AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Ration Card: লিঙ্ক হয়নি আধার, রেশনের খাতায় জীবিতরাও আজ ‘মৃত’!

Bankura: শহরের একটি রেশন দোকানেই এমন গ্রাহকের সংখ্যা পঞ্চাশ।

Ration Card: লিঙ্ক হয়নি আধার, রেশনের খাতায় জীবিতরাও আজ 'মৃত'!
আরতী বাগদি (নিজস্ব ছবি)
| Edited By: | Updated on: Jan 07, 2022 | 1:22 PM
Share

বাঁকুড়া: জলজ্যান্ত বেঁচে রয়েছেন ওঁরা। দিব্যি হেঁটে চলে বেড়াচ্ছেন। হাতে রয়েছে বৈধ ডিজিটাল রেশন কার্ডও (Ration Card)। কিন্তু কারোর নাম বাদ পড়েছে গ্রাহক তালিকা থেকে। কোনও কোনও গ্রাহকের আবার রেশন কার্ড (Ration Card) ব্লক (Block)করা রয়েছে। ফলে রেশন দোকানে গিয়ে খালি ব্যাগ নিয়েই ফিরতে হচ্ছে অনেককে।

ঘটনাস্থান বাঁকুড়া। শহরের একটি রেশন দোকানেই এমন গ্রাহকের সংখ্যা পঞ্চাশ। এদিকে রেশন ডিলারের দাবি পরিবারের মৃত ব্যক্তির নাম বাদ দিতে গিয়ে ভূল করে জীবিত ব্যক্তির রেশন কার্ড (Ration Card) ব্লক করে ফেলেছে খাদ্য সরবরাহ দফতর। যদিও, অভিযোগ মানতে নারাজ খাদ্য সরবরাহ দফতর। তাদের দাবি গ্রাহক রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ডের সংযোগ না থাকায় এমন সমস্যা হয়েছে।

আরতি বাগদী। বয়স সত্তর ছুঁয়েছে। কিন্তু পেট মানে না বয়সের ভার। অগত্যা অশক্ত শরীরেই সকাল হলেই বেরতে হয় শহরের রাস্তায়-রাস্তায়। বাঁকুড়া শহরের বিভিন্ন পাড়ায় ঘুরে ঘুরে অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে যে সামান্য খাবার জোটে দুপুর কাটে তা দিয়েই। রাতের খাবার কোনওদিন জোটে আবার কোনওদিন জোটে না। বিবেকের টানে মাঝেমধ্যে নিজের মুখের গ্রাস তুলে দেন পাশের বাড়িতে থাকা মৃত নাতির ছোট ছোট অনাথ ছেলেমেয়েগুলোর অভূক্ত মুখে।

রেশনের সামান্য চাল, গম অভাবের সংসারে ছিল একটু বাড়তি অক্সিজেন। কিন্তু এমাস থেকে তাও বন্ধ। রেশন দোকানে গিয়ে ফিরতে হয়েছে খালি ব্যাগ হাতে। স্থানীয় রেশন ডিলার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন রেশন দোকানের গ্রাহক তালিকায় আরতী দেবীর নামে পড়েছে লাল কালীর দাগ। এই অবস্থায় রেশন দেওয়া সম্ভব নয়। সত্তর পেরোনো আরতী দেবীর অভাবের সংসারে যে রেশন কয়েকটা দিনের খাবার জোটাতো সেই রেশন আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন তাঁর কাছে শুধুই সম্বল চোখের জল।

এই গল্প একা শুধু বাঁকুড়ার নয়। প্রায় প্রতিটি জেলা থেকে উঠে এসেছে এমন ছবি। সম্প্রতি নদিয়ার শান্তিপুর থানার ফুলিয়া প্রফুল্ল এলাকা থেকেও জানা গিয়েছে একই গল্প। সেখানকার বাসিন্দা কৌশিক সরকার এবং মা রঞ্জিতা সরকার। কিছুদিন আগে তাঁরা রেশনের দ্রব্য আনতে ডিলারের কাছে যান। কিন্তু রেশন ডিলার জানায় রেশন কার্ডে তাঁরা দু’জনই মৃত। শুনেই আকাশ থেকে পড়েন তাঁরা। জীবিত থাকতেই কীভাবে মৃত হয়ে গেলেন বুঝতেই পারছেন না ওঁরা। পরে টিভি ৯ বাংলা সেই খবর সম্প্রচার করার পর সমস্যার সুরাহা হয়। সরকারি রেশন খাতায় ফের তারা জীবিত হওয়ার স্বীকৃতি পান।

আরও পড়ুন: Terrorist Killed in Kashmir: কাশ্মীরে বাহিনীর সাফল্য, বুদগ্রামে খতম ৩ জঙ্গি

Follow Us