AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

ভারতে আছে ‘অন্য ভারত’! বিশ্বকাপে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয়দের সংখ্যাটা জানেন?

যাঁদের স্বপ্ন ছিল একদিন ভারতের হয়ে খেলার, তাঁরা অনেকেরই আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলছেন। ২০টি অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে, ভারতীয় ক্রিকেটারের সংখ্যা কানাডায় ১১ জন। যুক্তরাষ্ট্রে ৯ জন, ওমান ও সংযুক্ত আরবে ৭ জন করে। এই পরিসংখ্যানই বলছে, বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতীয় ক্রিকেটারদের প্রভাব ঠিক কতটা বিস্তৃত।

ভারতে আছে 'অন্য ভারত'! বিশ্বকাপে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয়দের সংখ্যাটা জানেন?
Image Credit: Twitter
| Edited By: | Updated on: Feb 03, 2026 | 3:13 PM
Share

কলকাতা: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মানেই শুধু কি চার-ছয়ের অবিরাম কাহিনি? না, তার বাইরেও থাকে অনেক কিছু। ফিরে আসা, লড়াই আর আবেগের গল্প পরতে পরতে। সে দিক থেকে দেখলে এ বারের বিশ্বকাপের সেই রঙ একটু হলেও অন্য রকম। ভারত তো আছেই। বিশ্বকাপে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে আরও অনেক ভারতীয়। ভারতের নীল জার্সি না গায়ে জড়িয়েও বিশ্বের নানা দেশের হয়ে মাঠে নামবেন তাঁরা। সেই সংখ্যাটা কিন্তু কম নয়। প্রায় ৪০ ভারতীয় বংশোদূত ক্রিকেটারকে দেখা যাবে বিভিন্ন দেশের হয়ে খেলতে। যাঁদের স্বপ্ন ছিল একদিন ভারতের হয়ে খেলার। তাঁরাই আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের আলাদা পরিচতি গড়ে তুলছেন। ২০টি অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেটারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কানাডা দলে। নয় নয় করে ১১ জন। অর্থাৎ, কানাডা নামেই অন্য দেশ। আর একটা ভারতীয় একাদশ দাঁড় করিয়ে দিতে পারে তারা!

এতেই শেষ নয়, আরও দেশগুলোর দলে রয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। আমেরিকার দলে ৯ জন ভারতীয়। ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ৭ জন করে ভারতীয়। এই পরিসংখ্যানই বলছে, বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতীয় ক্রিকেটারদের প্রভাব ঠিক কতটা বিস্তৃত।

আমেরিকার নেতৃত্বে রয়েছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার মোনাঙ্ক প্যাটেল। একসময় গুজরাট অনূর্ধ্ব ১৯ দলে ভারতে সুযোগ না পেয়ে পরিবারের সঙ্গে পাড়ি দেন আমেরিকায়। সেখানেই তাঁর ক্রিকেটের পুনর্জন্ম। মোনাঙ্ক বলেন, “আমাদের দলের অনেকেই ভারতে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছে। তাই ভারতের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলাটা আলাদা অনুভূতির।” ২০১৯ সালে অভিষেকের পর থেকেই মার্কিন ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন তিনি। প্রথম বার বিশ্বকাপে পা রাখতে চলেছে ইতালি। আর সেই দলের অন্যতম মুখ জসপ্রীত সিং। ছেলেবেলায় ইতালিতে পাড়ি দিলেও ভারতের স্মৃতি আজও তাঁকে আবেগতাড়িত করে। তিনি বলেছেন, “বিশ্বকাপে খেলাটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বিশেষ করে যখন এই বিশ্বকাপ ভারতে, তখন বাড়তি আবেগ তো থাকবেই। এখান থেকে আমার ক্রিকেটের যাত্রা শুরু।”

অনেক প্রবাসী ক্রিকেটার এখনও পেশাদার নন। যুক্তরাষ্ট্রের সৌরভ নেত্রাভালকর তার বড় উদাহরণ। অন্য় পেশায় যুক্ত এই বাঁ-হাতি পেসার চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে ক্রিকেট খেলেন। গত বিশ্বকাপে তিনি রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছেন। তাঁর কথায়, “আমি ভাগ্যবান যে দুটো ভালোবাসাকেই একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারছি।” ওমান দলের কোচ, প্রাক্তন মুম্বই ক্রিকেটার সুলক্ষণ কুলকার্নির মতে, “ভারতে সুযোগ পাওয়া সহজ নয়। এ কারণেই খেলোয়াড়রা বিদেশে সম্ভাবনা খোঁজে।” এই গল্পগুলো ভারতীয় ক্রিকেটের যেমন স্বপ্নভাঙ্গের কথা বলে, তেমনই স্বপ্ন গড়ারও অনন্য অনুপ্রেরণা দেয়। এ বারের বিশ্বকাপ তাই শুধু ম্যাচের নয়, প্রবাসীদের স্বপ্নেরও মঞ্চ।