‘ইন্ডিয়ান টাইগার্স অ্যান্ড টাইগ্রেসেস’ জাতীয় ট্রায়ালের দ্বিতীয় দিনে বাড়ল প্রতিযোগিতা!
এই বিশাল তালিকা থেকে শেষ পর্যন্ত মাত্র ২৫ জন খেলোয়াড়কে বেছে নেওয়া হবে। নির্বাচিত এই ফুটবলাররা উন্নত প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য জার্মানিতে যাওয়ার সুযোগ পাবে, যেখানে তারা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবে একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচিতে।

কলকাতা: ডিব্রুগড়ের স্টেডিয়ামে ‘ইন্ডিয়ান টাইগার্স অ্যান্ড টাইগ্রেসেস’ উদ্যোগের জাতীয় ফুটবল ট্রায়ালের দ্বিতীয় দিনেও দেখা গেল প্রবল প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাছাই হয়ে আসা তরুণ ফুটবলাররা নিজেদের উজাড় করে দিয়ে চূড়ান্ত নির্বাচনের আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে গেল। ট্রায়ালের দ্বিতীয় দিনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় খেলোয়াড়দের ট্যাকটিক্যাল সচেতনতা, ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা এবং শারীরিক সক্ষমতার উপর। শুধু বলের দক্ষতাই নয়, খেলোয়াড়দের ধৈর্য, শক্তি এবং চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকেও কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হয়। সকালের সেশনগুলোতে ছিল বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পিত ড্রিল, যেখানে খেলোয়াড়দের পজিশনাল সচেতনতা, ম্যাচ পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যাচাই করা হয়। কোচরা বিশেষভাবে নজর রাখেন দ্রুতগতির খেলায় ফুটবলাররা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, তারা প্রতিপক্ষের চলন কতটা আগাম বুঝতে পারছে এবং সেই অনুযায়ী কত দ্রুত কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে।
এর পাশাপাশি শক্তি ও ফিটনেস পরীক্ষাও ছিল মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অংশগ্রহণকারী ফুটবলারদের স্প্রিন্ট টেস্ট, দীর্ঘ দৌড়, অ্যাজিলিটি ড্রিল এবং উচ্চ-তীব্রতার শারীরিক অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সামগ্রিক শারীরিক প্রস্তুতি, সহনশীলতা এবং মাঠে দীর্ঘ সময় পারফর্ম করার ক্ষমতা যাচাই করা হয়। অনেক তরুণ ফুটবলারের কাছে ট্রায়ালের দ্বিতীয় দিনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই পর্যায় থেকেই কোচ ও নির্বাচকরা ধীরে ধীরে তাঁদের নজর কেন্দ্রীভূত করছেন সেইসব খেলোয়াড়দের দিকে, যারা শুধু বলের দক্ষতাই নয়, পাশাপাশি শারীরিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা এবং খেলায় বুদ্ধিমত্তারও প্রমাণ দিতে পারছে। ডিব্রুগড়ের এই ট্রায়াল নিউজ৯ ‘ইন্ডিয়ান টাইগার্স অ্যান্ড টাইগ্রেসেস’ উদ্যোগের চূড়ান্ত জাতীয় নির্বাচন পর্ব। গোটা দেশজুড়ে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে প্রথমে অংশ নিয়েছিল ৩৮ হাজারেরও বেশি খেলোয়াড়। একাধিক আঞ্চলিক ট্রায়ালের পর এখন প্রায় ৩০০ জন খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই বিশাল তালিকা থেকে শেষ পর্যন্ত মাত্র ২৫ জন খেলোয়াড়কে বেছে নেওয়া হবে। নির্বাচিত এই ফুটবলাররা উন্নত প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য জার্মানিতে যাওয়ার সুযোগ পাবে, যেখানে তারা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবে একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচিতে। প্রতিযোগিতা যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে চাপ ও প্রত্যাশা। ডিব্রুগড়ে অংশ নেওয়া তরুণ ফুটবলাররা জানে, প্রতিটি প্রতিটি পাস, ড্রিবল, প্রতিটি স্প্রিন্ট এবং মাঠে নেওয়া প্রতিটি কৌশলগত সিদ্ধান্তই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। এই ট্রায়াল আবারও প্রমাণ করছে, দেশের তৃণমূল স্তর থেকে কতটা প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসতে পারে।
