T20 World Cup : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের ভরসা শিবম দুবে
২০২৬ সালে ব্যাট ও বল দুই ক্ষেত্রেই দুবের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। একসময় তাঁকে শুধু ‘স্পিন-পেসার’ বলা হত। কিন্তু এখন পেসারদের বিরুদ্ধেও তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৯৫। আর স্পিনের বিরুদ্ধে তা ২২৪.৪৮,যা যে কোনও বোলিং আক্রমণের জন্য ভয়ের কারণ। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি অভিযানে যুবরাজ সিংয়ের পেসের বিরুদ্ধে স্ট্রাইক রেট ছিল ১৯৬.৮৭। সংখ্যাই বলছে, দুবে এখন কতটা কার্যকর।

কলকাতা: এক সময় তাঁকে বলা হত “যুবরাজ সিং এর ছায়া”। আগ্রাসী ব্যাটিং, বড় শট খেলার ক্ষমতা, সব মিলিয়ে তুলনা করা হতো। সেই প্রত্যাশার চাপই যেন শুরুর দিকে থমকে দিয়েছিল শিবম দুবের যাত্রা। এখন দৃশ্যপট বদলেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে দুবে প্রমাণ করছেন, তিনি আর কারও ছায়া নন। ভারতীয় দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র তিনি। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএলে দুরন্ত পারফরম্যান্সই তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বিশেষ করে স্পিনের বিরুদ্ধে দাপট দেখিয়ে তিনি আলাদা করে নজর কাড়েন। জাতীয় দলে ফেরার পর প্রতি বছরই তাঁর খেলা আরও পরিণত হয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে ভারতের টানা চতুর্থ জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা নেন শিবম।
২০২৬ সালে ব্যাট ও বল দুই ক্ষেত্রেই দুবের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। একসময় তাঁকে শুধু ‘স্পিন-পেসার’ বলা হত। কিন্তু এখন পেসারদের বিরুদ্ধেও তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৯৫। আর স্পিনের বিরুদ্ধে তা ২২৪.৪৮,যা যে কোনও বোলিং আক্রমণের জন্য ভয়ের কারণ। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি অভিযানে যুবরাজ সিংয়ের পেসের বিরুদ্ধে স্ট্রাইক রেট ছিল ১৯৬.৮৭। সংখ্যাই বলছে, দুবে এখন কতটা কার্যকর। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে তাঁর মানসিকতায়। নেদারল্যান্ডস ম্যাচে প্রথম ৯ বলে মাত্র ২ রান করেও তিনি ধৈর্য হারাননি। সময় নিয়ে ইনিংস খেলেছেন। কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট করার অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও পরিণত করেছে। বর্তমানে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনও ভূমিকায় ম্য়াচে নামতে প্রস্তুত তিনি।
শারীরিক পরিবর্তনও তাঁর পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে। ওজন কমিয়ে পেশিশক্তি বাড়িয়েছেন ফলে বোলিং গতিও বেড়েছে। একসময় টি-টোয়েন্টিতে এক ওভারে ৩৪ রান খাওয়া সেই দুবে এখন অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত। চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচে তিন উইকেট নিয়েছেন তিনি। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে সেট ব্যাটার বাস ডে লিডেকে আউট করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দুবে। শেষ ওভার বল করার দায়িত্বও তাঁর ওপরই ছিল। প্রথমদিকে যুবরাজ সিংএর সাঙ্গে তুলনা থাকলেও, এখন দুবে নিজের পরিচয় গড়ছেন। তবু অনেক দিক থেকেই তিনি যুবরাজ সুলভ ম্যাচজয়ী হয়ে উঠছেন। ভারতের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে শিবম দুবেই হয়ে উঠতে পারেন সেই এক্স-ফ্যাক্টর।
