AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Calcutta High Court: নজিরবিহীন রায় হাইকোর্টের! উচ্চ-শিক্ষিতা মা নন, মাছ ব্যবসায়ী বাবার কাছেই গেল সন্তানের কাস্টডি

Kolkata: সাধারণত শিশু সন্তান থাকলে বিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় মায়ের কাছেই সন্তানের দেখভালের দায়িত্ব আসে। কিন্তু হাইকোর্ট বিপরীত পথে হেঁটে রায় দিল বাবার পক্ষেই। বর্ধমানের বাসিন্দা সজল ও মৌসূমীর (নাম অপরিবর্তিত) বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছিল। সেখানে তাঁদের সন্তানের দায়িত্ব কে পাবেন সেই বিষয়টিও কোর্টে ওঠে।

Calcutta High Court: নজিরবিহীন রায় হাইকোর্টের! উচ্চ-শিক্ষিতা মা নন, মাছ ব্যবসায়ী বাবার কাছেই গেল সন্তানের কাস্টডি
কলকাতা হাইকোর্টImage Credit: Tv9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Feb 17, 2026 | 6:03 PM
Share

কলকাতা: মায়ের অপূর্ণতা শিশুর মনে দাগ কাটে। সেই যুক্তিতেই মূলত শিশুর দায়িত্ব মায়ের কাছে দিয়ে থাকে আদালত। তবে এবার কলকাতা হাইকোর্ট একটি মামলায় নজিরবিহীন রায় দিল। নিম্ন আদালত সংশ্লিষ্ট মামলায় শিশুর দায়িত্ব দিয়েছিল মায়ের কাছে। যুক্তি দেখানো হয়েছিল যে, মায়ের অপূর্ণতা দাগ কাটতে পারে শিশুমনে। তবে সেই রায়কে মানতে নারাজ কলকাতা হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের রায়কে স্থগিত করে বাবাকেই শিশুর দেখভালের দায়িত্ব দিল আদালত। কোর্টের রায়, শিক্ষিকা মা নয়, বরং শিশু সন্তান থাকবে মাছ ব্যবসায়ী বাবার কাছেই।

সাধারণত শিশু সন্তান থাকলে বিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় মায়ের কাছেই সন্তানের দেখভালের দায়িত্ব আসে। কিন্তু হাইকোর্ট বিপরীত পথে হেঁটে রায় দিল বাবার পক্ষেই। বর্ধমানের বাসিন্দা সজল ও মৌসূমীর (নাম অপরিবর্তিত) বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছিল। সেখানে তাঁদের সন্তানের দায়িত্ব কে পাবেন সেই বিষয়টিও কোর্টে ওঠে। এই মামলায় আট বছরের পুত্রসন্তানের দায়িত্ব বাবাকেই দিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি সুপ্রতীম ভট্টাচার্য পেশায় গানের শিক্ষক মাকে দেখা করার সুযোগ দিয়েছেন মাত্র একদিন। একই সঙ্গে মামলাটি মীমাংসা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, বাবা-মায়ের বয়স বড়োজোর তিরিশের কিছু বেশি। তাই এখন ইগোর লড়াই চলছে। একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন-নতুন মামলা আনছেন। ২০২১ সাল থেকেই আলাদা থাকছেন ওই দম্পতি। মায়ের আইনজীবী উদয় শঙ্কর ভট্টাচার্যের অভিযোগ, ছেলের বয়স যখন তিন তখন উচ্চ শিক্ষিতা মা তাঁর বাপের বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু সেখান থেকে শিশু সন্তানকে তাঁর বাড়িতে তুলে নিয়ে যায় তার বাবা।

এরপরই শুরু হয় ছেলেকে ফেরানোর লড়াই। নিম্ন আদালত সন্তানের সঙ্গে কথা বলে জানতে চায় কার সঙ্গ চায় সে। উত্তরে ছোট্ট শিশু জানায় বাবা-মা দুজনকেই চায়। এরপর মা কেই সন্তানের দায়িত্ব দেয় আদালত। সেই সময় নিম্ন আদালতের যুক্তি ছিল, সন্তানের মা উচ্চ শিক্ষিতা। তাই সেখানে সন্তানের ভবিষ্যৎ ভালো। শিশু মনের উপর দাগ পড়ে মা না থাকলে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বাবা আসেন হাইকোর্টে।

এরপর নিম্ন আদালতের এই পর্যবেক্ষণ খারিজ হাইকোর্টে। কোর্টের যুক্তি, শিশুর পড়াশোনার জন্য গৃহ শিক্ষক আছেন। গত পাঁচ বছর বাবার সঙ্গে সাধারণ জীবন যাপন করছে শিশুটি। তাই আবেগ নয়, বাস্তবতা নিম্ন আদালতের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মেলে না।

এদিন হাইকোর্টের রায়ে আপাতত মা শনিবার বিকেলে ছেলেকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন। রবিবার সন্ধ্যে সাতটায় বাবার বাড়িতেই ফেরাতে হবে ছেলেকে। অন্যথা হলে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে মায়ের বিরুদ্ধে। অবশ্য মানবিক হয়ে আদালতের পরামর্শ হাইকোর্টের মীমাংসা কমিটির মাধ্যমে তারা যদি আবার এক সঙ্গে থাকেন সেটা বিচার করা যাবে।