
ভারতে ক্রিকেট এবং ক্রিকেটারদের গুরুত্ব কতটা, এ আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ক্রিকেটারদের মাঠে স্টেডিয়ামের কোনও স্ট্যান্ড, প্য়াভিলিয়নের নামকরণ নতুন নয়। দেশের বিভিন্ন মাঠেই এমনটা রয়েছে। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সেও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের নামে স্ট্যান্ড রয়েছে। তেমনই দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে বিরাট কোহলির নামেও প্যাভিলিয়ন। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি ক্রিকেটারের নামে স্ট্যান্ড ছিলই। তালিকায় নতুন সংযোজন হতে চলেছে রোহিত শর্মার নাম। চলছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। তার মাঝেই ঘোষণা হয়েছে রোহিতের নামে ওয়াংখেড়েতে স্ট্যান্ডের কথা। তবে একটা আস্ত স্টেডিয়াম রোহিত-বিরাটদের জুনিয়রের নামে। মনে পড়ছে?
ভারতীয় ক্রিকেটে এখনও উঠতি প্রতিভাই রয়ে গিয়েছেন অনেকে। তাঁরা ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন, ভারত এ-দলের হয়ে খেলেন, নেতৃত্বও দেন। স্কোয়াডে জায়গা পেলেও খেলার সুযোগ হয় না অনেকেরই। তেমনই একজন বাংলার ব্যাটার অভিমন্যু ঈশ্বরণ। দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের টেস্ট স্কোয়াডের সঙ্গী। কখনও ব্য়াকআপ হিসেবে, আবার কখনও মূল স্কোয়াডে। গত বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিতেও ছিলেন। ভারত এ-দলকে বেশ কিছু সফরে নেতৃত্বও দিয়েছেন। তবে টেস্ট খেলার সুযোগ এখনও হয়নি। অভিমন্যু ঈশ্বরণের নামে কোনও স্ট্যান্ড নয়, একটা গোটা স্টেডিয়ামই রয়েছে।
বাংলার হয়ে খেললেও অভিমন্য়ু আসলে দেরাদুনের ছেলে। সেখান থেকে সর্বভারতীয় স্তরে উঠে আসার সম্ভাবনা কম ছিল। সে কারণেই বাংলায় পাড়ি দিয়েছিলেন। অভিমন্যু ঈশ্বরণের বাবা নিজে ক্রিকেটার হতে চেয়েছিলেন। পেশায় একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। নিজের স্বপ্ন পূরণ না হলেও ছেলের জন্য় সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছেন। ২০০৫ সালে দেরাদুনে বিশাল জমি কেনেন। পরের বছরই স্টেডিয়াম তৈরির কাজ শুরু হয়। এই মাঠ উত্তরাখণ্ড ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও বিভিন্ন সময় ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য় ব্য়বহার করে। এ ছাড়া স্থানীয় ক্রিকেটের ম্যাচ তো রয়েইছে।
অভিমন্যু ঈশ্বরণের বাবা রঙ্গনাথন পরমেশ্বরণ ঈশ্বরণ ১৯৮৮ থেকেই একটি ক্রিকেট অ্যাকাডেমিও চালান। সেই অ্যাকাডেমির নামকরণও ছেলের নামেই করেছেন। স্টেডিয়াম তৈরির পর তার নাম দেন অভিমন্য়ু ঈশ্বরণ ক্রিকেট অ্যাকাডেমি স্টেডিয়াম। সব কিছুর মধ্যে আক্ষেপ একটাই, বারবার জাতীয় দলে থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি ২৯ বছরের অভিমন্যু।