
কলকাতা: আইপিএলে (IPL) এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। যেখানে ক্যাপ্টেনের সিংহাসনে না আছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, না আছেন রোহিত শর্মা, না আছেন বিরাট কোহলি। যদিও বিরাট কোহলি (Virat Kohli) নিজের ইচ্ছেতে আরসিবির নেতৃত্ব ছেড়েছিলেন। তাও ২০২০ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের আগে। আর রোহিত শর্মাকে এ বার সরিয়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স হার্দিক পান্ডিয়াকে অধিনায়ক ঘোষণা করেছে। আর মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni) নিজে নেতৃত্বের ব্যাটন তুলে দিয়েছেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের হাতে। শুক্র-রাতে চিপকে দক্ষিণী ডার্বি উপভোগ করতে চান, আপনার জন্য তা হলে রইল এই প্রতিবেদন। যেখানে বিস্তারিত জানানো হল দুই দলের কোন ৫ জন করে ক্রিকেটারের দিকে নজর রাখবেন।
প্রথমেই বলা যাক সিএসকে শিবিরের কথা—
এক, মহেন্দ্র সিং ধোনি। তিনি এ বারের পুরো আইপিএলেই খেলবেন ধরে নেওয়া যায়। এবং জাতীয় দলে যে ভাবে তিনি নেতৃত্ব ছাড়ার পর বিরাট কোহলিকে সাজেশন দিতেন, ঋতুরাজকেও হয়তো তেমন ভাবেই ধোনি পরামর্শ দেবেন।
দুই, ড্যারেল মিচেল। নিউজিল্যান্ডের তারকা ক্রিকেটার ফর্মে রয়েছেন। গত বছর ভারতের মাটিতে হওয়া ওয়ান ডে বিশ্বকাপ দুর্দান্ত কেটেছিল মিচেলের।
তিন, শিবম দুবে। আইপিএলের গত মরসুমে চোট থাকায় শুধু ব্যাটিং করেছেন। এ বার ঘরোয়া ক্রিকেটে, এবং আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও বোলিং করেছেন, ফলে অলরাউন্ডার শিবম নজরে থাকবেন।
চার, দীপক চাহার। দীর্ঘদিন তিনি ক্রিকেটের বাইরে। বিশ্বকাপের পর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ফিরলেও তাঁর বাবা অসুস্থ থাকায় মাঝপথেই সরে দাঁড়ান। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও ছিল না। দীপক আপাতত দাবি করেছেন তিনি ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট। জুনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই রয়েছে তাঁর নজর।
পাঁচ, ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। মাহির ভরসার মর্যাদা দেওয়ার চাপ থাকবে তাঁর উপর। সমর্থকরা তাঁকে কী ভাবে নেবেন সেই চাপ থাকবে। আর সঙ্গে থাকবে ওপেনিংয়ের চাপ। এশিয়ান গেমসে ভারতকে সোনা জিতিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম তিন ম্যাচে সহ অধিনায়ক ছিলেন, এ বার আইপিএলের মঞ্চে গুরুর সামনে তাঁর পরীক্ষা।
এ বার আসা যাক আরসিবি শিবিরে—
এক, বিরাট কোহলি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে শেষ বার ম্যাচ খেলেছেন। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর সেটাই ছিল সংক্ষিপ্ত ফর্ম্য়াটে দেশের জার্সিতে প্রত্যাবর্তন। আফগানদের বিরুদ্ধে শেষ দুটি ম্যাচ খেললেও বিরাট ইনিংস খেলতে ব্যর্থ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি সুযোগ পাবেন কিনা তা নিয়ে জল্পনা। সদ্য বিরতি থেকে ফিরেছেন। স্পিনের বিরুদ্ধে তাঁর একটা ‘দুর্বলতা’ রয়েছে, চিপকে স্পিন বেশি কার্যকরী হয়। গত বারের আইপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিলেন বিরাট, এ বার বিরতি থেকে ফেরায় মানসিক ভাবে তরতাজা তিনি।
দুই, ফাফ ডু’প্লেসি। গত বার ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিলেন। চেন্নাই তাঁর প্রাক্তন টিম, চিপক তাঁর বেশ চেনা মাঠ। তার মধ্যে স্মৃতি-রিচারা ট্রফি জেতায় দাদাদের যেন দায়িত্ব বেড়েছে। তাই আইপিএলে আরসিবির শুরুটা ভালো হওয়া প্রয়োজন। সেখানে টপ অর্ডারে ডু’প্লেসি এক্স ফ্যাক্টর।
তিন, দীনেশ কার্তিক। এটাই ডিকের শেষ আইপিএল। গত বারের আইপিএলে আরসিবির ব্যাটিং টপ থ্রি নির্ভর ছিল, মিডল অর্ডারে ভরসা দিতে পারেননি কেউই। ডিকের কাঁধে এ বার বড় দায়িত্ব মিডল অর্ডার সামলানোর। গ
চার, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ভারতে ওডিআই বিশ্বকাপে ম্যাক্সির পারফরম্য়ান্স মুগ্ধ করেছিল সকলকে। গত বারের আইপিএলেও ভালো খেলেছিলেন। স্পিনের বিরুদ্ধেও ম্যক্সওয়েল ভালো খেলেন। চিপকে ফ্যাক্টর, তাঁর বোলিংও আরসিবির জন্য কার্যকর হতে পারে।
পাঁচ, আলজারি জোসেফ। জশ হ্যাজলউডকে ছেড়ে দেওয়ায় মহম্মদ সিরাজের সঙ্গে ভালো মানের বিদেশি পেসার চেয়েছিল আরসিবি। সেখানে জোসেফ আলজারিকে নেওয়ায় প্রবল সমালোচনা হয়েছিল। তাঁর দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। একাদশে সুযোগ পেলে এ বার গুজরাট টাইটান্সের প্রাক্তন পেসার সব সমালোচনার জবাব দেবেন।