Vaibhav Suryavanshi: দিনে আয় ২ কোটি, বিপাকে পড়তে পারে বৈভবের কেরিয়ার? কী মত বিশেষজ্ঞদের?
Cricketers Brand : ভারতে নাবালক ক্রীড়াবিদদের বানিজ্যিক স্বত্বরক্ষার জন্য আমেরিকার NIL - এর মতো কোনও সুনির্দিষ্ট আইন নেই। তাই এখন বৈভব নিজে কোনও চুক্তিতে সই করতে পারেন না। তাঁর অভিভাবকের সম্মতিতেই সব হচ্ছে। তাঁর আইনি দিক দেখেন তাঁর অভিভাবক এবং রাজস্থান রয়্যালসের বাণিজ্যিক উপদেষ্টার দল।

কলকাতা : মাত্র ২ বছর, তার মধ্যেই গোটা দেশের কাছে তরুণ প্রজন্মের নয়া মুখ হয়ে উঠেছেন বিহারের ১৫ বছরের ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। ২০২৬ আইপিএল মরশুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন বৈভব। একইসঙ্গে আইপিএলের কমলা টুপি জিতেছেন তিনি। তবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করার পর কেবল মাঠেই নয়, বিজ্ঞাপন জগতেও তাঁর চাহিদা এখন আকাশছোঁয়া। কিন্তু এখানেই একটা প্রশ্ন। এই বিজ্ঞাপন, টাকা – ঐশ্বর্যের এই দুনিয়াতে এসে বৈভবের ক্রিকেট স্কিল হারিয়ে যাবে না তো?
প্রতি দিন আয় প্রায় ২ কোটি টাকা –
বিজ্ঞাপন জগতের বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈভব বর্তমানে এক দিনের ব্র্যান্ডিং বা কোনও শ্যুটিং-এর জন্য প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা নিচ্ছেন। এই মূল্য বর্তমানে শুভমন গিল বা ঋষভ পন্থের সমতুল্য। তবে বৈভবের দিনে দিনে যা খ্যাতি বাড়ছে, এই টাকার অঙ্কটা খুব শীঘ্রই ৩-৪ কোটি টাকা ছুঁতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ, এখনই বৈভবের সম্ভাবনাময় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং জনপ্রিয়তার উপর ভিত্তি করে ব্র্যান্ডগুলো তাঁর পিছনে টাকা ঢালছে। এই বয়সে এত টাকা ও এত খ্যাতি কিন্তু সচিন তেন্ডুলকরও পাননি, যা পাচ্ছেন বৈভব।
আইনি দিক –
ভারতে নাবালক ক্রীড়াবিদদের বানিজ্যিক স্বত্বরক্ষার জন্য আমেরিকার NIL – এর মতো কোনও সুনির্দিষ্ট আইন নেই। তাই এখন বৈভব নিজে কোনও চুক্তিতে সই করতে পারেন না। তাঁর অভিভাবকের সম্মতিতেই সব হচ্ছে। তাঁর আইনি দিক দেখেন তাঁর অভিভাবক এবং রাজস্থান রয়্যালসের বাণিজ্যিক উপদেষ্টার দল। এখন না বৈভব পারেন ভোট দিতে, না গাড়ি চালাতে। পুরস্কার হিসেবে দামি গাড়ি উপহার পেলেও এখনও আইনত সেগুলো চালাতে পারেন না তিনি। কিন্তু কোনও ব্র্যান্ডের সঙ্গে যদি তাঁর দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা থাকে, তাহলে ১৮ বছর বয়সের পর কী হবে? তখন যদি তিনি চুক্তিতে কোনও বদল আনতে চান, তাহলে কী কোম্পানিগুলো কোনও আইনি জট পাকাবে? এবং বিহারের একটি সাধারণ পরিবার এই বাণিজ্যিক চুক্তির মারপ্যাঁচ নিয়ে কতটা বুঝতে পারবেন, তা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা।
২০২৫ সালে আইপিএলের গ্ল্যামার দুনিয়াতে পা রাখেন বৈভব। সেই বছর ১৪ বছরের বৈভবকে ১.১ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছিল রাজস্থান। এই বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালেও বেশ ভাল পারফর্ম করেছে বৈভব। ইতিমধ্যেই একটি সেঞ্চুরিও এসেছে এই সিজনে। তবে মাত্র ২ বছরের মধ্যেই কারও ব্র্যান্ড ভ্যালু গড়ে ওঠে কী? কারণ অনেকে আছেন, যাঁরা বহুদিন ধরে খেলে নিজেদের পায়ের নিচে একটা শক্ত জমি তৈরি করেছেন। তারপর তাঁরা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছেন নানা ব্র্যান্ডের সঙ্গে। মাস কয়েক আগে, কমপ্ল্যানের মতো একটি বিখ্যাত ব্র্যান্ড তাঁকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিয়েবে নিযুক্ত করেছিল। কোটি টাকার চুক্তি করলেও এই মুহূর্তে বৈভবের হাতে কোনও স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি নেই। বৈভব যদি আগামীতে রাজস্থান রয়্যালস ছেড়ে দেন, তাহলে ফ্র্যাঞ্চাইজি আদৌ কি তাঁর হয়ে কাজ করবে? ভবিষ্যতে কোনও আইনি জটিলতা তৈরি হলে তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে।
