টিকিটের চড়া দাম নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক, বড় পদক্ষেপ আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিদের!
IPL 2026 : জানানো হয়েছে, যদি কোনও টিকিটের আসল দাম হয় ৫০০ টাকা বা তার কম, সেই টিকিটের উপর কোনও কর দিতে হবে না। কিন্তু আইপিএলে ৫০০ টাকার টিকিট হওয়া কার্যত অসম্ভব। শুধু ইডেনেই কলকাতা নাইট রাইডার্সের ন্যূনতম টিকিটের দাম ১২০০ টাকা।

কলকাতা : চলছে আইপিএল। প্রতিনিয়ত মাঠ ভরাচ্ছেন সমর্থকরা। তবে ইতিমধ্যেই দর্শক সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ইতিমধ্যেই আলোচনা হচ্ছে টিকিটের দাম নিয়ে। এই বছর গ্যালারিতে বসে ম্যাচ দেখার খরচ একসঙ্গে অনেকটা বেড়ে গিয়েছে ফলে সমস্যায় পড়ছেন দর্শকরা। জিএসটি কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টিকিটের উপর জিএসটি হার বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪০ শতাংশ। সেই কারণেই, আইপিএলের ১০ ফ্র্যাঞ্চাইজি অর্থ মন্ত্রকের কাছে আবেদন জানিয়েছে, যেন এই টুর্নামেন্টকে ‘বিনোদন’ হিসেবে না দেখে ‘ক্রীড়া ইভেন্ট’ হিসেবে দেখা হয়। এর ফলে জিএসটি ৪০ থেকে কমে ১৮ শতাংশে হয়ে যাবে, যা অর্ধেকেরও কম। এর ফলে আশা করা যাচ্ছে, বিসিসিআই আয়োজিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও আইপিএল ম্যাচের টিকিটের দাম সমান হবে।
গত বছর আইপিএল টিকিটের কর ছিল ২৮ শতাংশ, এই বছর সেটাই হয়ে গিয়েছে ৪০ শতাংশ। ৫৬তম জিএসটি বৈঠকে কর কাঠামো পুনর্গঠন করার সময় ৪০% এর উচ্চ কর হার চালু করা হয়েছে। সচরাচর ৪০% জিএসটি লাগানো হয় পান মশলা, বেটিং, লটারির মতো ক্ষতিকারক পণ্য ও পরিষেবায়। আইপিএল টিকিটকেও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও জানানো হয়েছে, যদি কোনও টিকিটের আসল দাম হয় ৫০০ টাকা বা তার কম, সেই টিকিটের উপর কোনও কর দিতে হবে না। কিন্তু আইপিএলে ৫০০ টাকার টিকিট হওয়া কার্যত অসম্ভব। শুধু ইডেনেই কলকাতা নাইট রাইডার্সের ন্যূনতম টিকিটের দাম ১২০০ টাকা। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের পাঠানো আবেদনে বলা হয়েছে,”আইপিএলের মতো ক্রীড়া ইভেন্টগুলি আসলে পারিবারিক বিনোদনের একটি মাধ্যম। এটি সমাজের সব স্তরের মানুষ উপভোগ করেন। আইপিএলের প্রবেশাধিকারকে জুয়া বা ক্যাসিনোর সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে হবে না। সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান, সার্কাস, নৃত্যানুষ্ঠান, থিয়েটার, থিম পার্ক, ওয়াটার পার্ক এর মতো বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে প্রবেশের ক্ষেত্রে ১৮% কর ধার্য করা হয়। সেখানেই আইপিএল ম্যাচের টিকিটের এত দাম কেন, এই নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
ইওয়াই পার্টনার বিপিন সপ্রা বলেছেন,”আইপিএল এর মতো ক্রীড়া ইভেন্টে প্রবেশের উপর ক্যাসিনো বা সমতুল্য ৪০% কর ধার্য করা ক্রীড়াজগতের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এটি দেশের অর্থনীতি ও ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য জরুরি।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইপিএল সুবিধা থেকে বঞ্চিত শ্রেণীর মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর জন্য ব্যবহৃত ও এটির সঙ্গে জড়িত খাদ্য, ভ্রমণ শিল্পের বিকাশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইপিএল এর টিকিটের দাম কমলে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ খেলা দেখবেন, ফলে উন্নতি হবে দেশের অর্থনীতির ও খেলার বিকাশের। সরকার যদি আইপিএল-কে ‘বিনোদন’ এর বদলে ‘খেলা’ হিসাবে গণ্য করে, তাহলেই টিকিটের দাম কম সম্ভব।
