খারাপ থেকে ভালো? রাতারাতি ডিগবাজি! পেসার শোয়েব আখতার কেন স্পিনার হয়ে গেলেন?
শোয়েবের কথায়, “আমি কখনও মহসিনকে নিশানা করতে চাইনি। ‘অযোগ্য’র মন্তব্যটা ছিল ক্রিকেটের উঁচু মহলের জন্য়। কিছু ভারতীয় টিভি চ্যানেল আমার কথা ঘুরিয়ে দেখিয়েছে।” শোয়েব আরও বলেন, তিনি একই সঙ্গে দর্শকদের নাকভির বিরুদ্ধে কোনও রকম বিরূপ মন্তব্য না করতেও অনুরোধ করেছিলেন। সংবাদমাধ্য়মে তিনি বলেন, মহসিন একজন ভাল মানুষ, এবং তিনি সত্যিই পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতি চান।

কলকাতা: এতদিন পেস বোলিং করতেন, কবে থেকে স্পিনার হলেন, কে জানে! শোয়েব আখতারকে রাতারাতি ডিগবাজি খেতে দেখে চমকে গিয়েছে ক্রিকেট মহল। আড়ালে আবডালে যা নিয়ে চলছে হাসাহাসিও। যাঁকে আগের দিন বলেছিলেন ‘অশিক্ষিত’। তাঁকেই কিনা প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। কেন ডিগবাজি খেলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার? এ নিয়ে চর্চার শেষ নেই। ভারতের কাছে জঘন্য হারের পর পিসিবির চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন। তাঁকেই আবার প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন।
প্রথমে ‘অযোগ্য’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন মহসিনকে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে আবার ‘ভালো মানুষ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন শোয়েব। কলম্বোতে অনুষ্ঠিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ৬১ রানে হারে পাকিস্তান। এই জয়ের মাধ্যমে ভারত বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর ৮-১ নতুন স্কোরলাইন খাড়া করেছে। ম্যাচের পর শোয়েব পিসিবি ও তার শীর্ষ নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই দুই দেশের মিডিয়াতেই শুরু হয় তোলপাড়। পরে এক পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শোয়েব দাবি করেন, তিনি মহসিনকে লক্ষ্য করে কোনও মন্তব্য় করেননি।
শোয়েবের কথায়, “আমি কখনও মহসিনকে নিশানা করতে চাইনি। ‘অযোগ্য’র মন্তব্যটা ছিল ক্রিকেটের উঁচু মহলের জন্য়। কিছু ভারতীয় টিভি চ্যানেল আমার কথা ঘুরিয়ে দেখিয়েছে।” শোয়েব আরও বলেন, তিনি একই সঙ্গে দর্শকদের নাকভির বিরুদ্ধে কোনও রকম বিরূপ মন্তব্য না করতেও অনুরোধ করেছিলেন। সংবাদমাধ্য়মে তিনি বলেন, মহসিন একজন ভাল মানুষ, এবং তিনি সত্যিই পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতি চান। “তবে তাঁর সমস্যা হল, তিনি সব সময় সঠিক পরামর্শ পান না।”
প্রথমে শোয়েবের ভাষা ছিল অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। ভারতের কাছে ৬১ রানে হেরে যাওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, “পিসিবির চেয়ারম্যানই জানেন না যে দল চলবে কীভাবে? এমন একজন খেলোয়াড়কে সুপারস্টার বানানো হয়েছে, যে একটা ম্যাচও জেতাতে পারে না।” তাঁর এই মন্তব্যে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ড কর্তাদেরও আক্রমণ করেছিলেন তিনি। একদিনের মধ্য়েই শোয়েবের এই মতবদল পাকিস্তান ক্রিকেটে চলা টানাপোড়েনকে স্পষ্ট করে দিল। পাক দলের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার চাপ যে এখনও কাটেনি তাও এই ঘটনায় পরিষ্কার।
