Keyaa Banerji: বিশ্বকাপে 140 কেজি ওজন তুলে ভারতকে রুপো উপহার, তবুও কদর্য মিমের শিকার বাংলার মেয়ে কেয়া!
Social Media Meme: ২১ বছর বয়সী এই অ্যাথলিটকে নিয়ে রীতিমতো সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে হেনস্থা, পরিচয় চুরি (ইম্পার্সোনেসন), এআই দিয়ে মর্ফ করা ছবি - কিছুই যেন বাদ যাচ্ছে না। একের পর এক ছবিতে চেয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। যাঁরা এগুলো বানাচ্ছেন, তাঁরা যেমন জানেন না কেন ট্রোল করছেন, তেমনই কেয়া নিজেও হয়তো বুঝতে পারছেন না, কেন তাঁকে নিয়ে এরকম সীমাহীন ট্রোল করা হচ্ছে।

কলকাতা : সাফল্যের পর প্রশংসা তো সবাই পায়। কেউ পরীক্ষাতে ভাল ফল করলে, কেউ সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ভাল ফল করলেই প্রশংসা অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু সাফল্যের পর প্রশংসার বদলে যদি কারও দিকে ধেয়ে আসে ট্রোলিং, বুলিং ও মর্ফড ছবির মতো ক্ষতিকর বাণ? সেটা কি প্রতিযোগীর মননে একটা গভীর ছাপ ফেলে যায় না? এটা তো হওয়ার কথা ছিল না কেয়া ব্যানার্জীর সঙ্গে। কিন্তু হল, যার ক্রেডিট দিতেই হবে সোশ্যাল মিডিয়ার আলফা মেলদের। যাঁরা কোনও কারণ ছাড়াই যেকোনও কাউকে সীমাহীন ট্রোলিং করা শুরু করে দেন।
২০২৬ আইপিএফ বিশ্ব সাব-জুনিয়র ক্লাসিক পাওয়ারলিফটিংয়ে ৪৭ কেজি বিভাগে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেছেন কেয়া ব্যানার্জী। ডেডলিফটে ১৪০ কেজি ওজন তুলে ভারতের হয়ে রুপো জিতেছেন তিনি। কিন্তু এই অভাবনীয় সাফল্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ার এক অন্ধকার দিকের সঙ্গে পরিচিতি ঘটেছে কেয়ার। ২১ বছর বয়সী এই অ্যাথলিটকে নিয়ে রীতিমতো সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে যৌন হেনস্থা, পরিচয় চুরি (ইম্পার্সোনেসন), এআই দিয়ে মর্ফ করা ছবি – কিছুই যেন বাদ যাচ্ছে না। একের পর এক ছবিতে চেয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। যাঁরা এগুলো বানাচ্ছেন, তাঁরা যেমন জানেন না কেন ট্রোল করছেন, তেমনই কেয়া নিজেও হয়তো বুঝতে পারছেন না, কেন তাঁকে নিয়ে এরকম সীমাহীন ট্রোল করা হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে কেয়া বলেছেন, “সম্প্রতি ভারতের হয়ে আইপিএফ জুনিয়র বিশ্বকাপে আমি ডেডলিফটে রুপোর পদক জিতেছি। এই সাফল্যের জন্য পাওয়া সমর্থন ও প্রশংসার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ হলেও, একজন ভারতীয় মহিলা অ্যাথলিট হিসেবে কিছু জঘন্য বিষয় ঘটেছে আমার সঙ্গে।” তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়াতে তাঁর ভুয়ো অ্যাকাউন্ট বানিয়ে রীতিমতো বডিশেমিং করা হচ্ছে কেয়াকে। এর পাশাপাশি যোগ হয়েছে এডিটেড মর্ফ করা ছবি, যা চূড়ান্ত লজ্জাজনক। এই ঘটনা নিয়ে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে পড়ে কেয়া বলেছেন, “সবচেয়ে খারাপ দিক হল এআই দিয়ে বানানো ছবি, যেখানে আমার মুখ ও শরীরকে খুব খারাপভাবে এডিট করা হয়েছে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের ও নিজের পরিচিতদের ফিডে যদি এই ধরণের ছবি আসে, সেগুলো অত্যন্ত ভয় ধরানো ও মানসিক যন্ত্রনাদায়ক।”
তিনি এও জানিয়েছেন, “আমি আসলে খুব ইন্ট্রোভার্ট একজন মানুষ। কেউ যদি আমাকে চেনেন বা জানেন, তাঁরা জানাবেন আমি কখনও নিজের ছবি পোস্ট করতাম না। আমি অ্যাকাউন্টটি পাবলিক করতে চাইনি, কিন্তু আমার নিজের পাশে নিজে দাঁড়াতে এটা করা ছাড়া আর কোনও বিকল্প ছিল না। নিজেকে এভাবে দেখতে আমি একদমই পছন্দ করিনি। সত্যি বলতে, আমার সম্মতি ছাড়া এভাবে ভেসে আসা পোস্টগুলোতে আমি খুব বিরক্ত।”
আসলে, কেয়াকে নিয়ে এই পোস্টগুলি একদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার এমন একটা দিককে আবার প্রকাশ্যে আনল, যা বারবার প্রশ্ন তোলে, কেন এই ট্রোলিং? কেন সবকিছুতে মজা/কদর্য মিম বানাতেই হবে? কেন কোনও কিছু সঠিক ভাবে নেওয়া যায় না? যেখানে সহজলভ্য ইন্টারনেটের যুগে কদর্য মিমে দন্তবিকশিত না করলেই জেন জিদের ভাষায় ‘নর্মি’ হয়ে যেতে হয়, সেখানে এগুলোই দস্তুর? কিন্তু এর ফলে যাঁকে নিয়ে ট্রোলিং হচ্ছে, তার মানসিক অবস্থাটা যে কী হয়, মহামান্য ট্রোলার কি তাঁর মনের খবর নেন?
