়ে আজ যেন পুনর্জন্ম ঘটাল।
জিম্বাবোয়ের ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ওপেন করতে নেমে বড় রানের ইনিংস খেলেন। তাঁর করা ৫৬ বলে ৬৪ রানের সৌজন্যেই স্কোরবোর্ডে রান সংগ্রহ করতে পেরেছে জিম্বাবোয়ে। অধিনায়ক সিকান্দর রাজা ১৩ বলে ২৫ রানে নট আউট থাকেন। অজিদের হয়ে একটি উইকেট পেয়েছেন ক্যামেরন গ্রিন এবং অন্যটি মার্কাস স্টোইনিসের। কলম্বোর পিচে বল থমকে ব্যাটে আসছিল। সেই স্লো পিচে ব্রেনেটের ইনিংসই যেন ব্যতিক্রম। ২০ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান তুলেছিল জিম্বাবোয়ে। অজিদের হয়ে একমাত্র লড়াই চালিয়েছেন ম্যাট রেনশঁ । ৪৪ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার আশা জিইয়ে রেখেছিলেন রেনশঁ । বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে ধস নামিয়েছেন একজনই। ব্লেসিং মুরাজাবানি। তাঁর বোলিং ফিগার ৪-০-১৭-৪। তাঁর দাপটেই ২৩ রানে জিতেছে জিম্বাবোয়ে। জিম্বাবোয়ের এটাই টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বশ্রেষ্ঠ বোলিং পারফরম্যান্স। এর আগে রবিচন্দ্রন অশ্বিন ১১ রানে ৪ উইকেট পেয়েছিলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেটিই সবথেকে ভাল বোলিং ফিগার। আজ অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে ধস নামালেন মুরাজাবানি-ই। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০০ উইকেট নেওয়ার মাইলফলক ছুঁলেন তিনি।
জিম্বাবোয়ের ‘ওল্ড বয়’রা বহুদিন আগেই ক্রিকেটের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ছেড়ে দিয়েছেন। হিথ স্ট্রিক থেকে ফ্লাওয়ার ভাতৃদ্বয়, বহুদিন আগেই ছেড়েছেন ক্রিকেট। জিম্বাবোয়ে বলতেই মনে পড়ে ১৯৯৮ সালের কোকা-কোলা ট্রফি। সেদিন বোলার হেনরি ওলোঙ্গাকে পিটিয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন সচিন তেন্ডুলকর। ওলোঙ্গা নিজের ৬ ওভারে দিয়েছিলেন ৫০ রান। সেই সোনার ছেলেরা নেই বহুদিন। মাঝখানে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল জিম্বাবোয়ে ক্রিকেট। বহু বছর পর যেন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে তাদের ক্রিকেট দল। মনে করাচ্ছে সেই বিখ্যাত কবিতার লাইন, “আমাদের গেছে যে দিন, তা কি একেবারেই গেছে ? কিছুই কি নেই বাকি ?”
