ফ্যাটি লিভার এখন ঘরে ঘরে! কোন খাবার খেলে কমবে বিপদ?
চিকিৎসকদের মতে, ফ্যাটি লিভার মূলত জীবনযাত্রাজনিত সমস্যা। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয়, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ, ওবেসিটি, ডায়াবেটিস সব মিলিয়ে লিভারের কোষে ফ্যাট জমতে শুরু করে। প্রথম দিকে কোনও লক্ষণ থাকে না। কিন্তু সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে তা লিভারের প্রদাহ, ফাইব্রোসিস এমনকি সিরোসিসও হতে পারে। তবে গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শরীরের মোট ওজনের মাত্র ৭-১০ শতাংশ কমাতে পারলে লিভারের চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। অর্থাৎ সঠিক ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়ামই বড় হাতিয়ার।

লিভার আমাদের শরীরের ‘সাইলেন্ট ওয়ার্কার’। দিনরাত কাজ করে যায়, কিন্তু ভীষণ ভাবে বিগড়ে না যাওয়া পর্যন্ত জানতেই দেয় না যে কিছু সমস্যা হয়ে আছে। আর সেই লিভারকেই এখন গ্রাস করছে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বিষয়টা আর একেবারেই হালকা করে দেখলে হবে না।
Indian Council of Medical Research-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে ভুগছেন। অর্থাৎ মদ্যপান না করলেও লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমছে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা পত্রিকা The Lancet-এও দক্ষিণ এশিয়ায় এই রোগের দ্রুত বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ফ্যাটি লিভার মূলত জীবন যাত্রাজনিত সমস্যা। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয়, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ, ওবেসিটি, ডায়াবেটিস সব মিলিয়ে লিভারের কোষে ফ্যাট জমতে শুরু করে। প্রথম দিকে কোনও লক্ষণ থাকে না। কিন্তু সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে তা লিভারের প্রদাহ, ফাইব্রোসিস এমনকি সিরোসিসও হতে পারে। তবে গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শরীরের মোট ওজনের মাত্র ৭-১০ শতাংশ কমাতে পারলে লিভারের চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। অর্থাৎ সঠিক ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়ামই বড় হাতিয়ার।
কোন ৫ খাবার রাখবেন রোজের তালিকায়?
সবুজ শাকসবজি– পালং, মেথি, ব্রকোলির মতো সবজি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এগুলো লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তাই খাদ্যতালিকায় এই সবজি রাখতে ভুলবেন না।
গ্রীন টি– এতে ক্যাটেচিন থাকে যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। নিয়মিত গ্রিন টি লিভারের জন্য উপকারী।
রসুন– কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রসুন লিভারের ফ্যাটের মাত্রা কমাতে সহায়ক। এতে থাকা সালফার যৌগ বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখে।
বাদাম– আখরোট ও কাঠবাদামের মতো বাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। এগুলো লিভারের জন্য ভালো।
হলুদ ও গোলমরিচ- হলুদের কারকিউমিন প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। গোলমরিচের সঙ্গে খেলে উপকার বেশি।
এর পাশাপাশি চিনিযুক্ত পানীয়, অতিরিক্ত ভাজাভুজি ও ট্রান্স ফ্যাট যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটা এবং মাঝারি ব্যায়ামও জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
