SIR in Bengal: কমিশনের ডেডলাইন শেষের আগেই ৪ আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নবান্নের, শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর
FIR files against 4 officials: ২ জন ইআরও ও ২ জন এইআরও-র বিরুদ্ধে ভোটার লিস্টে কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। এতে নাম জড়ায় এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরেরও। সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ দেয় কমিশন। কিন্তু, এতদিন কমিশনের নির্দেশ মানা নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ ওঠে নবান্নের বিরুদ্ধে। শেষপর্যন্ত মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে ডেকে কড়া বার্তা দেয় কমিশন।

কলকাতা: রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ডেকে কড়া বার্তা দিয়েছিল জাতীয় কমিশন। সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। সেই ডেডলাইন শেষের আগেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করল রাজ্য সরকার। এই চারজনের মধ্যে ২ জন ইআরও এবং ২ জন এইআরও। শেষপর্যন্ত কমিশনের ‘চাপে’ রাজ্য এফআইআর করার পর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির বক্তব্য, নিয়ম না মানলে এইরকম এফআইআর আরও হবে। অন্যদিকে, তৃণমূলের বক্তব্য, নির্দেশ মানা হলেও কমিশনের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিযোগ থেকে সরে আসছে না তারা।
২ জন ইআরও ও ২ জন এইআরও-র বিরুদ্ধে ভোটার লিস্টে কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। এতে নাম জড়ায় এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরেরও। সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ দেয় কমিশন। কিন্তু, এতদিন কমিশনের নির্দেশ মানা নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ ওঠে নবান্নের বিরুদ্ধে। শেষপর্যন্ত মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে ডেকে কড়া বার্তা দেয় কমিশন। ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই চার সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করল রাজ্য সরকার।
ওই চার আধিকারিকের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভার ইআরও এবং এইআরও রয়েছেন। আর রয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরও। বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরও হিসাবে কাজ করছিলেন দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী এবং তথাগত মণ্ডল। ময়নায় ওই দুই দায়িত্বে ছিলেন বিপ্লব সরকার ও সুদীপ্ত দাস। চার আধিকারিকই ডব্লিউবিসিএস অফিসার।
চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করা নিয়ে তৃণমূলের আইটি সেলের ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে যতটুকু প্রক্রিয়া করার সেটা করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে কমিশনের বিরুদ্ধে আমরা যে অভিযোগ করছি, তা থেকে সরে আসছি। এই ইআরও ও এইআরও-র বিরুদ্ধে কমিশনের খড়্গহস্ত হওয়ার কারণ, কমিশনের পাঠানো বহিরাগত মাইক্রো অবজার্ভারদের কথা শোনেননি। মাইক্রো অবজার্ভাররা সুপারিশ করলেও কিন্তু, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল ইআরও-দের। সুপ্রিম কোর্টও পরে তা বলেছে। কিন্তু, কমিশন তা করতে দিচ্ছিল না। মেরুদণ্ড সোজা রেখে যাঁরা কাজ করছিলেন, তাঁদের উপর খড়্গহস্ত হয়েছে কমিশন। এখন কমিশন মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই মতো পদক্ষেপ করা হয়েছে। তার মানে এটা নয় যে আদর্শগতভাবে এটা আমরা স্বীকার করে নিলাম।”
এদিন নবান্নে কমিশনকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন, “আমরা আইন নিশ্চয় মানব। আইন আইনের পথে চলবে। তুঘলকি কমিশনের যেটুকু আইন মানার প্রয়োজনে সেটা নিশ্চয় মানব। কিন্তু, তার একটা বাউন্ডারি আছে। বাউন্ডারির বাইরে গেলে কিন্তু ছক্কা খেতে হবে।”
চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর নিয়ে বিজেপি মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “গতকালই তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে যেমন সাত জনকে সাসপেন্ড করেছে, তেমন মুখ্যসচিবকে বলা হয়েছিল, যদি ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাতে কাজ হয়েছে। ইআরও এবং এইআরও-দের কাছে স্পষ্ট বার্তা, সাত ও চার মিলে এগারো হল, এটা ১১১ হতে বেশি সময় লাগবে না। এটা ২০০২ সালের মতো এসআইআর হচ্ছে না। এখানে কোন বিএলও, কোন ইআরও, কোন ডিইও কী কাজ করছেন, তার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট রয়ে যাচ্ছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর কোনও গাফিলতি ধরা পড়লে, তাহলে নির্বাচন কমিশন কী করতে পারে, তার হাল্কা ইঙ্গিত দিয়েছে।”
