Lionel Messi: ছিল স্পেনের জার্সি পরার সুযোগ, তবুও কেন আর্জেন্টিনাকেই বেছে নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি?
Barcelona: আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা পেলেও স্পেন বরাবরই মেসির হৃদয়ে আছে। স্পেনের নাগরিকত্বও রয়েছে মেসির। বার্সেলোনার জার্সিতে একাধিক ট্রফি, ব্যালন ডি অর - সব পেয়েছেন তিনি। তবে সব ঠিক থাকলে ২০০৪ সালের দিকেই মেসির অভিষেক হয়ে যেত স্পেনের জাতীয় দলে।

আমেরিকা : আন্তর্জাতিক ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি আজ বিশ্বকাপ ফাইনালে নামছেন স্পেনের বিরুদ্ধে। একদিকে, তাঁর সামনে সুযোগ পরপর দুই বিশ্বকাপ জয় করার। অন্যদিকে, পরপর বিশ্বকাপ, গোল্ডেন বুট পাওয়ারও সমূহ সম্ভাবনা আর্জেন্টিনার সামনে। তবে সব ঠিক থাকলে আজ আর্জেন্টিনা নয়, স্পেনের জার্সি গায়ে খেলতেন মেসি। খেলেন না, তার পিছনে রয়েছে কিছু কারণ।
একথা সবাই জানে, কিভাবে মেসি রোসারিও থেকে বার্সেলোনাতে এসেছিলেন। মেসির খেলা দেখে বার্সেলোনার তৎকালীন ডিরেক্টর কার্লোস রেক্সাচ রীতিমতো একটি ন্যাপকিনে মেসিকে চুক্তি সই করিয়েছিলেন, যে গল্প আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এরপরেই বার্সেলোনায় আসেন লিওনেল। বার্সার অ্যাকাডেমি লা মাসিয়া-তে প্রশিক্ষণ শুরু হয় তাঁর। শরীরে গ্রোথ হরমোন ডেফিসিয়েন্সি-র মতো কঠিন রোগ থাকলেও ধীরে ধীরে সেই রোগকে জয় করেন তিনি।
তবে সব ঠিক থাকলে ২০০৪ সালের দিকেই মেসির অভিষেক হয়ে যেত স্পেনের জাতীয় দলে। স্প্যানিশ ফেডারেশন বার্সেলোনা থেকেই নজর রেখেছিল মেসির উপর। এমনকি, তিনি স্পেনের নাগরিকত্ব ও জার্সি – দুইই পাবার প্রবল দাবিদার ছিলেন। তাঁকে স্পেনের হয়ে খেলার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।
মেসির ইচ্ছে ছিল আর্জেন্টিনার হয়েই খেলা। তিনি চাইছিলেন তাঁর মাতৃভূমির হয়ে খেলতে। এমনকি খেলার অংশ আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনকে পাঠানো হলেও অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের আগে মেসিকে দলে নেননি তৎকালীন আর্জেন্টাইন কোচ। যদিও, সেই বছর স্পেনের কাছে হারতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। এর পরে অবশেষে তাঁর অভিষেক করানোর জন্য ২০০৪ সালে একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করে আর্জেন্টিনা। এরপরের বছর অর্থাৎ ২০০৫ সালে অনুর্ধ্ব ২০ দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেন মেসি। চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। মেসি পান গোল্ডেন বল। সেই বছরেরই সিনিয়র দলে খেলার সুযোগ পান তিনি।
আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা পেলেও স্পেন বরাবরই মেসির হৃদয়ে আছে। স্পেনের নাগরিকত্বও রয়েছে মেসির। বার্সেলোনার জার্সিতে একাধিক ট্রফি, ব্যালন ডি অর – সব পেয়েছেন তিনি। তবে তিনি স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের প্রস্তাব অস্বীকার না করলে একদিকে যেমন ২০১০ সালেই তাঁর সামনে সুযোগ ছিল বিশ্বকাপ পাওয়ার, তেমনই এই বিশ্বকাপে তাঁর সঙ্গেই এক ড্রেসিংরুম ভাগ করে নিতেন ১৯ বছরের লামিন ইয়ামালও। কিন্তু ভাগ্য তো বরাবর আলাদা স্ক্রিপ্ট লিখে রেখেছে। আর তাই মারাদোনার পর আর্জেন্টিনা পেয়েছে তাদের স্বপ্নের নায়ককে, যাঁর নাম লিওনেল মেসি। যাঁর মাথায় বিশ্বসেরার মুকুট ওঠা দেখার জন্য অপেক্ষারত গোটা ফুটবলবিশ্ব।
